মেয়াদোত্তীর্ণ ইবি বৈছাআ কমিটি, বেপরোয়া ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ এক নেতার বিরুদ্ধে
একের পর এক বিতর্ক ও অভিযোগে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) ক্যাম্পাসে আলোচনায় রয়েছেন শাখা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের (বৈছাআ) যুগ্ম সদস্যসচিব বাঁধন বিশ্বাস স্পর্শ। এর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি মন্তব্যকে কেন্দ্র করে এক জুনিয়র শিক্ষার্থীকে গালিগালাজ ও হলের আসন নিয়ে হুমকি, এক সহপাঠীর ফরম পূরণের টাকা আত্মসাত এবং সংশ্লিষ্টদের হুমকি দেওয়া, এমনকি একটি কর্মসূচি শেষে অনুষ্ঠানস্থলের চেয়ার ও বৈদ্যুতিক তার সরিয়ে নেওয়ার অভিযোগও ওঠে তার বিরুদ্ধে। এসব অভিযোগের রেশ কাটতে না কাটতেই এবার ইবি ক্যাম্পাসসংলগ্ন এক চায়ের দোকানির টাকা আত্মসাতের অভিযোগ সামনে এসেছে।
এদিকে সংগঠনটিকে ঘিরেও ক্যাম্পাসে নানা আলোচনা রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় শাখা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক কমিটির নির্ধারিত মেয়াদ চলতি বছরের ৮ মে শেষ হলেও নতুন কমিটি গঠন না করে পুরোনো কাঠামোতে কার্যক্রম পরিচালনার বিষয়টি নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে সংগঠনটির আহ্বায়কের জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর কেন্দ্রীয় সদস্যপদ পাওয়া নিয়েও আলোচনা রয়েছে। এছাড়া কমিটির কার্যক্রম, নিষ্ক্রিয় সদস্য এবং সাংগঠনিক সক্রিয়তা নিয়েও বিভিন্ন সময় আলোচনা দেখা গেছে।
সম্প্রতি ভুক্তভোগী ববিতা খাতুনের কান্নাজড়িত একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসে। ববিতা খাতুন জিয়া মোড়সংলগ্ন শহীদ আনাস হলের সামনে লিচুবাগান এলাকায় একটি চায়ের দোকান পরিচালনা করেন।
ভিডিওতে তিনি অভিযোগ করেন, দোকান খোলার কথা বলে বৈছাআ নেতা বাঁধন তার কাছ থেকে ৫ হাজার টাকা ধার নেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, টাকা নেওয়ার সময় বাঁধন বলেন, “খালা, আমি আপনার উপকার করেছি, আপনি আমারও একটু উপকার করেন।” পরে টাকা নেওয়ার পর বিভিন্ন সময় দেওয়ার আশ্বাস দিলেও তা আর পরিশোধ করেননি।
ববিতা খাতুন আরও অভিযোগ করেন, ২০ তারিখে টাকা ফেরত দেওয়ার কথা থাকলেও ২৫ তারিখ পেরিয়ে গেলেও কোনো টাকা দেওয়া হয়নি। পাশাপাশি তার দোকানে বাকি থাকা ২৩০ টাকার বিলও পরিশোধ করা হয়নি।
তিনি বলেন, “আজ আমার স্বামী বেঁচে থাকলে আমাকে এভাবে কষ্ট করতে হতো না। কোনো কারণে আমার দোকান বন্ধ হয়ে গিয়েছিল, তখন সে দোকান খুলে দিতে সাহায্য করেছিল। কিন্তু পরে এভাবে ক্ষতি করবে, তা ভাবিনি। আমার দোকানে তো ৫ হাজার টাকার মালও থাকে না।”
তিনি আরও জানান, বিষয়টি নিয়ে অনেককে জানিয়েও সমাধান পাননি। পরে তাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অফিসে অভিযোগ দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।
এদিকে, বিষয়টি নিয়ে ক্যাম্পাসের বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। জুলাই আন্দোলনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) এক শিক্ষার্থী বলেন, “এ ধরনের কর্মকাণ্ড ইবি ক্যাম্পাসে জুলাই আন্দোলনের চেতনা ও মূল্যবোধকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। একই সঙ্গে এর নেতিবাচক প্রভাব ক্যাম্পাসের গণ্ডি পেরিয়ে দেশব্যাপীও পড়তে পারে।”
অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে বাঁধন বিশ্বাস স্পর্শের সঙ্গে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। একই বিষয়ে সংগঠনের অবস্থান জানতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় শাখার আহ্বায়ক এস এম সুইট বলেন, “বাঁধনকে সতর্ক করে দেওয়া হয়েছে যাতে সংগঠনের দুর্নাম হয়, এমন কাজ না করে।”
কমিটির মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “কমিটি প্রণয়নের বিষয়টি কেন্দ্র থেকে পরিচালনা করা হয়। কেন্দ্র থেকে কমিটি না দিলে এভাবেই চলবে।”
এদিকে বৃহস্পতিবার (৩০ জুন) ভুক্তভোগী ববিতা খাতুন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অফিসে লিখিত অভিযোগ জমা দেন। অভিযোগপত্রে তিনি উল্লেখ করেন, রোজার ঈদের পর বাঁধন বিশ্বাস তার কাছ থেকে এক সপ্তাহের জন্য ৫ হাজার টাকা ধার নেন। পরে একাধিকবার টাকা ফেরত চাইলেও তা আর ফেরত পাননি বলে অভিযোগ করেন। দ্রুত বিষয়টির সুষ্ঠু তদন্ত ও পাওনা টাকা আদায়ে প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।
বিষয়টি জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহীনুজ্জামান বলেন, “বিষয়টা আমি অবগত আছি। এ বিষয়টি তদারকি ছাত্র উপদেষ্টা করবেন। উনি যদি আমার সঙ্গে বসে আলোচনা করেন তবেই আমি এ বিষয়ে আপডেট জানাতে পারবো।”
এ বিষয়ে ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. ওবায়দুল ইসলাম বলেন, “অভিযোগপত্র গ্রহণ করেছি। আগামীকাল প্রক্টরের সঙ্গে বসে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেব।”
এদিকে ভুক্তভোগী ববিতা খাতুন জানিয়েছেন, ভিডিওতে দেওয়া বক্তব্য সত্য এবং লিখিত অভিযোগের মাধ্যমে তিনি প্রশাসনের হস্তক্ষেপ প্রত্যাশা করছেন।
মো. মিনহাজুর রহমান মাহিম
আপনার মতামত লিখুন