অর্থের অভাবে অনলাইনে কোচিং, করতে হয়েছে কৃষিকাজ: ইবির ‘ডি’ ইউনিটে প্রথম মোত্তালেব

শিক্ষা
অর্থের অভাবে অনলাইনে কোচিং, করতে হয়েছে কৃষিকাজ: ইবির ‘ডি’ ইউনিটে প্রথম মোত্তালেব
১২ এপ্রিল ২০২৬, ৯:৫৬ পিএম

কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) স্বতন্ত্র ‘ডি’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর আলোচনায় উঠে এসেছে এক সংগ্রামী সাফল্যের গল্প। অর্থনৈতিক সীমাবদ্ধতা, অনলাইন নির্ভর প্রস্তুতি এবং পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে কৃষিকাজ, সব বাধা পেরিয়ে এবার ১৪০ নম্বরের পরীক্ষায় প্রথম হয়েছেন রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার আব্দুল মোত্তালেব।

রোববার (১২ এপ্রিল) প্রকাশিত ফলাফলে মোত্তালেব মোট ১০৭.৭৫ নম্বর পেয়ে শীর্ষস্থান অর্জন করেন। এর মধ্যে বহুনির্বাচনী (এমসিকিউ) অংশে তার প্রাপ্ত নম্বর ৬৭.৭৫। 

এবারের ভর্তি পরীক্ষা ১২০ নম্বরের ভিত্তিতে অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে ৮০ নম্বর ছিল এমসিকিউ এবং এসএসসি ও এইচএসসি ফলাফলের ওপর ছিল মোট ৪০ নম্বর।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ধর্মতত্ত্ব ও ইসলামী শিক্ষা অনুষদের অধীনে চারটি বিভাগের ৩৩০টি আসনের বিপরীতে সমসংখ্যক শিক্ষার্থীকে মেধাতালিকায় স্থান দেওয়া হয়েছে। এ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় মোট ২ হাজার ৩৯ জন আবেদনকারীর মধ্যে অংশ নেন ১ হাজার ৮৮৬ জন শিক্ষার্থী, যা উপস্থিতির হার প্রায় ৯২.৫ শতাংশ।

তবে এই সাফল্যের পেছনের গল্পটি কেবল নম্বরের হিসাবেই সীমাবদ্ধ নয়; এটি এক কঠোর সংগ্রামের প্রতিচ্ছবি। রংপুর জেলার মিঠাপুকুর উপজেলার ১ নম্বর খোড়াগাছ ইউনিয়নের একটি সাধারণ কৃষক পরিবারে বেড়ে ওঠা মোত্তালেব পড়াশোনা করেছেন আকিজ কোম্পানি পরিচালিত আবু বকর সিদ্দিক (রাঃ) মাদ্রাসা অ্যান্ড কলেজে।

অর্থনৈতিক সীমাবদ্ধতার কারণে নিয়মিত অফলাইন কোচিংয়ের সুযোগ পাননি তিনি। তাই অনলাইনে দিগন্ত কোচিংয়ে ভর্তি হয়ে দীর্ঘদিন সেখানেই প্রস্তুতি নেন। কিন্তু শুধু পড়াশোনাই নয়, পরিবারের দায়িত্বও নিতে হয়েছে সমানভাবে। বাড়িতে থেকে পড়াশোনার পাশাপাশি বাবার সঙ্গে কৃষিকাজে যুক্ত ছিলেন তিনি।

নিজের এই যাত্রা সম্পর্কে মোত্তালেব বলেন, “পড়াশোনা শেষ করে প্রথমে দিগন্তে অনলাইনে ভর্তি হয়েছিলাম এবং দীর্ঘদিন সেখানেই পড়েছি। আর্থিক সমস্যার কারণে অফলাইনে ক্লাস করতে পারিনি। এ সময় বাড়িতে থেকেই পড়াশোনা চালিয়ে যাই এবং সেই সঙ্গে বাবার সঙ্গে কৃষিকাজ করেছি। পরে ঈদের সময় কয়েকদিনের জন্য এসে চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিয়েছি। শিক্ষকদের আন্তরিক পরিশ্রম ও দিকনির্দেশনায় আজকের এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। আল্লাহর অশেষ রহমতেই আমি এ অবস্থানে পৌঁছেছি।”

মোত্তালেবের এই অর্জন শুধু ব্যক্তিগত সাফল্য নয়; এটি গ্রামীণ বাস্তবতা, সীমিত সুযোগ এবং অদম্য ইচ্ছাশক্তির এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। অর্থের অভাব তাকে থামাতে পারেনি। বরং প্রতিকূলতাকেই শক্তিতে রূপান্তর করে তিনি দেখিয়েছেন, দৃঢ় সংকল্প থাকলে সাফল্য ধরা দেয়।