বহিরাগত কর্তৃক ইবি শিক্ষার্থীর ওপর হামলা ও সিটি কলেজে সংঘর্ষের প্রতিবাদে বৈছাআ’র নিন্দা
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) চারুকলা বিভাগের (২০২২-২৩) শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী তরুণ বিশ্বাসের ওপর বহিরাগতদের হামলা এবং চট্টগ্রাম সিটি কলেজে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের মধ্যকার সংঘর্ষের ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা।
বুধবার (২২ এপ্রিল) সংগঠনটির মুখপাত্র সাদীয়া মাহমুদ মীম স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এই প্রতিবাদ জানানো হয়।
বিবৃতিতে বলা হয়, গতকাল বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী তরুণ বিশ্বাস বহিরাগতদের দ্বারা হামলার শিকার হয়েছেন। এই ঘটনাকে ন্যক্কারজনক উল্লেখ করে নেতৃবৃন্দ বলেন, "এ ধরনের হামলা ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে আমাদের গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। আমরা অবিলম্বে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।" একইসাথে ক্যাম্পাসে নিরাপত্তা জোরদার করে শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান তারা।
এদিকে চট্টগ্রাম সিটি কলেজে সাম্প্রতিক ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের সংঘর্ষের ঘটনাকে কেন্দ্র করে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সংগঠনটি। বিবৃতিতে বলা হয়, "শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান যেখানে জ্ঞানচর্চা ও সহনশীলতার জায়গা, সেখানে সহিংসতা ও মারামারির ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক ও অগ্রহণযোগ্য। শিক্ষাঙ্গন কখনোই রাজনৈতিক সহিংসতার মঞ্চ হতে পারে না।"
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতৃবৃন্দ মনে করেন, ভিন্নমত অবশ্যই যুক্তি ও গণতান্ত্রিক চর্চার মাধ্যমে প্রকাশ করতে হবে। সহিংসতা শিক্ষার্থীদের মধ্যে ভয় ও অনিশ্চয়তা তৈরি করে।
"উল্লেখিত ঘটনাগুলোতে দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে হবে। দেশের সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে স্থায়ীভাবে নিরাপদ ও সহনশীল শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।"
পরিশেষে, বৈষম্যহীন ও সহিংসতামুক্ত শিক্ষাঙ্গন নিশ্চিত করতে দেশের সকল সাধারণ শিক্ষার্থীকে সচেতন ও ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।
প্রসঙ্গত, গতকাল বিকেল ৪টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের মীর মুগ্ধ সরোবর (মফিজ লেক) এলাকায় এক যুগলকে আপত্তিকর অবস্থায় দেখেন ইবি চারুকলা বিভাগের শিক্ষার্থী তরুণ বিশ্বাস, জাহিন আফিফা এবং জাবি চারুকলা থেকে বেড়াতে আসা শিক্ষার্থী লিখন। পরে ওই যুগলের কাছে ক্যাম্পাসের শিক্ষার্থীরা পরিচয় জানতে চাইলে তারা স্থানীয় কয়েকজনকে ফোন করে ডেকে আনে। মুহূর্তেই ৫-৬টি মোটরসাইকেলে কয়েকজন স্থানীয় যুবক ও আরেক জোড়া যুগল সেখানে জড়ো হয়। খবর পেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টোরিয়াল বডির সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। তারা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ক্যাম্পাসের সিকিউরিটি সেলের আরশাদ বহিরাগতদের লাঠি দিয়ে কয়েকজনকে মারধর করেন এবং দ্রুত ক্যাম্পাস ত্যাগের নির্দেশ দেন। এই ঘটনার জের ধরেই শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
আপনার মতামত লিখুন