মেশিন চালু রাখার তেলও শেষ, বন্ধ হলো ইস্টার্ন রিফাইনারি
ইস্টার্ন রিফাইনারি। ছবি: সংগৃহীত
দেশের একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত তেল শোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেড (ইআরএল) অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ হয়ে গেছে। আমদানিকৃত অপরিশোধিত তেলের (ক্রুড অয়েল) তীব্র সংকটে গত রোববার বিকেল থেকে প্রতিষ্ঠানটির পরিশোধন কার্যক্রম পুরোপুরি থমকে যায়। মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতায় গত দুই মাস ধরে তেলের চালান না আসায় এই নজিরবিহীন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের তথ্যমতে, ইরান-ইসরায়েল উত্তেজনার প্রভাবে গত ১৮ ফেব্রুয়ারির পর দেশে অপরিশোধিত তেলের কোনো চালান আসেনি। সর্বশেষ ৬ এপ্রিল পরিশোধনের উপযোগী তেলের মূল মজুত শেষ হয়ে যায়। এরপর উৎপাদন সচল রাখতে কক্সবাজারের মহেশখালীর পাইপলাইনে আটকে থাকা ৫ হাজার টন এবং পাঁচটি স্টোরেজ ট্যাঙ্কের তলানিতে জমে থাকা প্রায় ৩৩ হাজার টন ‘ডেড স্টক’ তেল ব্যবহার করা হয়। গত রোববার সেই তলানির তেলও শেষ হয়ে যাওয়ায় শোধনাগারটি বন্ধ করতে বাধ্য হয় কর্তৃপক্ষ।
ইআরএল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আগামী ১০ মে’র আগে রিফাইনারি চালুর কোনো সম্ভাবনা নেই। ওই সময়ে মধ্যপ্রাচ্য থেকে অপরিশোধিত তেলের নতুন একটি চালান আসার কথা রয়েছে। বর্তমানে উৎপাদন বন্ধ থাকলেও এই সময়ে শোধনাগারের প্রয়োজনীয় মেরামত বা মেইনটেন্যান্স কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।
ইআরএল সাধারণত দৈনিক গড়ে ৪ হাজার ৫০০ টন ক্রুড তেল পরিশোধন করে ১৬ ধরনের জ্বালানি পণ্য উৎপাদন করে। তবে শোধনাগার বন্ধ হলেও দেশে জ্বালানি তেলের সংকটের কোনো আশঙ্কা নেই বলে জানিয়েছে জ্বালানি বিভাগ। তাদের দাবি, দেশে সরাসরি আমদানিকৃত পরিশোধিত জ্বালানি তেলের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে, যা দিয়ে অভ্যন্তরীণ চাহিদা মেটানো সম্ভব হবে।উল্লেখ্য, প্রতিবছর দেশে প্রায় ৭০ লাখ টন জ্বালানি তেলের চাহিদার বিপরীতে ১৫ লাখ টন অপরিশোধিত তেল ইআরএলে পরিশোধন করা হয়। বাকি বড় অংশটি সরাসরি পরিশোধিত অবস্থায় আমদানি করা হয়।
আপনার মতামত লিখুন