পদ্মানদী রক্ষাবাঁধ প্রকল্পে বিএনপি নেতার ‘দখলদারি’র অভিযোগ

পদ্মানদী রক্ষাবাঁধ প্রকল্পে বিএনপি নেতার ‘দখলদারি’র অভিযোগ

স্থানীয় বিএনপি নেতা রফিকুল ইসলাম ফরাজী। ছবিঃ সংগৃহীত

১০ এপ্রিল ২০২৬, ৫:১০ পিএম

শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার পূর্বনাওডোবা ইউনিয়নে পদ্মা নদীভাঙন রোধে নির্মাণাধীন রক্ষাবাঁধ প্রকল্পে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতার হস্তক্ষেপ, প্রকৌশলীকে মারধর ও কাজ বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। গত ৬ এপ্রিল দুপুরে পৈল্যান মোল্লার কান্দি এলাকায় প্রকল্পের ব্লক তৈরির সাইটে এই ঘটনা ঘটে।

অভিযোগ জানা যায়, স্থানীয় বিএনপি নেতা রফিকুল ইসলাম ফরাজী ও তার ১০-১৫ জন সহযোগী বেঙ্গল কনস্ট্রাকশনের সাইটে গিয়ে নিম্নমানের সরঞ্জাম ব্যবহারের অভিযোগ তুলে কাজ বন্ধ করে দেন। পরবর্তীতে তারা পাশের খুলনা শিপইয়ার্ডের অধীনে পরিচালিত আরেকটি সাইটে গিয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত সিভিল প্রকৌশলী মেহেদী হাসান রাতুলকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত ও মারধর করেন বলে জানা গেছে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে অভিযুক্তদের বলতে শোনা যায়, “এখানে যত কাজ হবে আমরা বিএনপির নেতারাই করব, মালামাল আমরাই সরবরাহ করব, বাইরের কেউ এখানে কাজ করতে পারবে না।”

ভুক্তভোগী প্রকৌশলী মেহেদী হাসান রাতুল জানান, মালামাল নিম্নমানের বলে অভিযোগের প্রেক্ষিতে তিনি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলতে চাইলে অভিযুক্তরা উত্তেজিত হয়ে ওঠেন। ঘটনার ভিডিও ধারণ করতে গেলে তারা তাকে মারধর করে শার্ট ছিঁড়ে ফেলে এবং শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করে।

তবে অভিযুক্ত বিএনপি নেতা রফিকুল ইসলাম ফরাজী মারধরের বিষয়টি অস্বীকার করে দাবি করেন, নিম্নমানের সরঞ্জাম দিয়ে কাজ করায় তারা বাধা দিয়েছেন এবং সেখানে কেবল কথা কাটাকাটি হয়েছে।

শরীয়তপুর জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্রে জানা গেছে, ৩৮৩ কোটি টাকার এই প্রকল্পের মাধ্যমে পদ্মা সেতুর জাজিরা প্রান্ত রক্ষায় বাঁধ পুনর্নির্মাণের কাজ চলছে। পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী খান মোহাম্মদ ওয়ালিউজ্জামান জানান, মারধরের বিষয়টি তাদের জানা নেই, তবে কাজের মান নিয়ে অভিযোগ থাকলে তদন্ত করা হবে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আইনি ব্যবস্থা নিলে পাউবো সব ধরনের সহযোগিতা করবে।

গুরুত্বপূর্ণ এই জাতীয় প্রকল্পে রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার ও সহিংসতার ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। দ্রুত তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

অপরাধ ও দুর্নীতি এর আরও সংবাদ

আরো পড়ুন