তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে মারামারি, আহত ১

শিক্ষা
তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে মারামারি, আহত ১
০৯ জুন ২০২৬, ১০:৪৪ পিএম

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) গাছের পাতা সংগ্রহকে কেন্দ্র করে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক কর্মকর্তা ও এক ভ্যানচালকের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটেছে। এতে ভ্যানচালক আহত হয়েছেন। পরে তাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারে চিকিৎসা দেওয়া হয়। বর্তমানে তিনি আশঙ্কামুক্ত বলে জানা গেছে।

মঙ্গলবার (৯ জুন) বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এই ঘটনা ঘটে।

ক্যাম্পাস সূত্রে জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক দপ্তরের ডেপুটি রেজিস্ট্রার আমিরুল ইসলাম ডাবলু প্রশাসন ভবন চত্বরে একটি গাছ থেকে পাতা নামাচ্ছিলেন। এসময় ভ্যানচালক মাসুদ রানা নিচ থেকে কিছু পাতা চান। এ নিয়ে উভয়ের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরে আহত অবস্থায় ভ্যানচালক বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারে গিয়ে চিকিৎসা নেন। চিকিৎসা নেওয়ার পর বর্তমানে তিনি সুস্থ রয়েছেন।

ঘটনার বিষয়ে ভুক্তভোগী ভ্যানচালক মাসুদ রানা বলেন, “প্রশাসন ভবনের পাশে দুইজন ব্যক্তি গাছের পাতা পাড়ছিলেন। বাড়িতে একটি ছাগল থাকায় কিছু পাতা চাই। তবে তারা দিতে রাজি হননি। এরপর আমি সেখান থেকে চলে যাই। পরে দুইজন ছাত্রীকে ভ্যানে তুলে ছাত্রী হলের সামনে নামানোর পর ওই দুই ব্যক্তি মোটরসাইকেলে আমাকে অনুসরণ করে এবং আমাকে ডেকে নেওয়া হয় এবং কেন না চিনে মন্তব্য করেছি তা জানতে চাওয়া হয়। এরপর নিরিবিলি স্থানে নিয়ে গিয়ে আমাকে মারধর করা হয়। এক পর্যায়ে ব্যাগে থাকা কাঁচির আঘাতে তারা আমার মাথায় আঘাত করে।”

অভিযোগের বিষয়ে ডেপুটি রেজিস্ট্রার আমিরুল ইসলাম ডাবলু বলেন, “বিকেল চারটার দিকে গাছের পাতা পাড়ার সময় নিচ থেকে এক ভ্যানচালক পাতা চান। রাজি না হলে ওই ব্যক্তি গালিগালাজ করতে করতে চলে যান। পরে তাকে ডেকে এনে এমন আচরণের কারণ জানতে চাইলে এক পর্যায়ে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। সে আমাকে কামড় দিয়ে ধরে রাখে। নিজেকে বাঁচাতে আমি তাকে প্রতিহত করি।”

তিনি আরও বলেন, “প্রক্টর স্যার ডাকছে, ওখানে গেলে বিস্তারিত জানতে পারবেন।”

জানা গেছে, তিনি বর্তমান কর্মকর্তা সমিতির নির্বাচিত সদস্য। এবিষয়ে জানতে চাইলে কর্মকর্তা সমিতি সভাপতি আব্দুল মঈদ বলেন, “আমি এ বিষয়ে কিছুই জানি না। সবেমাত্র অবগত হলাম। বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত জেনে তারপর জানাচ্ছি।”

বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেল সেন্টারের কর্তব্যরত চিকিৎসক জানান, আহত ব্যক্তির মাথায় আঘাতের কারণে চারটি সেলাই দেওয়া হয়েছে। রক্তপাত হলেও বর্তমানে তিনি আশঙ্কামুক্ত।

অন্যদিকে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক ওয়ালিউর রহমান পিকুল বলেন, “রক্তাক্তের ঘটনা আসলেই দুঃখজনক।” পরে বিষয়টি খোঁজ নিয়ে জানাবেন বলে ফোন সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেন।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহীনুজ্জামান বলেন, বিষয়টি প্রশাসনের নজরে এসেছে। আহত ব্যক্তিকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে এবং রাতে উভয় পক্ষকে ডেকে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করা হবে।