ত্যাগের মহিমায় ভাস্বর হোক কোরবানি

ধর্ম
ত্যাগের মহিমায় ভাস্বর হোক কোরবানি
নিউজ ডেস্ক
২৮ মে ২০২৬, ৭:৫৭ এএম


পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেন, আল্লাহর দরবারে কোরবানির গোশত ও রক্ত কোনো কিছুই পৌঁছায় না, পৌঁছায় শুধু তোমাদের তাকওয়া। (সূরা হজ, আয়াত-৩৭)।


ঈদুল আজহা আমাদের জীবনে শুধু উৎসবের বার্তা নিয়ে আসে না-এতে রয়েছে আত্মত্যাগ, আনুগত্য ও তাকওয়ার এক গভীর শিক্ষা। কোরবানি কোনো সামাজিক প্রতিযোগিতা নয়, এটি আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের এক মহান ইবাদত। তাই কোরবানির মূল চেতনা হওয়া উচিত—কেবল রবের উদ্দেশ্যে।


কোরবানি কী?


কোরবানি শব্দটি আরবি কোরবান থেকে এসেছে। এর শাব্দিক অর্থ হলো—নিকটবর্তী হওয়া, সান্নিধ্য লাভ করা বা আল্লাহর নৈকট্য অর্জন। অর্থাৎ, কোরবানির মাধ্যমে বান্দার মহান রাব্বুল আ'লামিনের নৈকট্য ও সন্তুষ্টি লাভের চেষ্টা করা।


ইসলামী পরিভাষায় কোরবানিকে ‘উযহিয়া’ বলা হয়। এটি মূলত হয়রত ইব্রাহিম (আ.) ও হয়রত ইসমাইল (আ.)এর মহান ত্যাগ ও ধৈর্য্যের স্মৃতিবাহী ইবাদত।


কোরবানির প্রেক্ষাপট


আল্লাহর অশেষ রহমতে ৮৬ বছর বয়সে সন্তানের পিতা হন হজরত ইব্রাহিম (আ.)। বিবি হাজেরার গর্ভে জন্ম হয় হজরত ইসমাইলের (আ.) । কিন্তু আল্লাহ তায়ালা স্বপ্নের মাধ্যমে নির্দেশ দিলেন প্রিয় বস্তু তথা স্বীয় পুত্র ইসমাইলকে কোরবানি করার। হজরত ইব্রাহিম (আ.) সিদ্ধান্ত নিলেন আল্লাহর নির্দেশ পালন করার। চলতে চলতে পুত্রকে জানালেন আল্লাহর হুকুমের কথা। পবিত্র কোরআনে এসেছে, আল্লাহ তাআলা বলেন- অতঃপর যখন সে (ইসমাইল) তার পিতার সঙ্গে চলাফেরার বয়সে পৌঁছল, তখন ইব্রাহিম বললেন, হে আমার প্রিয় পুত্র! আমি স্বপ্নে দেখেছি যে, তোমাকে জবাই করছি। উত্তরে সে বলল, হে আমার পিতা! আপনাকে যা আদেশ করা হয়েছে আপনি তা-ই করুন। ইনশাআল্লাহ, আমাকে ধৈর্যশীলদের অন্তর্ভুক্ত পাবেন।'( সূরা আস-সাফফাত: ১০২)


হজরত ইব্রাহিম (আ.) পুত্র ইসমাইলকে কোরবানি করার উদ্দেশ্যে মাটিতে শুইয়ে দিলেন। আল্লাহ রাব্বুল আলামিন তাদের ধৈর্য্য এবং আত্মত্যাগের চেষ্টায় সন্তুষ্ট হয়ে ইসমাইলের (আ.) স্থানে একটি দুম্বা পাঠিয়ে দেন এবং দুম্বা কোরবানি হয়ে যায়৷


ঈদুল আজহা আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় হজরত ইব্রাহিমের (আ.) সেই অতুলনীয় ত্যাগের কথা, যখন তিনি আল্লাহর নির্দেশে নিজের প্রিয় পুত্রকে উৎসর্গ করতে প্রস্তুত হয়েছিলেন। আল্লাহর নির্দেশ পালনে হজরত ইব্রাহিম (আ.) আনুগত্যের যে নজির স্থাপন করেছিলেন, সেটিই কিয়ামত পর্যন্ত মুসলমানদের জন্য ত্যাগের সর্বোচ্চ শিক্ষা। এটি আজও সমান প্রাসঙ্গিক, আল্লাহর ভালোবাসার কাছে দুনিয়ার সবকিছুই তুচ্ছ।


কোরবানি করার সময় লক্ষ্যণীয় বিষয়


কোরবানি হলো আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টি অর্জনের উদ্দেশ্যে নির্দিষ্ট দিনে নির্ধারিত পশু আল্লাহর নামে জবাই করা। এটি ইসলামের একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত-যা ত্যাগ, আনুগত্য ও তাকওয়ার শিক্ষা দেয়। ১০ জিলহজ ঈদের নামাজের পর হতে ১২ জিলহজ সন্ধ্যা পর্যন্ত, এই তিনদিন কোরবানি করার সময়। কোরবানি করার সময় পশুকে কিবলামুখী করে মাথার দিক দক্ষিণে রেখে শুইয়ে কোরবানি করতে হবে। তবে এক্ষেত্রে নিয়তের ব্যাপারে বিশেষ সতর্ক থাকতে হবে।রাসূল (স.) বলেন, নিশ্চয়ই সব কাজ নিয়তের উপর নির্ভরশীল।( সহিহ বুখারি, হাদিস: ১)


কোরবানি করার ক্ষেত্রে যা জানা প্রয়োজন


১। যাদের উপর সদকা ফিতর ওয়াজিব তাদের উপর কোরবানি ওয়াজিব। অর্থাৎ ১০ জিলহজ ফজর থেকে ১২ জিলহজ সন্ধ্যা পর্যন্ত সময়ের মধ্যে কেউ নিসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক হলে তার উপর কোরবানি করা ওয়াজিব৷ তবে মুসাফিরের উপর সফর অবস্থায় কোরবানি ওয়াজিব নয়।


২। ১০ জিলহজ ঈদের নামাজের পর থেকে ১২ জিলহজ সন্ধ্যা পর্যন্ত কোরবানি করার সময়। তবে প্রথমদিন ঈদের নামাজের পর করা সর্বোত্তম, তারপর দ্বিতীয় দিন, তারপর তৃতীয় দিন৷


৩। নিজের কোরবানি নিজের হাতে জবাই করা মুস্তাহাব। নিজে না পারলে অন্যের দ্বারা করানো যাবে৷ তবে সামনে উপস্থিত থাকা ভালো।


৪। কোরবানি করার সময় মুখে নিয়ত ও দোয়া উচ্চারণ করা জরুরি নয়। মনে মনে নিয়ত করে মুখে শুধু ‘বিসমিল্লাহি আল্লাহু আকবর’ বলে জবাই করলেও হবে।


৫। ছাগল, ভেড়া, দুম্বা, গরু, মহিষ, উট প্রভৃতি পালিত পশু দ্বারা কোরবানি করা যাবে। গরু, মহিষ এবং উটে এক থেকে সাত জন পর্যন্ত ভাগীদার হতে পারে। কিন্তু শর্ত হচ্ছে, কারো অংশ যেন এক-সপ্তমাংশের কম না হয় এবং প্রত্যেকের নিয়ত খাঁটি তথা পরিশুদ্ধ হয়।


৬। কোরবানির পশুর বয়স ছাগল (১ বছর), গরু-মহিষ (২ বছর) এবং উট (৫ বছর) হতে হবে৷ এর কম হলে কোরবানি হবে না। দুম্বা, ভেড়া ও ছাগল এক বছর বয়সের হতে হবে। তবে ছয় মাসের বেশি বয়সের দুম্বা যদি স্বাস্থ্যবান ও এক বছর বয়সী মনে হয় তবে সেটি কোরবানি করা যাবে।


৭। কোরবানির গোশত নিজে খাবে, পরিবারবর্গ ও আত্মীয়-স্বজনকে খাওয়াবে। গরীব- মিসকিনকে এক-তৃতীয়াংশ দান করবে। কোরবানিকৃত পশুর চামড়ার মূল্য মসজিদ, মাদ্রাসা মেরামত বা অন্য কোনো ভালো কাজে ব্যয় করা জায়েজ নয়। এর মূল্য অবশ্যই দান করে দিতে হবে।


কোরবানির রয়েছে রাজনৈতিক গুরুত্বও


কোরবানি নিছক একটি ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা নয়, এটি মুসলমানের পরিচয়, আত্মত্যাগ, স্বাধীন ধর্মীয় চর্চা এবং সামাজিক অস্তিত্বের প্রতীক। ইতিহাসের নানা অধ্যায়ে কোরবানিকে ঘিরে রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক দ্বন্দ্বও দেখা গেছে। উপমহাদেশের ইতিহাসে সিলেটে শাহজালালের (রহ.) আগমনের পেছনেও 'গরু জবাই' কেন্দ্রিক বিরোধের ঘটনা আলোচিত হয়। কথিত আছে, তৎকালীন সিলেট অঞ্চলে শাসন করতেন হিন্দু রাজা গৌড় গোবিন্দ। ওই সময় সিলেটের টুলটিকর এলাকায় বসবাস করতেন এক মুসলমান অধিবাসী, নাম বুরহানউদ্দিন। দীর্ঘদিন নিঃসন্তান থাকার পর বোরহানউদ্দিনের একটি পুত্রসন্তান হয়। সন্তানের আকিকার জন্য তিনি ইসলামী বিধান অনুযায়ী একটি গরু জবাই করেন। এ খবর রাজা গৌড় গোবিন্দ শোনামাত্র প্রচণ্ড ক্ষুব্ধ হন। তার মতে মুসলমানরা গরু জবাই করে 'রাজ্যের ধর্মীয় পবিত্রতা' নষ্ট করেছে। এরপর বুরহানউদ্দিনের ওপর নেমে আসে ভয়াবহ নির্যাতন। রাজা গৌড় গোবিন্দ তার শিশুপুত্রকে হত্যা করে এবং বুরহানউদ্দিনের হাত কেটে দেয়া হয়। নির্যাতিত বুরহানউদ্দিন তখন বাংলার মুসলিম শাসকদের কাছে বিচার ও সাহায্য প্রার্থনা করেন। পরে সুলতান শামসুদ্দিন ফিরোজ শাহের আমলে শাহজালাল (রহ.) তার ৩৬০ জন যোদ্ধাসহ সিলেটে প্রবেশ করেন এবং গৌড় গোবিন্দকে পরাজিত করেন। তার সঙ্গী-সাথীদের নিয়ে সিলেটের দিকে অগ্রসর হন। এরমধ্য দিয়ে সিলেটে মুসলিম শাসনের সূচনা ঘটে।


উল্লেখিত ঘটনাটি ইতিহাসে শুধু একটি ধর্মীয় সংঘাত নয়, এটি ছিল তৎকালীন সমাজে ধর্মীয় স্বাধীনতা, সামাজিক ক্ষমতা ও রাজনৈতিক কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়।


আজকের ভারতেও গরু কোরবানি কেবল ধর্মীয় ইস্যু নয়, বহু ক্ষেত্রে এটি মুসলমানদের ধর্মীয় স্বাধীনতা ও নাগরিক অধিকারের প্রশ্নে পরিণত হয়েছে। বিভিন্ন রাজ্যে গরু জবাই নিষিদ্ধকরণ, কোরবানিকে কেন্দ্র করে হামলা, হয়রানি কিংবা গোরক্ষার নামে সহিংসতা- এসব ঘটনাকে অনেকাংশেই মুসলিম পরিচয়কে সার্বিকভাবে সংকুচিত করার রাজনৈতিক প্রচেষ্টার বহিঃপ্রকাশ। ফলে কোরবানি আজও শুধু ইবাদত নয়, বরং নিজের বিশ্বাস ও অধিকারের প্রশ্নেও এক প্রতীকী অবস্থান বহন করে।


সালাত ও কোরবানির আন্তঃসম্পর্ক


পবিত্র কোরআনে সালাত ও কোরবানিকে বেশ কিছু আয়াতে একসঙ্গে উল্লেখ করা হয়েছে। যেমন: অতএব তুমি তোমার রবের উদ্দেশ্যে সালাত আদায় করো এবং কোরবানি করো।(সূরা আল-কাওসার, আয়াত ২)।


এই আয়াতে আল্লাহ তায়ালা একসঙ্গে দুটি মহান ইবাদতের কথা বলেছেন, সালাত ও কোরবানি। মুসলমান স্কলারদের মতে মুমিনদের উদ্দেশ্যে আল্লাহ তায়ালা এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিয়েছেন। সালাত যেমন একমাত্র আল্লাহর জন্য আদায় করতে হয়, তেমনি কোরবানিও হতে হবে শুধুমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে। লোক দেখানো, সামাজিক মর্যাদা বা অন্য কোনো উদ্দেশ্য এক্ষেত্রে গ্রহণযোগ্য নয়। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন, বলুন, নিশ্চয়ই আমার সালাত, আমার কোরবানি, আমার জীবন ও আমার মৃত্যু—সবই বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য।( সূরা আল-আন‘আম: ১৬২)


এই আয়াত একজন মুসলিমের জীবনের মূল দর্শনকেই তুলে ধরে। ইবাদত থেকে শুরু করে জীবনের প্রতিটি কাজ হতে হবে একমাত্র আল্লাহকেন্দ্রিক। কোরবানিও এর ব্যতিক্রম নয়।


কোরবানি, হজ ও আত্মসমর্পণের শিক্ষা


কোরবানি এবং হজ ইসলামের এই দুই মহান ইবাদত একে অপরের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কযুক্ত। উভয়ের মূল শিক্ষা হলো মহান আল্লাহর কাছে নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ। হজ যেমন মানুষকে দুনিয়াবি অহংকার, ভেদাভেদ ও আত্মকেন্দ্রিকতা থেকে মুক্ত হতে শেখায়, তেমনি কোরবানি বান্দাকে নিজের সবচেয়ে প্রিয় বস্তুকে আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য ত্যাগ করতে শেখায়। হজের প্রতিটি ধাপ আমাদের ফিরিয়ে নিয়ে যায় হজরত ইব্রাহিম (আ.), হজরত হাজেরা (আ.) ও হজরত ইসমাইলের (আ.) আত্মত্যাগের ইতিহাসে। সাফা-মারওয়ার মধ্যবর্তী স্থানে সাঁই করা মনে করিয়ে দেয় হাজেরার (আ.) অসীম ধৈর্য, আর মিনায় কোরবানি স্মরণ করিয়ে দেয় ইব্রাহিমের (আ.) আনুগত্য ও ইসমাইলের (আ.) আত্মসমর্পণ।


হজের ইহরাম মানুষকে মর্যাদা, সম্পদ ও পরিচয়ের অহংকার ত্যাগ করতে শেখায়। হজের সময় একই পোশাকে ধনী-গরিব সবাই দাঁড়ায় এক কাতারে। আর কোরবানি শেখায়, আল্লাহর পথে ত্যাগ ছাড়া প্রকৃত ঈমান পূর্ণতা পায় না। কোরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেন, আল্লাহর কাছে পৌঁছায় না এগুলোর গোশত ও রক্ত; বরং পৌঁছে তোমাদের তাকওয়া।( সূরা আল-হাজ্জ: ৩৭)।অর্থাৎ, কোরবানি কেবল পশু জবাইয়ের আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং এটি হৃদয়ের পরিশুদ্ধি ও তাকওয়ার পরীক্ষা। হজও তাই। এটি শুধু সফর নয়, বরং আত্মশুদ্ধির এক মহাসাধনা।


আজ আমাদের সমাজে কোরবানির অনেক আয়োজন থাকলেও ত্যাগের চেতনা অনেক সময় অনুপস্থিত। হজেও ভিড় বাড়ছে, কিন্তু আত্মসমর্পণের শিক্ষা হৃদয়ে কতটা জায়গা পাচ্ছে প্রশ্ন থেকে যায়। অথচ এই দুই ইবাদতের প্রকৃত উদ্দেশ্যই হলো মানুষকে আল্লাহমুখী করা, বিনয়ী করা এবং দুনিয়ার মোহ থেকে মুক্ত করা।


বর্তমান প্রাসঙ্গিকতায় কোরবানির শিক্ষা ও উত্তরণের উপায়


বর্তমান সময়ে কোরবানির ইবাদত অনেক ক্ষেত্রেই বাহ্যিকতা ও প্রদর্শনের প্রতিযোগিতায় রূপ নিচ্ছে। কে কত বড় গরু দিলো, কত দামে কিনল, কিংবা সামাজিক মাধ্যমে কার আয়োজন বেশি আকর্ষণীয় এসব আলোচনায় অনেক সময় হারিয়ে যায় কোরবানির প্রকৃত উদ্দেশ্য। অথচ আল্লাহ তাআলা স্পষ্টভাবে বলেছেন, বান্দার তাকওয়া ব্যতীত কিছুই তার কাছে গ্রহণযোগ্য হবে না।


কোরবানি তাই কেবল পশু জবাইয়ের মাধ্যমেই সমপন্ন হয় না, বরং নিজের অহংকার, লোভ, হিংসা ও স্বার্থপরতাকে জবাই করাও কোরবানির শিক্ষা। একজন মানুষ যখন আল্লাহর সন্তুষ্টিকে নিজের ইচ্ছার উপরে স্থান দেয়, তখনই কোরবানির প্রকৃত সৌন্দর্য ফুটে ওঠে।


কোরবানি করার আগে তাই আমাদের ভাবতে হবে, আমরা কি কোরবানিকে ইবাদত হিসেবে পালন করছি, নাকি সামাজিক পরিচয়ের অংশ হিসেবে? আমাদের নিয়ত কি আল্লাহর জন্য, নাকি মানুষের প্রশংসার জন্য? কারণ প্রতিটি আমলের মূল্য নির্ধারিত হয় নিয়তের উপর। রাসূল (সা.) তার উম্মতদের নিয়তের ব্যাপারে বিশেষভাবে সতর্ক করেছেন। কেননা কোরবানির উদ্দেশ্য কেবল পশু নয়, মূল বিষয় হচ্ছে বান্দার অন্তরের ইখলাস ও আল্লাহভীতি।



তাই এবারের কোরবানিতে আমরা লোক দেখানো প্রতিযোগিতা থেকে দূরে থাকি। আমাদের কোরবানি হোক নিখাদ ইখলাসের প্রতিচ্ছবি। লোক দেখানো ইবাদত নয়, প্রতিযোগিতা নয়, কেবল মহান রবের সন্তুষ্টিই হোক আমাদের একমাত্র উদ্দেশ্য। তবেই কোরবানির রক্তে জীবন্ত হবে তাকওয়ার শিক্ষা, আর ঈদ হয়ে উঠবে আত্মশুদ্ধির এক অনন্য উপলক্ষ্য।


ধর্ম এর আরও সংবাদ

আরো পড়ুন