ইবিতে সকল ধর্মের জন্য বাধ্যতামূলক ‘ইসলামিক স্টাডিজ’ কোর্স: প্রতিবাদ পূজা উদযাপন পরিষদের

শিক্ষা
ইবিতে সকল ধর্মের জন্য বাধ্যতামূলক ‘ইসলামিক স্টাডিজ’ কোর্স: প্রতিবাদ পূজা উদযাপন পরিষদের
২১ এপ্রিল ২০২৬, ১:২১ পিএম

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) সকল শিক্ষার্থীর জন্য ‘ইসলামিক স্টাডিজ’ কোর্স বাধ্যতামূলক করার সিদ্ধান্তে প্রতিবাদ জানিয়ে উপাচার্য বরাবর স্মারকলিপি দিয়েছে পূজা উদযাপন পরিষদ।

মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) দুপুর ১টায় উপাচার্য অধ্যাপক ড. নকীব মোহাম্মদ নসরুল্লাহ বরাবর স্মারকলিপি জমা দেন সংগঠনের শিক্ষার্থীরা।

স্মারকলিপিতে বলা হয়, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৫-২০২৬ শিক্ষাবর্ষ থেকে ধর্মীয় দিক মূল্যায়ন না করে ‘বাংলাদেশ স্টাডিজ’ এবং ‘ইসলামিক স্টাডিজ’ কোর্স ক্রেডিট কোর্স হিসেবে অত্যাবশ্যক করা হয়েছে। অন্যান্য ধর্মাবলম্বী শিক্ষার্থীদের জন্য ‘ইসলামিক স্টাডিজ’ কোর্স বাধ্যতামূলক করা ধর্মীয় সার্বভৌমত্ব হরণের নামান্তর। জুলাই বিপ্লব-পরবর্তী বাংলাদেশে এক ধর্মের সংস্কৃতি অন্যান্য ধর্মের উপর চাপিয়ে দেওয়া জুলাই বিপ্লবের চেতনার পরিপন্থী। আমরা এমন অবিবেচনীয় সিদ্ধান্তে উৎকণ্ঠিত।

স্মারকলিপিতে আরও বলা হয়, একটি সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকল শিক্ষার্থীরা অধ্যয়ন করে থাকে, একটি সুনির্দিষ্ট ধর্মের শিক্ষাকে (ইসলামিক স্টাডিজ) অন্যান্য ধর্মের জন্য বাধ্যতামূলক করা স্বাধীন বাংলাদেশপন্থী চেতনার পরিপন্থী এবং চরম বৈষম্যমূলক আচরণ।

অনতিবিলম্বে সিদ্ধান্ত বাতিল করে স্ব স্ব ধর্মীয় শিক্ষা পাঠদান নিশ্চিতের দাবি জানান শিক্ষার্থীরা।

উল্লেখ্য, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের গত ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫-এর ১৩১তম সভায় গৃহীত সিদ্ধান্তের পর ৩০ অক্টোবর ২০২৫-এর ২৭১তম সিন্ডিকেট সভায় ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষ থেকে ‘বাংলাদেশ স্টাডিজ’ ও ‘ইসলামিক স্টাডিজ’ কোর্স দুটিকে বাধ্যতামূলক ক্রেডিট কোর্স করা হয়। এর আগে ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষ পর্যন্ত নন-ক্রেডিট কোর্স হিসেবে যেকোনো একটি কোর্স করতে হতো শিক্ষার্থীদের।