সংস্কৃতিতে অসামান্য অবদান

হানিফ সংকেতের হাতে স্বাধীনতা পুরস্কার তুলে দিলেন প্রধানমন্ত্রী

জাতীয়
হানিফ সংকেতের হাতে স্বাধীনতা পুরস্কার তুলে দিলেন প্রধানমন্ত্রী

বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টায় রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আয়োজিত এক বিশেষ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তার হাতে এই সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় সম্মাননা তুলে দেন।

নিউজ ডেস্ক
১৬ এপ্রিল ২০২৬, ৬:০৬ পিএম

দেশের সংস্কৃতিতে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ জনপ্রিয় ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান ‘ইত্যাদি’র নির্মাতা ও উপস্থাপক হানিফ সংকেতকে (এ কে এম হানিফ) ‘স্বাধীনতা পুরস্কার ২০২৬’ প্রদান করেছে সরকার। আজ বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টায় রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আয়োজিত এক বিশেষ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তার হাতে এই সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় সম্মাননা তুলে দেন।

উক্ত অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান, বেগম খালেদা জিয়ার বোন সেলিমা ইসলাম, স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। এছাড়াও মন্ত্রিসভার সদস্য, সংসদ সদস্য, দেশের উচ্চপদস্থ বিচারপতি, তিন বাহিনীর প্রধান ও সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অনুষ্ঠানে অংশ নেন। পুরো অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি।

হানিফ সংকেত বাংলাদেশের গণমাধ্যমে এক বহুমাত্রিক প্রতিভা হিসেবে সমাদৃত। তিনি একাধারে উপস্থাপক, পরিচালক, লেখক, প্রযোজক, গায়ক, সুরকার ও গীতিকার। কিংবদন্তি ফজলে লোহানীর ‘যদি কিছু মনে না করেন’ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে টেলিভিশনে তার উপস্থাপনা জীবন শুরু হয়। ১৯৮৯ সালের মার্চে বিটিভিতে ‘ইত্যাদি’র প্রথম পর্ব প্রচারিত হওয়ার পর থেকে টানা তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি অনুষ্ঠানটি পরিচালনা ও উপস্থাপনা করে আসছেন। দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের মাটি ও মানুষের কাছে ক্যামেরাকে নিয়ে গিয়ে তিনি এক অনন্য সাংস্কৃতিক মানচিত্র তৈরি করেছেন, যা বাংলাদেশের প্রকৃত স্বরূপকে বিশ্বের কাছে চিনিয়েছে।

টেলিভিশন অনুষ্ঠানের বাইরেও হানিফ সংকেত নাটক ও চলচ্চিত্রে অভিনয় করে প্রশংসা কুড়িয়েছেন। প্রয়াত কথাশিল্পী হুমায়ূন আহমেদের জনপ্রিয় নাটক ‘কুসুম’-এ তার অভিনয় অত্যন্ত স্মরণীয়। এছাড়াও তার পরিচালিত দর্শকপ্রিয় নাটকের তালিকায় রয়েছে ‘আয় ফিরে তোর প্রাণের বারান্দায়’, ‘দুর্ঘটনা’, ‘তোষামোদে খোশ আমোদে’, ‘কিংকর্তব্য’ এবং ‘শেষে এসে অবশেষে’। এর আগে তিনি ২০১০ সালে একুশে পদক এবং জাতীয় পরিবেশ পদক লাভ করেন। তার সৃজনশীল কাজের স্বীকৃতি হিসেবে ‘ইত্যাদি’ বহুবার মেরিল-প্রথম আলো পুরস্কারে সেরা অনুষ্ঠানের মর্যাদা পেয়েছে।

উল্লেখ্য যে, এ বছর স্বাধীনতা, গণতন্ত্র ও নারী শিক্ষাসহ দেশগঠনে সার্বিক অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে মরণোত্তর স্বাধীনতা পুরস্কারে ভূষিত করা হয়। হানিফ সংকেত ও বেগম খালেদা জিয়া ছাড়াও এবার আরও ১৫ জন বিশিষ্ট ব্যক্তি ও ৫টি প্রতিষ্ঠানকে এই সম্মাননা প্রদান করা হয়েছে।

অন্যান্য পদকপ্রাপ্তরা হলেন: মুক্তিযুদ্ধে মেজর মোহাম্মদ আবদুল জলিল (মরণোত্তর), বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে অধ্যাপক জহুরুল করিম, সাহিত্যে আশরাফ সিদ্দিকী (মরণোত্তর), সংগীতে বশীর আহমেদ (মরণোত্তর), ক্রীড়ায় জোবেরা রহমান লিনু, সমাজসেবায় ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী (মরণোত্তর) ও মো. সাইদুল হক। এছাড়া বিশেষ অবদানের জন্য মাহেরীন চৌধুরী (মরণোত্তর), কাজী ফজলুর রহমান (মরণোত্তর), মোহাম্মদ আবদুল বাকী, অধ্যাপক এম এ রহিম, অধ্যাপক ড. সুকোমল বড়ুয়া এবং পরিবেশ সংরক্ষণে আব্দুল মুকিত মজুমদার (মুকিত মজুমদার বাবু) এই পদক লাভ করেন।

প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ে এবার স্বাধীনতা পুরস্কার লাভ করেছে—ফৌজদারহাট ক্যাডেট কলেজ (মুক্তিযুদ্ধ), ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল (চিকিৎসাবিদ্যা), পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন-পিকেএসএফ (পল্লী উন্নয়ন), এসওএস চিলড্রেনস ভিলেজ ইন্টারন্যাশনাল ইন বাংলাদেশ (সমাজসেবা) এবং গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র।