যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের দুই সপ্তাহের আল্টিমেটাম: ব্যর্থ হলে ‘ভয়াবহ হামলার’ হুঁশিয়ারি

যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের দুই সপ্তাহের আল্টিমেটাম: ব্যর্থ হলে ‘ভয়াবহ হামলার’ হুঁশিয়ারি

ছবিঃ সংগৃহীত

১১ এপ্রিল ২০২৬, ১১:১৩ এএম

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার মাঝে কঠোর হুঁশিয়ারি সংকেত পাঠালো তেহরান। দুই সপ্তাহের মধ্যে একটি গ্রহণযোগ্য সমঝোতায় পৌঁছাতে ব্যর্থ হলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের স্বার্থসংশ্লিষ্ট লক্ষ্যবস্তুগুলোতে ‘ভয়াবহ ও ধ্বংসাত্মক’ হামলা চালানোর হুমকি দিয়েছে ইরান। শনিবার (১১ এপ্রিল) জিও নিউজতাসনিম নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

ইরানের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করে জানানো হয়েছে যে, যুক্তরাষ্ট্রকে আগামী ১৪ দিনের মধ্যে ইরান এবং বৃহত্তর ‘প্রতিরোধ ফ্রন্টের’ কাছে গ্রহণযোগ্য একটি সমাধানে আসতে হবে। শান্তি আলোচনা যদি ফলপ্রসূ না হয় এবং এর মাঝে আমেরিকা নতুন কোনো উস্কানি প্রদান করে, তবে ইরানি সেনারা বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরু করবে।

বর্তমানে পাকিস্তানসহ আঞ্চলিক শক্তিগুলোর বিশেষ উদ্যোগে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দুই সপ্তাহের একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতি চলছে। এই নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই পাকিস্তানের ইসলামাবাদে পরবর্তী দফার আলোচনার প্রস্তুতি গ্রহণ করা হচ্ছে। তবে এই আলোচনায় বসার অর্থ ‘সংঘাতের সমাপ্তি’ নয় বলে সতর্ক করেছেন ইরানি কর্মকর্তারা। তারা সাফ জানিয়েছেন:"আমাদের সেনাবাহিনী যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় এবং শত্রুর ওপর পাল্টা আঘাত হানতে বর্তমানে পুরোপুরি প্রস্তুত রয়েছে।"

লেবাননে অব্যাহত ইসরায়েলি বিমান হামলাকে কেন্দ্র করে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে তেহরান। ইরানের শীর্ষ কর্মকর্তাদের মতে, একদিকে ইসরায়েলি আগ্রাসন চলবে আর অন্যদিকে শান্তি আলোচনা হবে—এমন পরিস্থিতি পুরোপুরি ‘অযৌক্তিক’। তারা হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, ইসরায়েলের এই ধারাবাহিক হামলা বর্তমান শান্তি প্রক্রিয়াকে সম্পূর্ণ নস্যাৎ করে দিতে পারে।

এখন দেখার বিষয়, ইসলামাবাদের এই আলোচনার মাধ্যমে কোনো দীর্ঘমেয়াদী সমাধানে পৌঁছানো সম্ভব হয় কি না, নাকি দুই সপ্তাহ পর মধ্যপ্রাচ্যের রণক্ষেত্রে নতুন কোনো সংঘাতের সূচনা হয়।