প্রবাসীর ২০ লাখ টাকা নিয়ে পরকীয়া প্রেমিকের হাত ধরে স্ত্রী উধাও: নিখোঁজ ৮ বছরের শিশু
ছবি: সংগৃহীত
সংসারের সচ্ছলতা ফেরাতে মালয়েশিয়ায় দিনরাত হাড়ভাঙা খাটুনি খেটেছিলেন কামরুল ইসলাম। লক্ষ্য ছিল একটাই—স্ত্রী আর সন্তানের মুখে হাসি ফোটানো। কিন্তু সেই স্বপ্ন এখন দুঃস্বপ্নে পরিণত হয়েছে। যশোরের শার্শা উপজেলার পাঁচভূলাট গ্রামে এক প্রবাসীর ঘাম ঝরানো প্রায় ২০ লক্ষ টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার নিয়ে প্রতিবেশী এক যুবকের সাথে পালিয়ে গেছেন তার স্ত্রী। তবে টাকার চেয়েও বড় হয়ে দাঁড়িয়েছে ৮ বছরের শিশু সন্তান তাসকিনের নিখোঁজ সংবাদ। গত ১৫ দিন ধরে শিশুটির কোনো খোঁজ না মেলায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ১০ বছর আগে সাতক্ষীরার তুজলপুর গ্রামের কামরুল ইসলামের সাথে বিয়ে হয় শার্শার কাকলি খাতুনের। দাম্পত্য জীবনে অশান্তি থাকলেও সন্তানের ভবিষ্যতের কথা ভেবে সব সহ্য করেছিলেন কামরুল। এমনকি স্ত্রীর আবদারে নিজের পৈতৃক জমি বিক্রি করে শার্শায় কাকলির নামে জমিও কিনে দেন তিনি। গত চার বছর ধরে মালয়েশিয়ায় অবস্থানকালে প্রতি মাসে উপার্জিত আয়ের সিংহভাগ (প্রায় ৫০-৬০ হাজার টাকা) স্ত্রীর কাছে পাঠাতেন তিনি।
অভিযোগ উঠেছে, কামরুলের সরলতার সুযোগ নিয়ে স্ত্রী কাকলি খাতুন প্রতিবেশী যুবক আশরাফুলের সাথে পরকীয়া প্রেমে জড়িয়ে পড়েন। গত ৪ এপ্রিল জমানো প্রায় ২০ লক্ষ টাকা ও গয়না নিয়ে আশরাফুলের হাত ধরে অজানার উদ্দেশ্যে পাড়ি জমান কাকলি।
পালিয়ে যাওয়ার আগে কামরুলকে মোবাইল ফোনে সন্তানকে হত্যার হুমকি দিয়েছিলেন কাকলি। এরপর থেকেই ৮ বছরের শিশু তাসকিন হোসেন নিখোঁজ। প্রবাসে বসে কামরুলের আহাজারি থামছেই না। তিনি বলেন,"টাকা গেছে যাক, আমি আমার কলিজার টুকরা সন্তানকে ফেরত চাই। ও কোথায় আছে, কী খাচ্ছে—কেউ আমাকে বলতে পারছে না।"
এই ন্যাক্কারজনক ঘটনায় খোদ কাকলির মা লতা খাতুন মেয়ের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। তিনি জানান, মেয়ের এহেন কর্মকাণ্ডে তিনি লজ্জিত এবং তিনিও জানেন না কাকলি কোথায়। অন্যদিকে, অভিযুক্ত আশরাফুলের মা-ও এই সম্পর্ক মেনে নেবেন না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন।
ঘটনার ১৫ দিন পার হলেও শিশু তাসকিন বা অভিযুক্ত যুগলের কোনো হদিস মেলেনি। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়ভাবে ও প্রশাসনের মাধ্যমে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও বর্তমানে তারা আত্মগোপনে রয়েছেন। একজন নিঃস্ব প্রবাসীর হাহাকার আর নিখোঁজ শিশুর ভাগ্য এখন শার্শার মানুষের মুখে মুখে।
মেহেদী হাসান রিপন
আপনার মতামত লিখুন