অবরুদ্ধ ইরানি বন্দরের পাল্টা জবাব

বিশ্ব জ্বালানি পথ ‘হরমুজ প্রণালি’ বন্ধের চূড়ান্ত ঘোষণা তেহরানের

বিশ্ব জ্বালানি পথ ‘হরমুজ প্রণালি’ বন্ধের চূড়ান্ত ঘোষণা তেহরানের

ছবি: সংগৃহীত

১৮ এপ্রিল ২০২৬, ৫:৪৪ পিএম

যুক্তরাষ্ট্রের নৌ-অবরোধের মুখে কঠোরতম পাল্টা ব্যবস্থার পথে হাঁটল ইরান। নিজেদের বাণিজ্যিক স্বাধীনতা রক্ষায় বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি রুট ‘হরমুজ প্রণালি’ অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করে দেওয়ার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছে তেহরান।

শনিবার (১৮ এপ্রিল) দেশটির ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ডস কর্পস (আইআরজিসি) এক জরুরি বিবৃতিতে জানায়, এখন থেকে এই জলপথের সার্বিক নিয়ন্ত্রণ থাকবে সশস্ত্র বাহিনীর হাতে। মার্কিন ‘জলদস্যুতা’ বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত কোনো জাহাজকে এই পথ ব্যবহারের সুযোগ দেওয়া হবে না বলেও হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।

 ইরানের বন্দরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের অব্যাহত নজরদারি ও অবরোধকে সার্বভৌমত্বের লঙ্ঘন হিসেবে দেখছে তেহরান।হরমুজ প্রণালি পুনরায় ‘পূর্বের অবস্থায়’ ফিরিয়ে নেওয়ার অর্থ হলো—এই পথে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের যে আন্তর্জাতিক স্বাধীনতা ছিল, তা স্থগিত করে পূর্ণ সামরিক কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করা।স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফের আল্টিমেটামের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই আইআরজিসি এই সামরিক পদক্ষেপের বাস্তবায়ন শুরু করে।

বিশ্বের মোট জ্বালানি তেলের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ এই সরু জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। ইরানের এই একক সিদ্ধান্তের ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম আকাশচুম্বী হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষক সংস্থাগুলো জানিয়েছে, ইতোমধ্যে পারস্য উপসাগরের প্রবেশপথে স্থবিরতা তৈরি হয়েছে, যা বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধরনের অস্থিরতার সংকেত দিচ্ছে।যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া না গেলেও, এই অঞ্চলে বড় ধরনের নৌ-সংঘাতের আশঙ্কা করছেন সামরিক বিশ্লেষকরা।