নেশার টাকা না পেয়ে প্রতিবন্ধীর অন্ডকোষে আঘাতের অভিযোগ, মৃত্যুর পথে শাহাজালাল

সারাদেশ
নেশার টাকা না পেয়ে প্রতিবন্ধীর অন্ডকোষে আঘাতের অভিযোগ, মৃত্যুর পথে শাহাজালাল
০৬ এপ্রিল ২০২৬, ৪:৫৩ পিএম

টাঙ্গাইলের বাসাইলে নেশার টাকা না পেয়ে এক প্রতিবন্ধী কিশোরকে কিল, ঘুসি ও অন্ডকোষে আঘাত করে আহত করার অভিযোগ করেছে এলাকার চিহ্নিত দুই নেশাখোরের বিরুদ্ধে। চিকিৎসা করাতে ব্যর্থ দরিদ্র ভ্যানচালক পিতা অবশেষে এলাকাবাসী সহযোগীতায় সম্প্রতি অপারেশন করে একটি অন্ডকোষ অপসারণ করেছে। ভুক্তভোগী অসহায় কিশোর শাহাজালাল এখন বিছানায় ব্যাথার যন্ত্রনায় কাতরাচ্ছে, মৃত্যুর দিন গুনছে। 

উপজেলার কাউলজানী ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের চরপাড়া জুন্মনবাড়ি এলাকায় ১৫ ফেব্রুয়ারী রাত সাড়ে আটটার দিকে এশার নামাজ থেকে বাড়ী ফেরার পথে এই ঘটনা ঘটে।

আহত কিশোর শাহাজালাল মিয়া ওই এলাকার শফি মিয়ার দুই সন্তানের মধ্যে ছোট ছেলে এবং আক্রমনকারী একই এলাকার ছানোয়ার সিকদারের ছেলে নেশাখোর রাকিব সিকদার ও বারেক মিয়ার ছেলে তারিকুল মিয়া। 

ভূক্তভোগী শাহাজালালের পিতা ভ্যানচালক শফি মিয়া অভিযোগ করে বলেন, ঘটনার রাতে এশার নামাজ পড়ে আমার বাকপ্রতিবন্ধী ছেলে শাহাজালাল বাড়ি ফিরছিলো।পথে প্রতীবেশী রাকিব ও তারিকুল তার পথ রোধ করে টাকা চায়। এসময় শাহাজালাল ইশারায় ও ভাঙ্গাভাঙ্গা ভাষায় টাকা দিতে অস্বীকার করে এবং হাউমাউ করে শব্দ করতে থাকে। নেশাখোর রাকিব ও তারিকুল তাকে কিল, ঘুসি, লাথি মারে এবং অন্ডকোষে চেপে ধরে। এসময় আরো হাউকাউ করলে লাথি মেরে তাকে পাশের পুকুরের ঢালে ফেলে দেয় তারা। শাহাজালালের কান্নার শব্দে স্থানীয়রা তারে উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে যায়।

দরিদ্র পিতা শাহাজালালকে ডাক্টার দেখিয়ে ঔষধ খাওয়াতে থাকে। কিন্তু তার শারিরিক অবস্থা আরো অবনতির দিকে যায়। গত ২৯ মার্চ তারিখে তার অন্ডকোষের ব্যথা অসহনীয় হয়ে উঠলে পরদিন অপারেশন করে তার একটি অন্ডকোষ ফেলে দেয়া হয়।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে দরিদ্র পিতা বলেন, আমার ছেলের অবশিষ্ট অন্ডকোষটির অবস্থাও ভালো না, ব্যথার কষ্টে বিছানায় পড়ে আছে। মৃত্যুর সাথে যুদ্ধ করছে। আমি অশিক্ষিত দরিদ্র ভ্যান চালক। গ্রামে বিচার দিয়েছি ওরা কাউকেই মানে না।আমি ওই নেশাখোরদের ফাঁসি চাই। 

এবিষয়ে স্থানীয় হাফিজি মাদ্রাসার মুহতামিম মনিরুজ্জামান, দোকানদার কিতাব আলী, শিক্ষার্থীসহ কয়েকজনের সাথে কথা বলে জানাযায়, শাহাজালাল প্রতিবন্ধী টাইপের ছেলে, তবে খুবই বিনয়ী ও ধার্মিক। গ্রামে তাকে নিয়ে কোন অভিযোগ নেই। তারা আরো বলেন, রাকিব ও তারিকুল রিক্সা-ভ্যান চালায় এলাকায়, সিগারেট নেশাও করে বলে শুনেছি। রাকিবের মা’কে মারধোর করার কারণে কয়েকমাস আগে তার মা থানায় অভিযোগও করেছিলো বলে শুনেছি।

এবিষয়ে ঘটনার কথা স্বীকার করে তারিকুল মুঠোফোনে জানায়, আমরা হাসিতামাশা করতে ছিলাম। সে আমাকে জড়িয়ে ধরেছিলো। আমি ওর অন্ডকোষের মাথায় ধরতে ছিলাম। রাকিব ধাক্কা ও লাথি দিয়েছিলো, তখন সে নিচে পড়ে গেছিলো। শাহাজালালের অন্ডকোষে আগে থেকেই সমস্যা ছিলো।

রাকিবের মুঠোফোনে কল করলে তাকে পাওয়া যায় নি। তবে অন্য একটি নাম্বার থেকে তার মা ফিরতি কল করে জানায় যে ঘটনা ঘটছে এটা সম্পূর্ন মিথ্যা। এগুলি রাকিব জানেও না, সে ছিলোও না।

বাসাইল থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আলমগীর কবির বলেন, বিষয়টি প্রাথমিক তদন্ত করা হয়েছে, মামলা রজু প্রক্রিয়াধীন।

সারাদেশ এর আরও সংবাদ

আরো পড়ুন