সাংবাদিকদের হাতকড়া পরিয়ে আলোচিত এসিল্যান্ডের পদোন্নতিসহ বদলি
একদিকে সাংবাদিকদের ওপর এমন নিষ্ঠুর আচরণের ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে নিন্দার ঝড় ওঠে, অন্যদিকে ২৪ ঘণ্টার মাথায় তাকে সিনিয়র সহকারী কমিশনার পদে পদোন্নতি দিয়ে সিলেটে বদলি করা হয়। ছবিঃ সংগৃহীত
দুই সাংবাদিককে হাতকড়া পরিয়ে লঙ্কাকাণ্ড ঘটানো কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ফয়সাল আল নুরকে অবশেষে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তবে এই সরিয়ে নেওয়াকে শাস্তির বদলে ‘পুরস্কার’ হিসেবে দেখছেন অনেকে। তাকে পদোন্নতি দিয়ে সিনিয়র সহকারী কমিশনার হিসেবে সিলেট বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে পদায়ন করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) রাতে রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে এই সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।
বুধবার (১ এপ্রিল)। সাংবাদিক রাসেল সরকার ও আব্দুল আলীম এক আত্মীয়ের ভূমি সংক্রান্ত তথ্য জানতে এসিল্যান্ড ফয়সাল আল নুরের দফতরে যান। সেখানে এসিল্যান্ডের রুক্ষ আচরণের প্রতিবাদ জানিয়ে ভিডিও ধারণ করতে গেলে তিনি মেজাজ হারান। তাৎক্ষণিক পুলিশ ডেকে এনে সাংবাদিকদের অপরাধীর মতো হাতকড়া পরিয়ে প্রকাশ্য রাস্তায় হাঁটিয়ে থানায় পাঠান তিনি। সেখানে জোরপূর্বক ভিডিও ডিলিট করে এবং মুচলেকা নিয়ে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়।
একদিকে সাংবাদিকদের ওপর এমন নিষ্ঠুর আচরণের ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে নিন্দার ঝড় ওঠে, অন্যদিকে ২৪ ঘণ্টার মাথায় তাকে সিনিয়র সহকারী কমিশনার পদে পদোন্নতি দিয়ে সিলেটে বদলি করা হয়।
সাংবাদিক নেতারা বলছেন, যেখানে এই সরকারি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা বা বরখাস্তের দাবি ছিল, সেখানে তাকে প্রমোশন দেওয়া প্রশাসন ও সংবাদকর্মীদের মধ্যে দূরত্ব আরও বাড়িয়ে দেবে। কুমিল্লা প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক জাহিদ হাসান জানান, প্রশাসনের এমন সিদ্ধান্ত আশ্চর্যজনক হলেও ভূমি অফিস থেকে তাকে প্রত্যাহার করায় কিছুটা স্বস্তি মিলেছে।
কুমিল্লা জেলা প্রশাসক আমিরুল কায়সার জানিয়েছেন, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশেই তাকে নতুন কর্মস্থলে পাঠানো হয়েছে এবং এই আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে। তবে মাঠ পর্যায়ের সাংবাদিকদের মাঝে এই ঘটনায় এখনো তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে।
আপনার মতামত লিখুন