নেহালপুর ক্যাম্প ইনচার্জের বিরুদ্ধে ভয়ংকর দুর্নীতির অভিযোগ!মণিরামপুরে আইনের মুখোশে অপরাধের সাম্রাজ্য
সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ-ওয়ারেন্টভুক্ত আসামিদের কাছ থেকেও নগদ টাকা ছাড়াও মুরগি পর্যন্ত ঘুষ হিসেবে নেওয়া হচ্ছে! আইনের রক্ষক হয়ে এ ধরনের কর্মকাণ্ড জনমনে চরম ক্ষোভ ও আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে।
যশোরের মণিরামপুর উপজেলার নেহালপুর এখন যেন মাদক ও জুয়ার নিরাপদ স্বর্গরাজ্যে পরিণত হয়েছে। আর এই ভয়াবহ পরিস্থিতির পেছনে স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনের একাংশের সরাসরি মদদের অভিযোগে ক্ষোভে ফুঁসছে সাধারণ মানুষ।
অভিযোগের তীর সরাসরি নেহালপুর পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ রেজাউল করিমের দিকে। স্থানীয়দের দাবি, তার ছত্রছায়ায় মাদক ব্যবসায়ী ও অনলাইন জুয়াড়িরা প্রকাশ্যে তাদের অবৈধ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। মাসোহারা নিয়ে তাদের রীতিমতো লাইসেন্স দিয়ে দেওয়া হয়েছে-এমনটাই অভিযোগ এলাকাবাসীর।
নেহালপুরসহ আশপাশের এলাকা এখন মাদকে সয়লাব। মণিরামপুর, কেশবপুর ও অভয়নগর থেকে মাদকসেবীরা ভিড় করছে এই এলাকায়। যুবসমাজ ধ্বংসের দিকে ধাবিত হচ্ছে, বাড়ছে চুরি, ছিনতাইসহ নানা অপরাধ-কিন্তু প্রশাসন রহস্যজনকভাবে নীরব।
সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ-ওয়ারেন্টভুক্ত আসামিদের কাছ থেকেও নগদ টাকা ছাড়াও মুরগি পর্যন্ত ঘুষ হিসেবে নেওয়া হচ্ছে! আইনের রক্ষক হয়ে এ ধরনের কর্মকাণ্ড জনমনে চরম ক্ষোভ ও আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, ঈদুল ফিতরকে ঘিরে নেহালপুরে চলে বেপরোয়া চাঁদাবাজি। ব্যবসায়ী, বাজার কমিটি, এমনকি সাধারণ মানুষও রেহাই পায়নি। কপালিয়া মৎস্য আড়ৎ থেকে টাকা ও মাছ নেওয়া, নাগরদোলা থেকে টাকা আদায়, ব্যবসায়ীদের বাড়িতে পুলিশ পাঠিয়ে জোরপূর্বক ‘উপহার’ সংগ্রহ-এসব অভিযোগ এখন মুখে মুখে।
এছাড়া, ‘আকিজ গ্রুপ’-এর দেওয়া ঈদ উপহার আত্মসাৎ, বাজার থেকে চেয়ার-এলইডি বাল্ব সংগ্রহ করে ব্যক্তিগত ব্যবহারের মতো অভিযোগও উঠেছে তার বিরুদ্ধে। কৃষকদের ক্ষেত থেকে বিনা মূল্যে সবজি ও মাছ নেওয়ার ঘটনাও রয়েছে তালিকায়।
এমন লাগামহীন অনিয়ম-দুর্নীতির কারণে ক্যাম্পের ভেতরেই সৃষ্টি হয়েছে চরম অসন্তোষ। ইতোমধ্যে একাধিক পুলিশ সদস্য বদলির আবেদন করে ক্যাম্প ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন বলে নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে।এদিকে, এসব গুরুতর অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করেছেন ক্যাম্প ইনচার্জ রেজাউল করিম। তার দাবি, সব অভিযোগ মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
তবে প্রশ্ন উঠেছে-যদি অভিযোগগুলো ভিত্তিহীনই হয়, তাহলে কেন দিন দিন বাড়ছে জনঅসন্তোষ? কেনই বা একের পর এক পুলিশ সদস্য ক্যাম্প ছাড়ছেন?এলাকাবাসীর দাবি, দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হোক-নইলে নেহালপুর আরও বড় অপরাধের অভয়ারণ্যে পরিণত হবে।
আপনার মতামত লিখুন