ড. মাসুদের উদ্যোগে বাউফল স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ১০০ শয্যায় উন্নীতের পথে
পটুয়াখালী বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসক ও প্রয়োজনীয় জনবল সংকটের কারণে ব্যাহত হচ্ছে স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম। ১৯৭৫ সালে প্রতিষ্ঠিত এ হাসপাতালটি ১৯৮৫ সালে ৩১ শয্যায় উন্নীত হয় এবং পরবর্তীতে ২০১৩ সালে ৫০ শয্যায় উন্নীত করা হলেও জনবল কাঠামোয় কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন হয়নি।
বর্তমানে উপজেলার প্রায় সাড়ে চার লাখ মানুষের চিকিৎসাসেবার একমাত্র ভরসা এই হাসপাতালটি। কিন্তু প্রয়োজনীয় চিকিৎসক, নার্স ও সহায়ক কর্মীর অভাবে রোগীরা প্রতিনিয়ত ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। হাসপাতাল সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, মাসিক গড়ে প্রায় ২ হাজার ১০০ জন রোগী এখানে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নেন। জরুরি বিভাগে মাসে প্রায় ১ হাজার ৩৫০ জন রোগী সেবা গ্রহণ করেন, অর্থাৎ প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৪৫ জন। এছাড়া বহির্বিভাগে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১২৮ জন রোগী চিকিৎসাসেবা নিচ্ছেন।
অপরদিকে, বেড অকুপেন্সি রেট প্রায় সময়ই ১০০ শতাংশ ছাড়িয়ে যায় এবং অনেক ক্ষেত্রে তা ১৫০ থেকে ১৮০ শতাংশ পর্যন্ত পৌঁছে, যা হাসপাতালের সীমিত সক্ষমতার ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করছে। ফলে রোগীদের প্রয়োজনীয় সেবা নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়ছে।
বাউফল একটি গুরুত্বপূর্ণ ও জনবহুল উপজেলা হওয়ায় পার্শ্ববর্তী দশমিনা, গলাচিপা, বাকেরগঞ্জসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকেও রোগীরা এখানে চিকিৎসা নিতে আসেন। কিন্তু বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও আধুনিক চিকিৎসা সুবিধার অভাবে অনেক রোগীকেই উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশালসহ দূরবর্তী স্থানে যেতে বাধ্য হতে হচ্ছে।
এ অবস্থায় হাসপাতালটির শয্যা সংখ্যা বৃদ্ধি ও জনবল নিয়োগের দাবি দীর্ঘদিনের। গত ১৫ এপ্রিল পটুয়াখালী-২ (বাউফল) আসনের সংসদ সদস্য ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ স্বাস্থ্যমন্ত্রীর কাছে লিখিতভাবে এ বিষয়ে আবেদন জানান। আবেদনপত্রে তিনি বাউফলের ভৌগোলিক গুরুত্ব, জনসংখ্যা, রোগীর চাপ এবং বিদ্যমান সংকটের বিস্তারিত চিত্র তুলে ধরেন।
এর পরিপ্রেক্ষিতে বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ৫০ শয্যা থেকে ১০০ শয্যায় উন্নীত করার বিষয়ে ইতিবাচক আশ্বাস দিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। এ লক্ষ্যে আগামী জুন মাস পর্যন্ত সময় চাওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রীর এই আশ্বাসে স্থানীয়দের মধ্যে আশার সঞ্চার হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, দ্রুত সময়ের মধ্যে শয্যা বৃদ্ধি, প্রয়োজনীয় চিকিৎসক ও জনবল নিয়োগ এবং আধুনিক চিকিৎসা সুবিধা নিশ্চিত করা গেলে বাউফলের স্বাস্থ্যসেবায় উল্লেখযোগ্য ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।
আপনার মতামত লিখুন