ইসলামাবাদে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র ম্যারাথন বৈঠক ব্যর্থ

কোনো চুক্তি ছাড়াই পাকিস্তান ছাড়লেন যুক্তরাষ্ট্র প্রতিনিধি দল

কোনো চুক্তি ছাড়াই পাকিস্তান ছাড়লেন যুক্তরাষ্ট্র প্রতিনিধি দল

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র পতাকা। ছবি: সংগৃহীত

১২ এপ্রিল ২০২৬, ৯:৪৮ এএম

ইসলামাবাদে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান সংঘাত নিরসনে আয়োজিত উচ্চপর্যায়ের কূটনৈতিক বৈঠক কোনো ধরনের চুক্তি ছাড়াই শেষ হয়েছে। রোববার (১২ এপ্রিল) সকালে পাকিস্তানের রাজধানী ত্যাগ করার আগে যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স আনুষ্ঠানিকভাবে এই ব্যর্থতার কথা ঘোষণা করেন। টানা ২১ ঘণ্টার শ্বাসরুদ্ধকর আলোচনার পরও দুই পক্ষ কোনো সাধারণ ঐকমত্যে পৌঁছাতে পারেনি।

রোববার সকালে ইসলামাবাদে আয়োজিত এক সংক্ষিপ্ত সংবাদ সম্মেলনে জেডি ভ্যান্স জানান, মার্কিন প্রতিনিধিদল আলোচনার টেবিলে যথেষ্ট 'নমনীয় ও সহযোগিতামূলক' অবস্থান নিয়েছিল। তিনি দাবি করেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশনা অনুযায়ী তারা একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছেন। তবে ইরানের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় শর্তগুলো মেনে নিতে রাজি না হওয়ায় এই ম্যারাথন সংলাপ ফলপ্রসূ হয়নি।

ভ্যান্স বলেন, “দুঃসংবাদ হলো আমরা কোনো চুক্তিতে পৌঁছাতে পারিনি। তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে ইরানের জন্য অনেক বেশি দুঃসংবাদ। আমাদের অলঙ্ঘনীয় সীমাগুলো আমরা পরিষ্কার করে দিয়েছি, কিন্তু তারা তা গ্রহণ করেনি।”

আলোচনার মূল কেন্দ্রবিন্দু ছিল পারমাণবিক কর্মসূচি। ভ্যান্স জানান, ইরানের কাছ থেকে একটি 'বিশ্বাসযোগ্য ও সক্রিয় প্রতিশ্রুতি' চেয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র, যাতে তারা ভবিষ্যতে পারমাণবিক অস্ত্র বা এমন কোনো প্রযুক্তি তৈরি না করে যা দ্রুত অস্ত্র অর্জনে সহায়তা করে। এছাড়া ইরানের জব্দকৃত সম্পদের বিষয়সহ বিভিন্ন কাঠামোগত বিষয় আলোচনায় উঠে এলেও শেষ পর্যন্ত তা হোঁচট খায়।

এদিকে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই এক বিবৃতিতে আয়োজক পাকিস্তানকে ধন্যবাদ জানিয়ে সংলাপের ব্যর্থতার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের 'অযৌক্তিক দাবি' ও 'বেআইনি অনুরোধকে' দায়ী করেছেন। তিনি বলেন, “সফলতা নির্ভর করে প্রতিপক্ষের সদিচ্ছা ও ইরানের বৈধ অধিকার মেনে নেওয়ার ওপর।”

ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম আইআরআইবি জানিয়েছে, মার্কিন প্রতিনিধিদলের চাপের মুখেও ইরানি প্রতিনিধিদল টানা ২১ ঘণ্টা জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় আলোচনা চালিয়েছে। তাদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র বাড়তি দাবি দাওয়া পেশ করার কারণেই শান্তি আলোচনাটি ভেস্তে গেছে।

যদিও দুই দেশ কোনো চুক্তিতে পৌঁছাতে পারেনি, তবে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স পাকিস্তানি কর্মকর্তাদের ভূমিকার প্রশংসা করেছেন। তিনি জানান, পাকিস্তানিরা দুই পক্ষের দূরত্ব কমাতে অসাধারণ কাজ করেছে। এর আগে বিশেষজ্ঞ পর্যায়ে খসড়া বিনিময় এবং ইতিবাচক অগ্রগতির প্রেক্ষিতে সংলাপের সময়সীমা একদিন বাড়ানো হয়েছিল, যা সাধারণ মানুষের মধ্যে বড় ধরনের প্রত্যাশা তৈরি করেছিল।শেষ পর্যন্ত খসড়া বিনিময় কিংবা দীর্ঘ আলোচনার পরও চূড়ান্ত কোনো স্বাক্ষর ছাড়াই দুই দেশের প্রতিনিধিরা পাকিস্তান ত্যাগ করছেন, যা মধ্যপ্রাচ্যের চলমান পরিস্থিতিতে নতুন করে অস্থিরতার শঙ্কা তৈরি করেছে।