ঈশ্বরগঞ্জে বেপরোয়া ডিজিটাল সেন্টারের উদ্যোক্তা: দুর্নীতির দায়ে অপসারণের দাবি

সারাদেশ
ঈশ্বরগঞ্জে বেপরোয়া ডিজিটাল সেন্টারের উদ্যোক্তা: দুর্নীতির দায়ে অপসারণের দাবি
০৩ এপ্রিল ২০২৬, ৬:২১ পিএম

ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার ৬নং মাইজবাগ ইউনিয়ন পরিষদের ডিজিটাল সেন্টারের উদ্যোক্তা মোঃ আনিসুজ্জামানের বিরুদ্ধে স্বাক্ষর জালিয়াতি, ব্যাপক দুর্নীতি এবং ইউপি চেয়ারম্যানকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় অভিযুক্তের নিয়োগ বাতিল ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও সদস্যবৃন্দ।

​লিখিত অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২৯ মার্চ ২০২৬ তারিখে উদ্যোক্তা আনিসুজ্জামান চেয়ারম্যানের স্বাক্ষর জাল করে সাফিয়া আক্তার নামে এক নারীর কাছে একটি অনলাইন ট্রেড লাইসেন্স বিক্রি করেন। বিষয়টি জানাজানি হলে জালিয়াতির প্রমাণ মুছে ফেলতে তিনি ওই গ্রাহকের কাছ থেকে লাইসেন্সটি কেড়ে নিয়ে টুকরো টুকরো করে ছিঁড়ে ফেলেন।

​চেয়ারম্যান ও ইউপি সদস্যরা জানান, জালিয়াতির বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করায় আনিসুজ্জামান ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। তিনি প্রকাশ্য দিবালোকে চেয়ারম্যান ও সদস্যদের অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং চেয়ারম্যানকে হত্যার হুমকি দেন। স্থানীয় কুমুরিয়ার চর গ্রামে বাড়ি হওয়ায় তিনি প্রভাব খাটিয়ে প্রায়ই পরিষদের সদস্যদের সাথে অভদ্র আচরণ করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

​আনিসুজ্জামানের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ এটিই প্রথম নয়। এর আগেও তার বিরুদ্ধে​ ২০ সেপ্টেম্বর ২০২২ সালে জেলা প্রশাসক বরাবর অনিয়ম ও সরকারি কার্ডের টাকা আত্মসাতের লিখিত অভিযোগ। ​৪ জানুয়ারি ২০২৫ সালে এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে ইউএনও বরাবর অভিযোগ। ​২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫ দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) অভিযোগ। ​১২ অক্টোবর ২০২৫ বিভাগীয় কমিশনার বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছিল।

​এছাড়া আনিসুজ্জামান ও অপর উদ্যোক্তা মর্জিনা আক্তার নিয়মিত কর্মস্থলে উপস্থিত না থাকায় সাধারণ মানুষ কাঙ্ক্ষিত সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন এবং সরকারি কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে বলে অভিযোগে বলা হয়েছে।

​মাইজবাগ ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ ছায়েদুল ইসলাম বাবুল বলেন, "চেয়ারম্যানের স্বাক্ষর জাল করা অত্যন্ত গুরুতর অপরাধ। সে পরিষদের কোনো নিয়ম মানে না এবং প্রতিবাদ করলে হত্যার হুমকি দেয়। আমরা তার দ্রুত অপসারণ ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।"

​অভিযুক্ত উদ্যোক্তা মোঃ আনিসুজ্জামান বলেন, "আমার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। চেয়ারম্যানের সাথে সামান্য কথা কাটাকাটি হয়েছে মাত্র।"

​উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) সানজিদা রহমান জানান, "এ বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি গুরুত্বের সাথে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।"

সারাদেশ এর আরও সংবাদ

আরো পড়ুন