স্থগিত ইবি জিয়া পরিষদ নির্বাচন, কারণ হিসেবে যা জানা গেল

শিক্ষা
স্থগিত ইবি জিয়া পরিষদ নির্বাচন, কারণ হিসেবে যা জানা গেল
১৯ জুন ২০২৬, ১০:৪৬ পিএম

আওয়ামী ভোটার সংশ্লিষ্ট সহ নানা বিতর্কে স্থগিত করা হয়েছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) বিএনপিপন্থি শিক্ষকদের সংগঠন জিয়া পরিষদের কার্যনির্বাহী পরিষদ নির্বাচন-২০২৬। গত বুধবার (১৭ জুন) নির্বাচন স্থগিতের সিদ্ধান্ত নেয় নির্বাচন কমিশন। সংগঠনে নতুন সদস্য সংযুক্তি ও ভোটার নিয়ে বিতর্কসহ বিভিন্ন কারণে নির্বাচন স্থগিত করা হয়েছে বলে জানান প্রধান নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক ড. আ.খ.ম. ওয়ালী উল্লাহ।

ক্যাম্পাস জানা যায়, গতবছরের ফেব্রুয়ারিতে কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. ফারুকুজ্জামান খানকে সভাপতি এবং আরবী ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের অধ্যাপক রফিকুল ইসলামকে সাধারণ সম্পাদক করে জিয়া পরিষদ ইবি শাখার কমিটি গঠন করা হয়। চলতি বছরে কমিটির মেয়াদ শেষ হওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ের আল হাদিস অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক ড. আ.খ.ম. ওয়ালী উল্লাকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার করে তিন সদস্যের কমিশন গঠন করা হয়। কমিশন আগামী ২৪ জুন নির্বাচনের সিদ্ধান্ত নেয়। তবে নির্বাচন ঘিরে সংগঠনটির অভ্যন্তরীণ নানান বিতর্ক তৈরি হওয়ায় নির্বাচন স্থগিত করে কমিশন।

অন্যদিকে নির্বাচনের তারিখ ঘোষণার পর ভোটার তালিকা নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয়। প্রকাশিত খসড়া ভোটার তালিকায় একইসঙ্গে আওয়ামীপন্থি শিক্ষক সংগঠন ‘শাপলা ফোরাম’ ও বিএনপিপন্থি শিক্ষক সংগঠন জিয়া পরিষদের ভোটার তালিকায় একই শিক্ষকের নাম পাওয়া গেছে। নথিপত্রে দেখা যায়, ২০২৩ সালে অনুষ্ঠিত শাপলা ফোরামের কার্যনির্বাহী পরিষদ নির্বাচনের ভোটার তালিকায় ১৩১ নম্বরে ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আজগর হোসেনের নাম অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। অন্যদিকে গত ১৫ জুন প্রকাশিত জিয়া পরিষদের ২০২৬ সালের কার্যনির্বাহী পরিষদ নির্বাচনের খসড়া ভোটার তালিকার ২৩ নং ভোটার হিসেবেও তার নাম রয়েছে। একই ব্যক্তির বিপরীত রাজনৈতিক আদর্শের দুই সংগঠনে পৃথক নির্বাচনি তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় ক্যাম্পাসে নানা প্রশ্ন ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

সংগঠনটির একাধিক সদস্যের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সম্প্রতি নিয়োগপ্রাপ্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ১১ শিক্ষক জিয়া পরিষদের সদস্য হওয়ার জন্য আবেদন করেন। তবে তাদেরকে খসড়া ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। তাদের ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা এবং না করার বিষয়ে সংগঠনের আভ্যন্তীরণ মতবিরোধ তৈরি হয়।

এবিষয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক ড. আ.খ.ম. ওয়ালী উল্লাহ বলেন, “আজগর আলীর নামে শাপলা ফোরাম ও জিয়া পরিষদ উভয় সংগঠনে সদস্য হওয়ার অভিযোগ নিয়ে রিপোর্ট হয়েছে এবং আমরা এর সত্যতা পেয়েছি। ২৫ সালের নির্বাচনের ভোটার তালিকা থেকে আমরা মোট ভোটার তালিকা তৈরি করি; তাই ওনার নাম চলে আসে।”

সমস্যা সমাধানের ব্যাপারে তিনি বলেন, “আমরা রিপোর্টটি আমলে নিয়েই পরিষদের কাছে এর জবাবদিহিতা চেয়েছি। কাঙ্ক্ষিত সময়ের মধ্যে এটি সম্ভব না বিধায় নির্বাচন স্থগিত করা হয়েছে। যত দ্রুত পরিষদ এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিবে তত দ্রুত নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।”

সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. রফিকুল ইসলাম বলেন, নির্বাচন কমিশনের কাছে স্থগিতের বিষয়ে জানতে চেয়েছিলাম আমরা, কিন্তু তারা উত্তর এখনো দেয়নি। ২৪ তারিখ নির্বাচন হওয়ার কথা। আগে পিছে করার এখতিয়ার কমিশনারের আছে কিনা গঠনতন্ত্র দেখতে হবে। নতুন সদস্য অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে আমরা সংগঠনের কেন্দ্রীয় নির্দেশনা অনুসরণ করেছি। এই মুহূর্তে সংগঠনের কোনো শাখাতেই নতুন সদস্য নেওয়া হচ্ছে না। নির্বাচন কমিশনার সংশ্লিষ্ট বিষয়ে এখনও কিছুই জানাননি, তবে আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি দিবে বলছে।”

জানতে চাইলে জিয়া পরিষদের কেন্দ্রীয় মহাসচিব এবং ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. এমতাজ হোসেন বলেন, “আগামী ২৪ তারিখ নির্বাচন হওয়ার কথা। হঠাৎ করে স্থগিত করা হলো, আমাকে আনুষ্ঠানিক ভাবে কিছুই জানাননি। যেহেতু নির্বাচন সম্পর্কিত একক এখতিয়ার নির্বাচন কমিশনারের রয়েছে, অল্পদিনে কিভাবে নির্বাচন সম্পন্ন করবেন উনি ভালোভাবে বলতে পারবেন।”