শেষ বিদায় নিলেন রবার্ট মুলার—৯/১১ পরবর্তী এফবিআই-এর রূপকার ও ট্রাম্প-রাশিয়া তদন্তের কাণ্ডারি
ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের আধুনিক গোয়েন্দা ইতিহাসের অন্যতম প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব এবং ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (এফবিআই)-এর সাবেক পরিচালক রবার্ট মুলার আর নেই। গত শুক্রবার রাতে ৮১ বছর বয়সে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। সিবিএস নিউজ তার মৃত্যুর খবরটি নিশ্চিত করেছে।ভিয়েতনাম যুদ্ধের বীর ও সাবেক এই বিশেষ কৌঁসুলির প্রয়াণে মার্কিন রাজনৈতিক অঙ্গনে শোকের পাশাপাশি মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।
১৯৪৪ সালে জন্মগ্রহণকারী রবার্ট মুলার প্রিন্সটন থেকে শিক্ষা জীবন শেষ করে মার্কিন মেরিন কোরে যোগ দিয়েছিলেন। ভিয়েতনাম যুদ্ধে সাহসিকতার জন্য তিনি একাধিক পদক লাভ করেন। তবে তার কর্মজীবনের সবচেয়ে চ্যালেঞ্জিং সময় শুরু হয় ২০০১ সালে। ১১ সেপ্টেম্বরের ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলার মাত্র কয়েকদিন আগে তিনি এফবিআই-এর হাল ধরেন। টানা ১২ বছর (২০০১-২০১৩) সংস্থাটির নেতৃত্বে থেকে তিনি গোয়েন্দা ও সন্ত্রাসবিরোধী কার্যক্রমকে আমূল বদলে দিয়েছিলেন।
অবসরের পর ২০১৭ সালে তিনি পুনরায় পাদপ্রদীপে আসেন বিশেষ কৌঁসুলি হিসেবে। ২০১৬ সালের মার্কিন নির্বাচনে রাশিয়ার হস্তক্ষেপ এবং ট্রাম্প শিবিরের সাথে কথিত আঁতাত নিয়ে দীর্ঘ ও আলোচিত তদন্তের নেতৃত্ব দেন তিনি। এই তদন্ত ও পরবর্তীতে প্রকাশিত 'মুলার রিপোর্ট' তৎকালীন ট্রাম্প প্রশাসনের ভিত কাঁপিয়ে দিয়েছিল।
মুলারের মৃত্যুতে সাবেক দুই প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশ এবং বারাক ওবামা গভীর শোক জানিয়েছেন। বুশ তাকে 'দক্ষ প্রশাসক' হিসেবে অভিহিত করেছেন, আর ওবামা তাকে বর্ণনা করেছেন 'আইনের শাসনের প্রতি নিবেদিতপ্রাণ এবং এফবিআই-এর ইতিহাসের অন্যতম সেরা পরিচালক' হিসেবে।
তবে সম্পূর্ণ ভিন্ন অবস্থান নিয়েছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার নিজস্ব সোশ্যাল প্ল্যাটফর্ম 'ট্রুথ সোশ্যালে' তিনি মুলারের মৃত্যুতে উল্লাস প্রকাশ করে লিখেছেন, "রবার্ট মুলার কিছুক্ষণ আগে মারা গেছেন। ভালো হয়েছে, তার মৃত্যুতে আমি খুশি। উনি আর নির্দোষ মানুষদের ক্ষতি করতে পারবেন না!"
ব্যক্তিজীবনে রবার্ট মুলার তার স্ত্রী অ্যান ক্যাবেল স্ট্যান্ডিশের সঙ্গে প্রায় ৬০ বছর সংসার করেছেন। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, দুই কন্যা এবং তিন নাতি-নাতনি রেখে গেছেন। পরিবারের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ জানানো হয়নি। তবে মার্কিন বিচার বিভাগের এক নিভৃতচারী ও কঠোর নিয়মানুবর্তী কর্মকর্তা হিসেবে তিনি ইতিহাসের পাতায় নিজের নাম খোদাই করে গেলেন।
আপনার মতামত লিখুন