কোনো ভিআইপি ব্যক্তির জন্য ফেরি অপেক্ষা করবে না — এমপি হান্নান মাসউদ
নোয়াখালী-৬ (হাতিয়া) আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল হান্নান মাসউদ নলচিরা ফেরিঘাটের সার্বিক পরিস্থিতি, যাত্রী ভোগান্তি এবং ঘাট ব্যবস্থাপনায় অনিয়মের অভিযোগ সরেজমিনে পরিদর্শন করেছেন। যাত্রীদের অভিযোগ ও সাম্প্রতিক বিতর্কের প্রেক্ষাপটে তিনি ঘাটে গিয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলেন এবং বাস্তব পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, হাতিয়ার বহুল প্রত্যাশিত ফেরি ও ফেরিঘাট চালুর পেছনে দীর্ঘদিনের আন্দোলন, সংগ্রাম ও জনদাবির ইতিহাস রয়েছে। তবে সম্প্রতি ঘাট ব্যবস্থাপনায় বিভিন্ন অসঙ্গতি এবং একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের সক্রিয়তার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, কিছু অসাধু ব্যক্তি কৃত্রিমভাবে যানবাহনের দীর্ঘ সিরিয়াল তৈরি, ফেরিতে গাড়ি ওঠাতে বিলম্ব এবং যাত্রীদের অযথা হয়রানির মাধ্যমে পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ঈদুল আজহার ছুটি শেষে সংসদ সদস্যের ঢাকা যাওয়ার নির্ধারিত কর্মসূচি ছিল। নির্দিষ্ট সময়ে তিনি নলচিরা ফেরিঘাটে পৌঁছালেও ফেরি পারাপারের জন্য প্রায় ৪৫ মিনিট অপেক্ষা করতে হয়। এ সময় ঘাট এলাকায় দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয় এবং সাধারণ যাত্রীদের দুর্ভোগ পোহাতে দেখা যায়।
এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি মহল দাবি করে, সংসদ সদস্যের প্রটোকলের কারণে ফেরি চলাচলে বিলম্ব হয়েছে। তবে সংসদ সদস্যের কার্যালয় ও স্থানীয় সমর্থকদের দাবি, এ অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তাদের মতে, ঘাটে সক্রিয় অসাধু সিন্ডিকেট ও স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী পরিকল্পিতভাবে পরিস্থিতি সৃষ্টি করে সংসদ সদস্যকে বিতর্কিত করার চেষ্টা করেছে।
পরিদর্শনকালে এমপি আব্দুল হান্নান মাসউদ ফেরিতে থাকা যাত্রী, যানবাহনের চালক এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেন। এ সময় তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, “কোনো ভিআইপি কিংবা সাধারণ যাত্রী—কারো জন্যই ফেরি অপেক্ষা করবে না। ফেরি নির্ধারিত নিয়ম ও সময়সূচি অনুযায়ী চলবে। যাত্রীদের হয়রানি এবং ঘাটে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
তিনি আরও বলেন, “হাতিয়ার নৌ-যোগাযোগ ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর, স্বচ্ছ ও জনবান্ধব করতে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। কোনো সিন্ডিকেট বা স্বার্থান্বেষী মহলকে জনগণের দুর্ভোগের কারণ হতে দেওয়া হবে না।”
মহব্বত আল ইমরান
আপনার মতামত লিখুন