বিচার অঙ্গনের অভিভাবক ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ আর নেই
ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ। ছবি: সংগৃহীত।
বাংলাদেশের আইনি ইতিহাসের একটি উজ্জ্বল অধ্যায় সমাপ্ত হলো। সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি এবং সাবেক আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ চিরবিদায় নিয়েছেন। আজ রোববার বিকেল ৫টা ৫০ মিনিটে রাজধানীর বাংলাদেশ মেডিকেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৮ বছর।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, লিভারজনিত সমস্যার কারণে গত শনিবার (১১ এপ্রিল) রাতে তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাঁকে আইসিইউতে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়। আজ বিকেলের দিকে তাঁর অবস্থার আরও অবনতি ঘটে এবং চিকিৎসকদের সব প্রচেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়ে তিনি পরপারে পাড়ি জমান। সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী আকসির এম চৌধুরী মৃত্যুর খবরটি গণমাধ্যমে নিশ্চিত করেন।
ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ কেবল একজন মন্ত্রী ছিলেন না, তিনি ছিলেন দেশের আইনি জগতের এক জীবন্ত কিংবদন্তি। তাঁর কর্মজীবনের বিশেষ দিকগুলো হলো: ২০০৯ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত আওয়ামী লীগ সরকারের আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সফল নেতৃত্ব দিয়েছেন। সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি এবং বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। দেশের বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও আইনি কাঠামোর আধুনিকায়নে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
তাঁর মৃত্যুর সংবাদ ছড়িয়ে পড়লে দেশের উচ্চ আদালত ও রাজনৈতিক অঙ্গনে গভীর শোকের ছায়া নেমে আসে। প্রধান বিচারপতিসহ আইনি অঙ্গনের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন।"তিনি ছিলেন আইনের শাসনের একনিষ্ঠ প্রহরী। তাঁর অভাব পূরণ হবার নয়।" — একজন জ্যেষ্ঠ সহকর্মীর স্মৃতিচারণ।পরিবার সূত্রে জানানো হয়েছে, তাঁর জানাজা ও দাফনের সময়সূচী পরবর্তীতে জানিয়ে দেওয়া হবে। তিনি স্ত্রী এবং দুই ছেলেসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।
আপনার মতামত লিখুন