২০ হাজার ৮৩১ কোটি টাকা আত্মসাৎ
ইউনিয়ন ব্যাংকের ১৪৬ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুদকের মেগা অনুসন্ধান
ইউনিয়ন ব্যাংক পি এল সি। ছবি: সংগৃহীত
দেশের ব্যাংকিং খাতে বড় ধরনের এক লুটপাটের ঘটনা প্রকাশ্যে এসেছে। কোনো ধরনের যাচাই-বাছাই ছাড়াই ইউনিয়ন ব্যাংক পিএলসি থেকে ২০ হাজার ৮৩১ কোটি ৫০ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। মোট ২৮৯টি প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে এই বিপুল অংকের ঋণ ছাড় করা হয়, যা নিয়মনীতি না মানায় বর্তমানে খেলাপি ঋণে পরিণত হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংক ও ইউনিয়ন ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ তদন্তে এই বিশাল জালিয়াতির পেছনে ব্যাংকের শীর্ষ পর্যায় থেকে শুরু করে বিভিন্ন স্তরের ১৪৬ জন কর্মকর্তাকে সরাসরি দায়ী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। ক্ষমতার পটপরিবর্তনের পর ব্যাংক কর্তৃপক্ষ ইতোমধ্যেই অভিযুক্তদের তালিকা ও বিস্তারিত তথ্য সম্বলিত একটি অভিযোগ দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) দাখিল করেছে।
অভিযোগ পাওয়ার পর দুদক একটি শক্তিশালী অনুসন্ধানকারী দল গঠন করে মাঠে নেমেছে। দুদকের একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, গোয়েন্দা অনুসন্ধানে প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় এখন প্রকাশ্য অনুসন্ধান শুরু হয়েছে। দায়ীদের আইনের আওতায় আনতে কমিশন বদ্ধপরিকর।
তদন্ত প্রতিবেদনে উঠে আসা ১৪৬ কর্মকর্তার মধ্যে রয়েছেন সাবেক এমডি এ বি এম মোকাম্মেল হক চৌধুরী, ওমর ফারুক এবং আব্দুল হামিদ মিয়া। এছাড়া এএমডি ও ডিএমডি পর্যায়ের কর্মকর্তাদের মধ্যে রয়েছেন সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ সালেহ, মো. হাবিবুর রহমান, এস এ এম সলিমুল্লাহ, হাছান ইকবাল, শফিউদ্দীন আহমেদ, মো. নজরুল ইসলাম এবং মো. জাহাঙ্গীর আলম।
তালিকায় থাকা অন্যান্য উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা হলেন: মো. আব্দুল কাদের (সাবেক এসইভিপি), শাহ মো. মাহতাবুদ্দিন আল-মামুন (সাবেক এসইভিপি), গোলাম মোস্তাফা (সাবেক এসইভিপি), জয়ন্ত কুমার মন্ডল (সাবেক এসভিপি), আব্দুল হান্নান খান (সাবেক এসভিপি), মো. এরফান আলী (সাবেক এসভিপি), এনামুল ইলাহী (সাবেক এসভিপি), মো. মুনিরুল ইসলাম (সাবেক এসভিপি), মোহাম্মাদ সিরাজুল কবির (সাবেক এসভিপি), রিয়াদ মোহাম্মদ চৌধুরী (সাবেক এসভিপি), ফরিদুল হক চৌধুরী (সাবেক এসভিপি)।
ভিপি ও এসএভিপি: কাজী আবুল মনজুর, সাজ্জাদ করিম, এম রেজাউল করিম, মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান, আব্দুল মালেক, শওকত ওসমান চৌধুরী, মনছুর আহমদ গাজী, মাহমুদ হাছান, মো. রুহুল আমিন, ইস্কান্দর পারভেজ, মো. নজরুল ইসলাম মুন্সি, নিয়াজ মোহাম্মাদ খান, মো. মনসুর আহমেদ, মো. সালেকুর রহমান, মোহাম্মদ খালেদ হোসেন, মোহাম্মদ জহিরুল আলম।
এভিপি ও এফএভিপি: আবু কাউছার, মো. শাহরিয়ার রউফ, সৈয়দ আবদুল্লাহ আল মাসুম, এরফানুল হক হাক্কানি, মো. বশির উদ্দিন সিকদার, শাহ মো. গোলাম সরোয়ার চৌধুরী, রেজাউল হক, সুমিত দাস, মো. কামরুল ইসলাম, মো. রফিকুল ইসলাম ইসলামাবাদী, সাইফুল আজম, মুহাম্মদ রাশিদ সহিদ, মো. আব্দুর রহিম, এ বি এম ওয়াহিদ ইকবাল সামি, জাকির হোসাইন, ফিরোজ মাহমুদ, আহমেদ শাফা, মোহাম্মদ আকরামুল হক, মোহাম্মেদ মাহফুজুর রহমান, নুরুল ইসলাম, মো. মাহবুব আলম, আব্দুল মতিন, মোহাম্মাদ তৌহিদুল মাওলা, আলী নেওয়াজ, মো. আলী নওশাদ চৌধুরী, মোহাম্মাদ আবুল কাসেম, মো. এনামুল ইসলাম, কাজী মো. ইয়াকুব, নন্দিত রহমান তাজবী, মো. ইউসুফ আলী, মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম, সুধি সুলতানা, মো. আব্দুল হালিম, শিল্পি দত্ত, মো. হাসান শহীদ সরওয়ার উদ্দিন, মুহাম্মদ আলী, মো. মাহবুবুল আলম, এ কে এম মোরশেদ আলম, শঙ্কর কুমার রায়।
এসপিও ও পিও: ফৌজিয়া রহমান, ফাতেমা নাসরিন, মো. হাসান রাশেদুর রহমান, মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম, বিলকিস আক্তার, তৌহিদুল ইসলাম, মো. নুরুল কবীর, মো. আবু মুছা, মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম, নাহিয়ান রহমান, মাহবুব ইমরান চৌধুরী, আমিন জামায়েল খন্দকার, মোহাম্মদ মাহবুবুল আলম, মোহাম্মদ কামরুজ্জামান, মো. নজরুল ইসলাম, জসিম উদ্দীন, মো. কামরুল আজাদ, সাইফুল আলম চৌধুরী, ইমরান দিদার, মোহাম্মদ মাসুদ, মোহাম্মাদ বেলাল হোসেন চৌধুরী, হেলাল আহমেদ খান, মো. নুরুজ্জামান শুভ্র, আরিফুজ্জামান, আয়েশা হুমায়ারা, মো. আবুল খায়ের, মনিকা চৌধুরী, মো. নজরুল ইসলাম, মো. মইনুল হাসান, মোহাম্মদ মিছবাহুল হক, মোসলেই উদ্দীন, আব্দুল্লাহ আল মামুন, মো. আবু নাইম চৌধুরী, ফোরকান উদ্দীন, মো. মিনহাজুর রহমান, মোহাম্মাদ মোরশেদুল আলম, মো. বেলাল চৌধুরী, মো. জামাল উদ্দিন।
এসও ও অন্যান্য অফিসার: মো. আব্দুল মজিদ, মো. সোহানুর রহমান খান, মাহফুজুর রহমান খান, মো. আবু বকর সিদ্দিক চৌধুরী, মো. শওকতুর রহমান, মুসতাক আহমেদ, আবু সায়েম মো. নাঈম উদ্দীন, এ এস এম নুরুল আফসার, সৈকত দাস, মো. আলমগীর, শাহনেওয়াজ চৌধুরী, মকসুদ করিম চৌধুরী, মো. সাইফুদ্দীন চৌধুরী, মো. ফখরুদ্দীন, মো. আল মুসতানসির, এ এইচ এম আব্দুল্লাহ আল মামুন চৌধুরী, মো. বোরহান উদ্দিন, মো. ফারুখ খান চৌধুরী, রয়েল বড়ুয়া, মো. ইকবাল হোসাইন, মো. বাহারুল ইসলাম, মো. বায়োজিদ হাসান, আবছারুল আলম, নিশাত নাসরিন, তাহমিনা আকতার, নাজিয়া আমিন, ছোটন সিং, ওয়াহিদ হোসাইন সিফাত, মো. আবু হুরায়রা চৌধুরী, আরাফাত আহমেদ, মোস্তফা মাহমুদ মাহিন ও আবুল হাসান মো. তারেক। এছাড়া তালিকায় মো. আজাদুর রহমান (ইভিপি) ও মো. সালাহ উদ্দীনের (এসএভিপি) নামও রয়েছে।
ইউনিয়ন ব্যাংক তাদের চিঠিতে জানিয়েছে, এই কর্মকর্তারা সংঘবদ্ধভাবে আমানতকারীদের অর্থ আত্মসাৎ করেছেন এবং তারা বর্তমানে দেশত্যাগের চেষ্টা করছেন। তদন্ত ও অর্থ উদ্ধারের স্বার্থে দুদকের কাছে ব্যাংকের দাবি: দুর্নীতি দমন কমিশন ও মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ। সংশ্লিষ্টদের সব ব্যাংক হিসাব, স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি দ্রুত জব্দ ও ক্রোক করা। অভিযুক্তদের বিদেশযাত্রা বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া।
ব্যাংক কর্তৃপক্ষ মনে করছে, এই ব্যবস্থাগুলো দ্রুত নেওয়া না হলে আত্মসাৎকৃত অর্থ পাচার হয়ে যেতে পারে, যা রাষ্ট্র ও সাধারণ আমানতকারীদের জন্য অপূরণীয় ক্ষতির কারণ হবে।
আপনার মতামত লিখুন