বাঘারপাড়ায় আধিপত্য ও হাট ইজারা নিয়ে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ, আহত ২
যশোরের বাঘারপাড়ায় আধিপত্য বিস্তার ও হাট ইজারা কেন্দ্রিক পুরনো বিরোধের জেরে দুই পক্ষের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত দুইজন আহত হয়েছেন, যার মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। শুক্রবার বিকেলে উপজেলার নারিকেলবাড়িয়া ইউনিয়নের পুনিয়ার বটতলা বাজারে এই মারধরের ঘটনা ঘটে।উত্তেজনা এড়াতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা টিএস আইয়ুব এবং বাঘারপাড়া উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মশিয়ার রহমানের অনুসারীদের মধ্যে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।
স্থানীয় একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে, নাড়িকেলবাড়িয়া হাটের ইজারা ও নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে দুই পক্ষের মধ্যে স্নায়ুযুদ্ধ চলছিল। বর্তমানে হাটটি সাদিকুল ইসলামের পক্ষের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে, যা প্রতিপক্ষ কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছিল না। এর বাইরেও গত নির্বাচনে রাজনৈতিক মেরুকরণ এবং পুরনো একটি মামলার জেরে দুই পক্ষের মধ্যে বৈরিতা চরম আকার ধারণ করে।
শুক্রবার বিকেলে পুনিয়ার বটতলা বাজারে দুই পক্ষ মুখোমুখি হলে সংঘর্ষ বেধে যায়। হামলায় গুরুতর আহত দয়রামপুর গ্রামের সাদিকুল ইসলামকে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অন্য আহত আব্দুল হালিমকে বাঘারপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন সাদিকুল ইসলাম সরাসরি সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মশিয়ার রহমানের দিকে আঙুল তুলেছেন। তার অভিযোগ, বিএনপি নেতা টিএস আইয়ুবের রাজনীতি করার কারণে মশিয়ার রহমান দীর্ঘদিন ধরে তাদের ওপর ক্ষিপ্ত। শুক্রবার বিকেলে মশিয়ার রহমানের সরাসরি উপস্থিতিতে আজিজুর, সোহাগ, আকতারসহ ৪০-৫০ জনের একটি সশস্ত্র দল তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। তাকে হত্যার উদ্দেশ্যেই এই আক্রমণ করা হয়েছিল বলেও তিনি দাবি করেন।
সব অভিযোগ অস্বীকার করে সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মশিয়ার রহমান একে সম্পূর্ণ বানোয়াট ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছেন। তার পাল্টা বক্তব্য, ঘটনার সময় তিনি এলাকায় উপস্থিতই ছিলেন না। গত জাতীয় নির্বাচনে এক পক্ষ ধানের শীষের পক্ষে এবং সাদিকুলরা জামায়াতের পক্ষে অবস্থান নেওয়ার পর থেকেই মূলত বিরোধের শুরু। এলাকায় ইবাদুল নামের একজনের ওপর হামলার একটি পুরনো মামলা রয়েছে, সেই ঘটনার জের ধরেই শুক্রবার দুই পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও সংঘর্ষ হয়েছে।
ঘটনার পর পরই বাঘারপাড়া থানা পুলিশ দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বাঘারপাড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শাহাজালাল আলম জানান, নতুন করে কোনো সহিংসতা এড়াতে পুরো এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পরিস্থিতি এখন সম্পূর্ণ পুলিশের নিয়ন্ত্রণে এবং স্বাভাবিক রয়েছে। হামলার বিষয়ে লিখিত অভিযোগ খতিয়ে দেখে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ এবং দোষীদের চিহ্নিত করে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আপনার মতামত লিখুন