মোংলা ডিপোতে ১২,৬১৩ লিটার তেলের গরমিল, ম্যানেজার বরখাস্ত
বাগেরহাটের মোংলায় যমুনা অয়েল কোম্পানি লিমিটেডের তেল স্থাপনায় (অয়েল ইনস্টলেশন) ডিজেল মজুত নিয়ে বড় ধরনের গরমিল ধরা পড়েছে। ওই স্থাপনার তিনটি ট্যাংকে হিসেবের অতিরিক্ত ১২ হাজার ৬১৩ লিটার তেল পাওয়া গেছে, যা কোম্পানির হিসাবের খাতায় ছিল না।
শনিবার (২৮ মার্চ) রাত ১২টা ৩৯ মিনিট থেকে ভোর পর্যন্ত যৌথ অভিযানের সময় তেলের মজুতের ব্যাপক অনিয়ম ও গরমিলের বিষয়টি ধরা পড়ে।
অভিযান চলাকালে যমুনা অয়েল কোম্পানি লিমিটেডের ম্যানেজার (অপারেশনস) মো. আল আমিন খানের অনুপস্থিতিতে কম্পিউটার অপারেটর (অস্থায়ী) মো. ফারুক হোসাইন দাপ্তরিক রেজিস্ট্রার ও হিসাব উপস্থাপন করেন। এ ঘটনায় রোববার (২৯ মার্চ) জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে একটি বিস্তারিত প্রতিবেদন বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনে (বিপিসি) পাঠানো হয়েছে।
পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদনে সই করেছেন বাগেরহাটের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (উন্নয়ন ও মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা) অনুপ দাশ, মেঘনা পেট্রোলিয়াম লিমিটেডের ম্যানেজার (অপারেশনস) প্রবীর হীরা, বাংলাদেশ নৌবাহিনী বানৌজা মোংলার লেফটেন্যান্ট কমান্ডার (বিএন) রাইয়ান আলম, বাংলাদেশ নৌবাহিনী বানৌজা মোংলার এসএইচএ আবুল কাশেম, কোস্ট গার্ড পশ্চিম জোনের লেফটেন্যান্ট বিএন খালিদ সাইফুল্লাহ, যমুনা অয়েল মোংলার গেজারম্যান মো. জাহিদুর রহমান, বানৌজা মোংলার চিফ পোর্ট অফিসার মো. মিজানুর রহমান, মোংলা থানার এসআই মো. ইমামুল ইসলাম ও যমুনা অয়েলের কম্পিউটার অপারেটর (অস্থায়ী) মো. ফারুক হোসাইন।
এ ঘটনায় যমুনা অয়েল কোম্পানি লিমিটেডের ম্যানেজার (অপারেশনস) মো. আল আমিন খানকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে এবং কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। তেলের গরমিল পাওয়া ট্যাংকগুলো সিলগালা করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন যমুনা অয়েলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আমির মাসুদ।
পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, যৌথ অভিযানের সময় পরিমাপ করে এই ট্যাংকে ডিজেল পাওয়া যায় ১২ লাখ ৫৯ হাজার ৮৯২ লিটার। যা অফিশিয়াল হিসাবের তুলনায় ১ হাজার ১৩৭ লিটার কম। সব মিলিয়ে মজুতের হিসাবের তুলনায় অতিরিক্ত ডিজেল পাওয়া যায় ১২ হাজার ৬১৩ লিটার।
অভিযানকারী দল ডিপোর তিনটি প্রধান ট্যাংক (নং ১, ৯ ও ১৪) পরিমাপ করে। এতে দেখা যায়, ২৮ মার্চ পাঠানো অফিশিয়াল স্টেটমেন্টের সঙ্গে বাস্তব মজুতের মিল নেই। ১ নম্বর ট্যাংকে অফিশিয়াল হিসাব অনুযায়ী ডিজেল ছিল ১২ লাখ ৯৭ হাজার ৮১৫ লিটার। অভিযানের সময় পরিমাপ করা হলে সেখানে ছিল ১২ লাখ ৯৮ হাজার ৭৪৭ লিটার, অর্থাৎ ৯৩২ লিটার বেশি। ৯ নম্বর ট্যাংকে হিসাবের খাতায় তেল ছিল ২৪ লাখ ৭ হাজার ৬৭৭ লিটার; কিন্তু পরিমাপে পাওয়া যায় ২৪ লাখ ২০ হাজার ৪৯৫ লিটার, অর্থাৎ ১২ হাজার ৮১৮ লিটার বেশি। ১৪ নম্বর ট্যাংকে অফিশিয়াল হিসাব অনুযায়ী ডিজেল ছিল ১২ লাখ ৫৮ হাজার ৭৫৫ লিটার।
বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লে. কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানান, কোস্ট গার্ড, নৌবাহিনী, পুলিশ, এনএসআই ও জেলা প্রশাসনের সমন্বয়ে মোংলা অয়েল ইনস্টলেশন এলাকায় যৌথ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানের সময় তিনটি ট্যাংকে সংরক্ষিত জ্বালানি তেলের পরিমাণ সরেজমিনে পরিমাপ এবং সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করে অবৈধভাবে মজুদকৃত প্রায় ১২ হাজার ৬১৩ লিটার তেল পাওয়া যায়, যার মূল্য প্রায় ১২ লাখ ১০ হাজার ৮৫০ টাকা।
বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেন বলেন, বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনের পরিদর্শন দলের অংশ হিসেবে মোংলায় অভিযান চালানো হয়েছে। বিস্তারিত প্রতিবেদন পাঠানো হয়েছে এবং তারা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন।
আপনার মতামত লিখুন