প্রভোস্টকে হলের অবৈধ সিট বাতিল করতে বলাকে কেন্দ্র করে ছাত্রদল সভাপতির সাথে বাদানুবাদ, যা জানা গেলো
নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) আব্দুল মালেক উকিল হলে অবৈধভাবে অবস্থান করা শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করে হল প্রভোস্ট ড. তসলিম মাহমুদ ও নোবিপ্রবি ছাত্রদল সভাপতি জাহিদ হাসানের মধ্যে বাদানুবাদের ঘটনা ঘটেছে।
জানা যায়, আব্দুল মালেক উকিল হলে অনেক শিক্ষার্থী নিজেদের বরাদ্দকৃত সিটে না থেকে পছন্দের জুনিয়র বা অন্যদের সেখানে থাকতে দেন। এতে একই রুমে বৈধভাবে থাকা শিক্ষার্থীরা নানা ধরনের ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার হল প্রশাসনকে জানানো হলেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলেও অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীরা।
অভিযোগ জানিয়ে মালেক উকিল হলের আবাসিক শিক্ষার্থী ইয়াকুব শেখ বলেন, “আমি ৩০১ নম্বর রুমের এলটমেন্টপ্রাপ্ত একজন বৈধ আবাসিক শিক্ষার্থী। বৈধভাবে এলটমেন্ট পাওয়া ছাত্রদলের সহ-সভাপতি সাব্বির হোসেন শান্ত ভাই আমার রুমমেট হলেও শুরু থেকেই তিনি সিটে থাকতেন না। তার সিটে বিভিন্ন সময়ে নন-এলোটেড জুনিয়র শিক্ষার্থীরা অবস্থান করতেন।”
তিনি আরও বলেন, “বিষয়টি আমি ছাত্রদল সভাপতি জাহিদ ভাইয়ের কাছে অভিযোগ জানালে তিনি হল সংক্রান্ত বিষয় হওয়ায় হল প্রভোস্টকে জানাতে বলেন। আমিও এ বিষয়ে হল প্রশাসনের সাথে যোগাযোগ করি। একাধিকবার হল প্রভোস্ট ও সংশ্লিষ্ট সহকারী প্রভোস্টদের জানানো হলেও তারা রুমে এসে সত্যতা পাওয়ার পরও কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেননি।”
আরেক শিক্ষার্থী অভিযোগ করে বলেন, “হলের সিট একজনের নামে থাকলেও সেখানে অন্যজন অবস্থান করে। একেক সময় একেকজন এসে বিভিন্ন ‘ভাইয়ের’ পরিচয়ে রুমে ওঠে। এসব বিষয়ে হল প্রশাসনের কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।”
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা জানান, হল প্রশাসনের কাছ থেকে কাঙ্ক্ষিত প্রতিকার না পেয়ে তারা বিষয়টি নোবিপ্রবি ছাত্রদল সভাপতি জাহিদ হাসানকে অবগত করেন। পরে তিনি হলে অবৈধভাবে অবস্থানকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হল প্রভোস্টকে অনুরোধ জানান।
তবে দীর্ঘদিন যাবৎ এ বিষয়ে একাধিকবার বলার পরও কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ না নেওয়ায় বৃহস্পতিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে হল প্রভোস্ট ড. তসলিম মাহমুদের সাথে জাহিদ হাসানের বাদানুবাদের ঘটনা ঘটে। এ সময় ছাত্রদল সভাপতিকে বলতে শোনা যায়, “আমরা ইতিবাচক রাজনীতি করতে চাই। অবৈধভাবে হলে কেউ থাকতে পারবে না, সবাই শুনুক!”
এ বিষয়ে জানতে চাইলে নোবিপ্রবি ছাত্রদল সভাপতি জাহিদ হাসান বলেন, “হলে অবৈধভাবে অবস্থান করা শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য আমি একাধিকবার প্রভোস্ট স্যারকে জানিয়েছি। আমার কাছে এ সংক্রান্ত তথ্য থাকায় বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তুলে ধরেছি। এমনকি অবৈধভাবে অবস্থানকারীরা ছাত্রদলের কেউ হলেও তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ করেছি, সত্যিকার অর্থে আমরা শিক্ষার্থীবান্ধব এবং ইতিবাচক রাজনীতি করতে চাই । তবে এ বিষয়ে দীর্ঘদিনেও কোনো কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়ায় স্যারের সাথে বাদানুবাদের ঘটনা ঘটে। পরে এ ঘটনায় আমি স্যারের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছি।”
এ বিষয়ে হল প্রভোস্ট ড. তসলিম মাহমুদ বলেন, “তারা অভিযোগ করেছিল ছাত্রদলের এক সহ-সভাপতি হলে থাকেন না। বিষয়টি জানার পর আমি একবার রুমে গিয়ে দেখি, তিনি সেখানে অবস্থান করছেন না। পরে আমরা তাকে নোটিশ দিই। নোটিশ পাওয়ার পর তিনি আবেদন করে জানান, কিছুদিন হলে ছিলেন না, এখন আবার নিয়মিত থাকতে চান।পরে সংশ্লিষ্ট সহকারী প্রভোস্টরা আবেদন পুনর্বিবেচনা করে তাকে আবার থাকার অনুমতি দেন।”
তিনি আরও বলেন, “পুনর্বিবেচনার পরও আবার অন্য একজন জুনিয়র শিক্ষার্থী সিটে উঠেছে—এমন অভিযোগ আসায় আমি দায়িত্বপ্রাপ্ত সহকারী প্রভোস্টদের আবার তদন্ত করতে বলেছি। তদন্ত চলাকালীন সময়েই এই বাদানুবাদের ঘটনা ঘটে।”
আপনার মতামত লিখুন