ট্রাম্পের ‘হরমুজ নিয়ন্ত্রণ’ দাবি খারিজ করল ইরান
হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ৪৮ ঘণ্টার আলটিমেটাম মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতিকে আরও উত্তেজনার দিকে ঠেলে দিয়েছে। আলটিমেটামের জবাবে ইরান জানিয়েছে, তারা পিছু হটবে না, বরং উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থসংশ্লিষ্ট জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলা চালাবে।
কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ করে রাখা বা এর নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে রাখাই এখন যুদ্ধে দরকষাকষির প্রধান হাতিয়ার।
ইরান স্পষ্ট করেছে, যারা তাদের শত্রু নয় তাদের জাহাজ হরমুজ দিয়ে নিরাপদে যাতায়াত করতে পারবে। ইরানের সাধারণ মানুষও মনে করছে, তাদের সামনে এই একটি পথই খোলা আছে। এটি ছাড়া তাদের হাতে আর তেমন কিছু নেই।
আলটিমেটাম না মানলে ইরানের বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোতে হামলা চালানোর হুমকি দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প, যা ইরানের জন্য বিপর্যয়কর হতে পারে। কিন্তু ইতিহাস বলছে, কয়েক দশক ধরে পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা এবং অভ্যন্তরীণ বিদ্রোহের মুখেও ইরান তার ‘বিপ্লবী মূল্যবোধ’ ও শাসন ব্যবস্থা টিকিয়ে রাখতে সক্ষম হয়েছে। এমনকি চলতি বছরের জানুয়ারিতে দেশব্যাপী বিক্ষোভে হাজার হাজার মানুষ নিহত হওয়ার পরও সরকার কঠোর অবস্থানে রয়েছে।
গত সপ্তাহে সরকারবিরোধী বিক্ষোভের দায়ে তিনজনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর ইরান সরকার। মানবাধিকার সংস্থাগুলোর দাবি, নির্যাতন করে তাদের কাছ থেকে স্বীকারোক্তি নেওয়া হয়েছে, বিচার প্রক্রিয়াও স্বচ্ছ ছিল না।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি দাবি করেছেন, অনেক দেশ সংকটের সমাধান খুঁজতে ইরানের সঙ্গে যোগাযোগ করছে। এর মধ্যে ওমান কূটনৈতিক আলোচনার বিষয়ে বেশি সোচ্চার। তবে উপসাগরীয় অনেক দেশ, যেমন ইউএই ও সৌদি আরব এখনও দোটানায় রয়েছে। তারা ইরানের আক্রমণাত্মক অবস্থানকে নিজেদের অস্তিত্বের প্রতি হুমকি হিসেবে দেখছে।
ইরান কি শেষ পর্যন্ত ট্রাম্পের ৪৮ ঘণ্টার আলটিমেটামকে 'ফাঁকা আওয়াজ' মনে করে উপেক্ষা করবে? নাকি যুক্তরাষ্ট্র সত্যিই ইরানের বিদ্যুৎ গ্রিডে হামলা চালিয়ে যুদ্ধকে এক ভয়াবহ রূপ দেবে? কয়েক ঘণ্টার মধ্যে সেটিই নির্ধারণ হতে যাচ্ছে।
সূত্র: বিবিসি
আপনার মতামত লিখুন