উল্লাপাড়ায় দলবেধে কাজে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী নারী - পুরুষেরা

সারাদেশ
উল্লাপাড়ায় দলবেধে কাজে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী নারী - পুরুষেরা
০৭ জুন ২০২৬, ৯:০২ পিএম

সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় সমতল ভূমির ক্ষুদ্র নৃ গোষ্ঠীর নারী ও পুরুষেরা দলবেধে  বোরো ধান কাটছেন। পুরুষদের সাথে কাজে সমান খাটুনিতে নারীদের সমান টাকা মিলছে। মজুরির টাকা সমান ভাগে ভাগ করে নিচ্ছেন। এরা  বিঘা চুক্তিতে জমিতে বোরো ধান কাটছেন। একজনের  দিনের মজুরিতে এগারো থেকে বারোশো  টাকা ভাগে পাচ্ছেন বলে জানা গেছে। অপরদিকে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর নারীরা কৃষকদের ধান কাটার বিনিময়ে খড় নেবেন চুক্তিতে ধান কেটে দিচ্ছেন।


উল্লাপাড়া উপজেলার উধুনিয়া ইউনিয়নের  ফাজিলনগর , বেলাই  ও তেলিপাড়া গ্রামে ক্ষুদ্র নৃ গোষ্ঠীর প্রায় একশো পরিবারের বসবাস আছে বলে জানা গেছে। তিন গ্রামে বসতি সমতল ভূমির ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মাহাতো, মুন্ডারী গোত্রের পরিবারগুলো পুরুষদের বেশিজনই  কৃষি পেশায় কাজ করেন। পুরুষদের  পাশাপাশি পরিবারের নারীদের অনেকেই  মাঠের কৃষি কাজ করেন। বাঙ্গালা ইউনিয়নের প্রতাপে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী ঘাশিমালো গোত্রের  প্রায় পচিশ পরিবার বসবাস করছেন। এখানকার ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর নারীরা মাঠের কাজে মজুরি বেচেন। এখন মাঠে বোরো ধান কাটা চলছে। ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী নারীদের অনেকেই বোরো ধান কাটায় মজুরি খাটছেন। 


সরেজমিনে ফাজিলনগর পশ্চিমচড়া  মাঠে গিয়ে দেখা গেছে প্রতাপ গ্রামের বসতি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর চারজন নারী ও পাচজন পুরুষ  দলবেধে বোরো ধান কাটছেন। নারী শ্রমিকেরা হলেন - আলোমতি ঘাশিমালো , রীতা রাণী , কল্পনা , রেনুকা । আর পুরুষ তিনজন হলেন - রবি ঘাশিমালো , আনন্দ , শ্রীচন্দ্র  ,  রনি ও রঞ্জন । এরা জানান এবারের মৌসুমে  নয়জনে দলবেধে চুক্তিতে ধান কাটছেন। এক বিঘা জমির ধান কাটা ও  বয়ে কৃষকের উঠোন আঙ্গিনায় এনে মাড়াই করে দেওয়ায়  সাত হাজার টাকা নিচ্ছন। তারা আগে দর দাম  মিটিয়ে নিয়ে ধান কাটার কাজ করছেন। এরা সকাল সাতটার দিকে কাজ শুরু করেন বলে জানান। প্রতিবেদককে নারী শ্রমিকেরা বলেন তারা পুরুষদের সমান খাটনি করেন। ধান কেটে মজুরির টাকা সমান ভাগে ভাগ করে নেন। এখন দিনের মজুরিতে বারো থেকে চোদ্দশো টাকা হয় বলে এরা জানিয়েছেন।


অপরদিকে ফাজিলনগর পূর্ব মাঠে মাহাতো পদবীর তিনজন নারী শ্রমিককে বোরো ধান কাটতে দেখা গেছে। ফাজিলনগর গ্রামের তিন জন হলেন - মায়া রাণী মাহাতো , অর্চনা মাহাতো ও পার্বতী মাহাতো। প্রতিবেদককে মায়া রাণী মাহাতো বলেন এবারে ধান কাটতে মজুরি বাবদ টাকা নিচ্ছেন না। ধান কেটে দিয়ে মজুরি বাবদ কেটে দেওয়া  ধানের খড় নিচ্ছেন।