হরমুজ প্রণালিতে ইরানের কঠোর নিয়ন্ত্রণ: দৈনিক ১৫ জাহাজের কোটা নির্ধারণ
হরমুজ প্রণালি। ছবিঃ সংগৃহীত
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক বাণিজ্য পথ হরমুজ প্রণালিতে নিজেদের একচ্ছত্র আধিপত্য জানান দিল তেহরান। ইরানের সাম্প্রতিক ঘোষণা অনুযায়ী, চলমান যুদ্ধবিরতির আওতায় এখন থেকে প্রতিদিন সর্বোচ্চ ১৫টি জাহাজ এই জলপথ অতিক্রম করার অনুমতি পাবে। ইসলামাবাদে আলোচনার লক্ষ্যে অবস্থানরত ইরানি একটি কূটনৈতিক সূত্র রাশিয়ার সংবাদমাধ্যম তাস-কে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
ইরান স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে যেকোনো নৌযান চলাচল এখন থেকে সম্পূর্ণভাবে তাদের অনুমোদন ও নির্দিষ্ট প্রটোকলের ওপর নির্ভরশীল। এই পুরো প্রক্রিয়াটি সরাসরি পরিচালনা করছে ইরানের শক্তিশালী সামরিক বাহিনী ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। তেহরানের পক্ষ থেকে সাফ জানানো হয়েছে, পরিস্থিতি আর কখনো যুদ্ধ-পূর্ব স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে যাবে না।
ইরান এই দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতিকে তাদের দাবি আদায়ের একটি বড় সুযোগ হিসেবে দেখছে। দেশটির প্রধান শর্ত হলো, বিদেশে অবরুদ্ধ ইরানের সমস্ত অর্থনৈতিক সম্পদ অবিলম্বে মুক্ত করতে হবে। আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে এ বিষয়ে দৃশ্যমান অগ্রগতি না হলে পরিস্থিতি পুনরায় উত্তপ্ত করার হুঁশিয়ারি দিয়েছে তারা। এছাড়া যুদ্ধের সমাপ্তিকে অবশ্যই জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাবের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃত হতে হবে।
ইরান কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, যদি তাদের শর্ত অনুযায়ী জাতিসংঘে প্রস্তাব পাস না হয়, তবে তারা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে পুনরায় এবং আরও জোরালোভাবে সামরিক অভিযান শুরু করতে প্রস্তুত। এছাড়া এই যুদ্ধবিরতি চলাকালীন যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে কোনো সেনা মোতায়েন বাড়াতে পারবে না বলেও তেহরান জানিয়েছে। একই সঙ্গে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বিষয়ে পূর্বের চুক্তি মেনে চলার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে তারা।
উল্লেখ্য, গত ৭ এপ্রিল মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দুই সপ্তাহের পারস্পরিক যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দেন। তিনি জানান, ইরানের প্রস্তাবিত ১০ দফা আলোচনার ভিত্তি হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছে। এই জট খুলতে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ মধ্যস্থতাকারী হিসেবে আজ ১০ এপ্রিল ইসলামাবাদে উভয় পক্ষকে সরাসরি আলোচনার আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। বিশ্ববাসী এখন এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের ফলাফলের দিকে তাকিয়ে আছে।
আপনার মতামত লিখুন