শ্যালিকার ধর্ষণ মামলা থেকে বাঁচতে ১০ সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মামলা: বিএসকেপির প্রতিবাদ

গণমাধ্যম
শ্যালিকার ধর্ষণ মামলা থেকে বাঁচতে ১০ সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মামলা: বিএসকেপির প্রতিবাদ
১৭ এপ্রিল ২০২৬, ৬:২০ পিএম

যশোরের মণিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ডা. রাফসান জানি নিজের অপকর্ম ঢাকতে ১০ সাংবাদিকের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি মামলা দায়ের করেছেন। এ ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ পরিষদ (বিএসকেপি)। সংগঠনটি এই মামলাকে মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও স্বাধীন সাংবাদিকতার কণ্ঠরোধের চেষ্টা হিসেবে অভিহিত করেছে। 

‎‎গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে বিএসকেপির চেয়ারম্যান আব্দুল মোমিন ও কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি বলেন, যখনই কোনো প্রভাবশালী ব্যক্তির অপকর্ম সংবাদে আসে, তখনই সাংবাদিকদের মুখ বন্ধ করতে চাঁদাবাজির ট্যাগ লাগানো হয়। আমরা ডা. রাফসানের অপকর্মের সুষ্ঠু তদন্ত ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা চাই। অন্যথায় সারাদেশে বিএসকেপির নেতাকর্মীরা রাজপথে নামবে।

‎‎মামলার নথিপত্র পর্যালোচনায় দেখা যায়, ডা. রাফসান জানি যশোর আমলী আদালতে সাংবাদিকের বিরুদ্ধে ৩৮৯/৩৪ ধারায় মামলা করেছেন। তবে মামলার বিবরণ ও বাস্তবতার মধ্যে একাধিক গুরুতর অমিল পাওয়া গেছে। ৮ মার্চ থেকে ১৮ মার্চ পর্যন্ত কথিত হুমকি দেওয়া হলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো আইনি ব্যবস্থা না নিয়ে অনেক পরে মামলা করা হয়েছে, যা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

‎‎মামলায় দাবি করা হয়েছে সাংবাদিকদের প্ররোচনায় শ্যালিকা মামলা করেছেন। অথচ ভুক্তভোগী শ্যালিকা নিজেই সংবাদ সম্মেলন করে দুলাভাই ও বোনের  বিচার দাবি করেছেন। ১৭ বছর বয়সী শালিকার দাবি পড়ালেখার সুবাধে তাকে তার বাসায় রেখে এবং বিভিন্ন স্থানে নিয়ে ইচ্ছার বিরুদ্ধে ধর্ষণ করে। 

‎‎এজাহারে দাবিকৃত অর্থের পরিমাণ একবার ৩০ হাজার এবং অন্য স্থানে ২০ লাখ টাকা উল্লেখ করা হয়েছে। এই অস্বাভাবিক তারতম্য মামলাটিকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির

‎কোনো অডিও, ভিডিও বা লেনদেনের তথ্য ডা. রাফসান আদালতে উপস্থাপন করতে পারেননি। মামলায় অভিযুক্ত সাংবাদিকরা হলেন দৈনিক স্বদেশ বিচিত্রার আসিফ আকবর সেতু, ডিবিসি নিউজের যশোর জেলা প্রতিনিধি সাকিরুল কবীর রিটন, এশিয়ান টিভির যশোর জেলা প্রতিনিধি হাসিবুর রহমান শামীম, দৈনিক নাগরিক ভাবনার মণিরামপুর উপজেলা প্রতিনিধি জাকির হোসেন, কলম কথা'র প্রকাশক ও সম্পাদক সুমন চক্রবর্তী, দৈনিক যশোর বার্তার মণিরামপুর প্রতিনিধি এসএম তাজাম্মুল, আব্দুল হাই, দৈনিক ঘোষণার স্টাফ রিপোর্টার নুর ইসলাম নাহিদ, সংবাদ দিগন্তের মণিরামপুর উপজেলা প্রতিনিধি তহিদুল ইসলাম ও দৈনিক অভয়নগরের ইসমাইল হোসেন।

‎‎সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ভুক্তভোগী নারী নিজেই থানায় গিয়ে অভিযোগ করার পর সাংবাদিকরা তা প্রকাশ করেছেন, যা পেশাগত দায়িত্বের অংশ। প্রকৃত ঘটনা আড়াল করতেই সাংবাদিকদের এই হয়রানিমূলক মামলায় জড়ানো হয়েছে।

গণমাধ্যম এর আরও সংবাদ

আরো পড়ুন