সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬
নেহালপুর ক্যাম্প ইনচার্জের বিরুদ্ধে ভয়ংকর দুর্নীতির অভিযোগ!মণিরামপুরে আইনের মুখোশে অপরাধের সাম্রাজ্য

নেহালপুর ক্যাম্প ইনচার্জের বিরুদ্ধে ভয়ংকর দুর্নীতির অভিযোগ!মণিরামপুরে আইনের মুখোশে অপরাধের সাম্রাজ্য

বিশেষ প্রতিনিধি

‎যশোরের মণিরামপুর উপজেলার নেহালপুর এখন যেন মাদক ও জুয়ার নিরাপদ স্বর্গরাজ্যে পরিণত হয়েছে। আর এই ভয়াবহ পরিস্থিতির পেছনে স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনের একাংশের সরাসরি মদদের অভিযোগে ক্ষোভে ফুঁসছে সাধারণ মানুষ।

‎‎অভিযোগের তীর সরাসরি নেহালপুর পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ রেজাউল করিমের দিকে। স্থানীয়দের দাবি, তার ছত্রছায়ায় মাদক ব্যবসায়ী ও অনলাইন জুয়াড়িরা প্রকাশ্যে তাদের অবৈধ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। মাসোহারা নিয়ে তাদের রীতিমতো লাইসেন্স দিয়ে দেওয়া হয়েছে-এমনটাই অভিযোগ এলাকাবাসীর।

‎নেহালপুরসহ আশপাশের এলাকা এখন মাদকে সয়লাব। মণিরামপুর, কেশবপুর ও অভয়নগর থেকে মাদকসেবীরা ভিড় করছে এই এলাকায়। যুবসমাজ ধ্বংসের দিকে ধাবিত হচ্ছে, বাড়ছে চুরি, ছিনতাইসহ নানা অপরাধ-কিন্তু প্রশাসন রহস্যজনকভাবে নীরব।

‎‎সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ-ওয়ারেন্টভুক্ত আসামিদের কাছ থেকেও নগদ টাকা ছাড়াও মুরগি পর্যন্ত ঘুষ হিসেবে নেওয়া হচ্ছে! আইনের রক্ষক হয়ে এ ধরনের কর্মকাণ্ড জনমনে চরম ক্ষোভ ও আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে।

‎‎স্থানীয় সূত্র জানায়, ঈদুল ফিতরকে ঘিরে নেহালপুরে চলে বেপরোয়া চাঁদাবাজি। ব্যবসায়ী, বাজার কমিটি, এমনকি সাধারণ মানুষও রেহাই পায়নি। কপালিয়া মৎস্য আড়ৎ থেকে টাকা ও মাছ নেওয়া, নাগরদোলা থেকে টাকা আদায়, ব্যবসায়ীদের বাড়িতে পুলিশ পাঠিয়ে জোরপূর্বক ‘উপহার’ সংগ্রহ-এসব অভিযোগ এখন মুখে মুখে।

‎‎এছাড়া, ‘আকিজ গ্রুপ’-এর দেওয়া ঈদ উপহার আত্মসাৎ, বাজার থেকে চেয়ার-এলইডি বাল্ব সংগ্রহ করে ব্যক্তিগত ব্যবহারের মতো অভিযোগও উঠেছে তার বিরুদ্ধে। কৃষকদের ক্ষেত থেকে বিনা মূল্যে সবজি ও মাছ নেওয়ার ঘটনাও রয়েছে তালিকায়।

‎‎এমন লাগামহীন অনিয়ম-দুর্নীতির কারণে ক্যাম্পের ভেতরেই সৃষ্টি হয়েছে চরম অসন্তোষ। ইতোমধ্যে একাধিক পুলিশ সদস্য বদলির আবেদন করে ক্যাম্প ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন বলে নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে।‎এদিকে, এসব গুরুতর অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করেছেন ক্যাম্প ইনচার্জ রেজাউল করিম। তার দাবি, সব অভিযোগ মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।

‎তবে প্রশ্ন উঠেছে-যদি অভিযোগগুলো ভিত্তিহীনই হয়, তাহলে কেন দিন দিন বাড়ছে জনঅসন্তোষ? কেনই বা একের পর এক পুলিশ সদস্য ক্যাম্প ছাড়ছেন?‎এলাকাবাসীর দাবি, দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হোক-নইলে নেহালপুর আরও বড় অপরাধের অভয়ারণ্যে পরিণত হবে।

প্রধান উপদেষ্টা : ইমাম হোসেন, নয়া সংবাদ মিডিয়া লিমিটেডের পক্ষে প্রকাশক কর্তৃক ৩৩, তোপখানা রোড, রমনা, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত.

প্রিন্ট করুন