নোবিপ্রবি শিক্ষার্থীদের ভাবনায় ঈদুল আযহা: ত্যাগ, সহমর্মিতা ও ভ্রাতৃত্বের বার্তা

ক্যাম্পাস
নোবিপ্রবি শিক্ষার্থীদের ভাবনায় ঈদুল আযহা: ত্যাগ, সহমর্মিতা ও ভ্রাতৃত্বের বার্তা
নিউজ ডেস্ক
২৭ মে ২০২৬, ১১:৫২ এএম

পশ্চিম আকাশে জিলহজের চাঁদ দেখা দিয়েছে। এসেই গেল পবিত্র ঈদুল আযহা। ঈদুল ফিতরের পর এটিই মুসলমানদের দ্বিতীয় বৃহত্তম ধর্মীয় উৎসব। 

ত্যাগের মহিমায় মহিমান্বিত এই উৎসবে মুসলমানরা আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য পশু কোরবানি করেন। কোরবানির ঈদ তাই তাদের কাছে বিশেষ মর্যাদায় উজ্জ্বল। 

এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও ত্যাগের গভীরতা উপলব্ধি করেন এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজেও এই মূল্যবোধ ছড়িয়ে দিতে চান।

আইআইটি বিভাগের শিক্ষার্থী আরাফাত আরিফ বলেন,“ঈদুল আযহা মুসলমানদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব, যা ত্যাগ, আনুগত্য ও মানবতার শিক্ষা দেয়। এই দিনের মূল তাৎপর্য নিহিত রয়েছে হযরত ইবরাহিম (আ.)-এর মহান আত্মত্যাগের স্মৃতিতে। আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের উদ্দেশ্যে মুসলমানরা কুরবানি আদায় করে এবং ত্যাগের চেতনা হৃদয়ে ধারণ করে। কুরবানির মাংস আত্মীয়স্বজন, প্রতিবেশী ও অসহায় মানুষের মাঝে বিতরণের মাধ্যমে ভ্রাতৃত্ব ও সহমর্মিতা বৃদ্ধি পায়। ঈদুল আযহা ধনী-গরিব সকলের মধ্যে আনন্দ ও সম্প্রীতির বার্তা ছড়িয়ে দেয়। এটি আমাদের লোভ, অহংকার ও স্বার্থপরতা পরিহার করে মানবকল্যাণে কাজ করার শিক্ষা দেয়। ত্যাগ ও মানবতার এই মহান আদর্শ আমাদের ব্যক্তিগত ও সামাজিক জীবনকে আরও সুন্দর ও কল্যাণময় করে তোলে।”

কৃষি বিভাগের শিক্ষার্থী আরেফিন সানজিদ বলেন, “পবিত্র ঈদুল আযহা এখন সবার দুয়ারে উপস্থিত। এই ঈদের মূল শিক্ষা নিহিত রয়েছে ত্যাগ, আত্মসমর্পণ ও আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের মহান আদর্শে। হযরত ইবরাহিম (আ.) ত্যাগের  যে অতুলনীয় মানসিকতা ও আনুগত্যের নিদর্শন স্থাপন করেছিলেন  তা মানবজাতির জন্য এক অনন্য শিক্ষা হয়ে আছে। সেই ত্যাগের আদর্শকে স্মরণ করেই সামর্থ্যবান মুসলমানরা আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে পশু কুরবানি করে থাকেন। পবিত্র ঈদুল আযহার ত্যাগ, সহমর্মিতা ও ভ্রাতৃত্বের চেতনা আমাদের ব্যক্তিগত, সামাজিক ও জাতীয় জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন বয়ে আনুক।ধনী-গরীব নির্বিশেষে ইদের আনন্দ ছড়িয়ে পড়ুক সমাজের প্রতিটি স্তরে।”

ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগের শিক্ষার্থী আল আমিন বলেন,“ঈদুল আযহা: আমাদের সবাইকে একত্রিত করার এক অনন্য মাধ্যম। আমরা ক্যাম্পাসের শিক্ষার্থীরা যখন ক্লাস, এক্সাম, অ্যাসাইনমেন্টের ধকলে ক্লান্ত, তখন ঈদুল আযহার অবকাশ পেয়ে পরিবারের নিকট নাড়ির টানে ফিরে যাই। এটি আমাদের মাঝে শুধুই উৎসবের আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং ধর্মীয় অনুশাসন ও সামাজিক দায়বদ্ধতার একটি অংশ বটে। আমরা আমাদের পরিবার, সমাজ—সকলের অনেক কাছাকাছি এসে একত্রিত হতে পারি। ত্যাগের মহিমা উজ্জীবিত করতে কোরবানির ঈদ আমাদের মাঝে শিক্ষা দিয়ে যায়। আমাদের সকলের ঈদ কাটুক অত্যন্ত সুন্দর ও পবিত্রতার সাথে।”

পরিসংখ্যান বিভাগের শিক্ষার্থী ওমর ফারুক বলেন,“আমাদের সমাজে সহমর্মিতা ও মানবিকতা প্রতিষ্ঠার এক অনন্য মাধ্যম ঈদুল আযহা। দুই ঈদের এই অবকাশের সময়টির জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষায় থাকে প্রতিটি শিক্ষার্থী। ক্যাম্পাসের প্রতিটি শিক্ষার্থী ঈদ আনন্দকে ভাগাভাগি করতে নিজের আঙিনায় ফিরে যায় এই সময়ে। বছর ঘুরে আমাদের মাঝে আসে আত্মত্যাগ, সহমর্মিতা, ধর্মীয় অনুশাসন ও পূর্ণ আনুগত্যের এক অনন্য উদাহরণ: কুরবানীর ঈদ। আত্মীয়-স্বজন ও প্রতিবেশীদের পাশাপাশি সমাজের প্রতিটি স্তরের মানুষকে সাথে নিয়ে, কোরবানির পবিত্র মাংস বণ্টনের মধ্য দিয়ে আমাদের সমাজে সমতার এক অনন্য উদাহরণ সৃষ্টি হয়। ভাগাভাগি ও সুষম বণ্টনের এই সংস্কৃতি যুগ যুগ ধরে আমাদের জন্য শিক্ষা হয়ে বেঁচে থাকুক। ঈদুল আযহার প্রকৃত শিক্ষা যদি আমরা সারা বছর আমাদের মনে ও কর্মে ধারণ করতে পারি, তবে সমাজে শান্তি, সৌহার্দ্য ও মানবিকতা আরও বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে। ত্যাগের মহিমায় ভাস্বর হয়ে উঠুক প্রতিটি জীবন, এবং পরিচ্ছন্ন ও সুস্থ পরিবেশে উদযাপিত হোক পবিত্র ঈদুল আযহা। সবাইকে ঈদের শুভেচ্ছা—ঈদ মোবারক!”