পেন্টাগনে ট্রাম্পের ‘শুদ্ধি অভিযান’
মেয়াদের মাঝপথেই মার্কিন সেনাপ্রধানকে অব্যাহতি
মার্কিন সেনাপ্রধান (চিফ অব স্টাফ) জেনারেল র্যান্ডি জর্জ। ছবিঃ সংগৃহীত
হোয়াইট হাউসে প্রত্যাবর্তনের পর মার্কিন সামরিক বাহিনীতে ব্যাপক রদবদলের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন শুরু করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর প্রশাসনের নির্দেশে এবার খোদ মার্কিন সেনাবাহিনীর শীর্ষ পদে বড় পরিবর্তন আনা হয়েছে। বর্তমান সেনাপ্রধান (চিফ অব স্টাফ) জেনারেল র্যান্ডি জর্জকে মেয়াদের মাঝপথেই দায়িত্ব থেকে সরিয়ে অবসরে পাঠানো হয়েছে।
নবনিযুক্ত মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ দায়িত্ব নিয়েই জেনারেল জর্জকে পদত্যাগ ও অবসরের এই নির্দেশ দেন। পেন্টাগনের মুখপাত্র সিন পারনেল এক বিবৃতিতে এই তথ্য নিশ্চিত করে জানান, সেনাবাহিনীর ৪১তম চিফ অব স্টাফ হিসেবে জেনারেল জর্জের অধ্যায়ের অবসান ঘটছে।
প্রশাসন সূত্রের খবর, ট্রাম্প এবং হেগসেথ সামরিক বাহিনীকে ঢেলে সাজাতে চান। তাঁদের বিশেষ আধুনিকায়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য বর্তমান নেতৃত্বের পরিবর্তে নতুন ও ‘অধিক সক্ষম’ কাউকে খুঁজছেন তাঁরা। ধারণা করা হচ্ছে, জো বাইডেন প্রশাসনের মেয়াদে নিযুক্ত হওয়া এবং সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী লয়েড অস্টিনের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত হওয়ার কারণেই র্যান্ডি জর্জকে এই ভাগ্য বরণ করতে হয়েছে।
সেনাপ্রধান একাই নন, এই ‘শুদ্ধি অভিযানে’ পদ হারিয়েছেন আরও দুই প্রভাবশালী কর্মকর্তা। তাঁরা হলেন— জেনারেল ডেভিড হোডনে,মেজর জেনারেল উইলিয়াম গ্রিন।
জেনারেল জর্জের বিদায়ে সেনাবাহিনীর হাল ধরছেন বর্তমান ভাইস চিফ অব স্টাফ জেনারেল ক্রিস্টোফার লানিভ। তিনি ভারপ্রাপ্ত চিফ অব স্টাফ হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। ৮২তম এয়ারবোর্ন ডিভিশনের কমান্ডিং জেনারেল হিসেবে দায়িত্ব পালনের বিশাল অভিজ্ঞতা রয়েছে লানিভের।
সাধারণত চার বছরের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে মার্কিন সেনাপ্রধানদের পদ থেকে সরানো হয় না। ২০২৩ সালে জো বাইডেন কর্তৃক নিযুক্ত জেনারেল জর্জের মেয়াদ ২০২৭ সাল পর্যন্ত নির্ধারিত ছিল। কিন্তু ট্রাম্পের ‘আমূল পরিবর্তন’ নীতির কারণে তাকে তড়িঘড়ি করে বিদায় নিতে হলো। ইরাক ও আফগানিস্তান যুদ্ধের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন এই ঝানু জেনারেলের বিদায় পেন্টাগনের আগামীর সামরিক কৌশলে বড় পরিবর্তনের স্পষ্ট ইঙ্গিত দিচ্ছে।
আপনার মতামত লিখুন