জয়পুরহাটে প্রকাশ্যেই সরকারি পুকুরের মাটি-বালু লুট! নেপথ্যে ক্ষেতলাল উপজেলা বিএনপি নেতা
জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল উপজেলায় একটি সরকারি পুকুর থেকে দীর্ঘদিন ধরে মাটি ও বালু লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে।
উপজেলার উত্তর হাটশহর গ্রামের মাঝিনা নামে এই পুকুরটি প্রায় তিন মাস ধরে প্রকাশ্যেই খনন করে মাটি ও বালু বিক্রি করা হচ্ছে।
স্থানীয়দের দাবি, দিনে মাটি এবং রাতের আঁধারে বালু উত্তোলন করে তা বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করা হচ্ছে।
সরেজমিন পুকুরটিতে মাটি উত্তোলনের কার্যক্রমের সত্যতা পাওয়া যায়। দেখা যায়, ট্রাক্টর ও ট্রলির মাধ্যমে মাটি তুলে পাশের বিভিন্ন এলাকায় নেওয়া হচ্ছে।
এলাকাবাসীর ভাষ্যমতে, এই কার্যক্রম দীর্ঘদিন ধরেই অব্যাহত রয়েছে এবং এতে পুকুরটির প্রাকৃতিক ভারসাম্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। পাশাপাশি আশপাশের কৃষিজমি ও বসতবাড়ি ঝুঁকির মুখে পড়েছে। ভারী যানবাহন চলাচলের কারণে গ্রামীণ সড়কগুলোও দ্রুত নষ্ট হয়ে যাচ্ছে, যা স্থানীয়দের দুর্ভোগ বাড়াচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবু বক্কর সিদ্দিকের নেতৃত্বে এবং তার প্রভাব বলয়ের লোকজনের মাধ্যমে এই কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
তার সঙ্গে উত্তর হাটশহর গ্রামের সাবেক ইউপি সদস্য ও ইউনিয়ন কৃষকদলের সাধারণ সম্পাদক মুকুল হোসেন এবং মাটি ব্যবসায়ী নুর নবীর সম্পৃক্ততার কথাও উঠে এসেছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক বাসিন্দা জানান, প্রভাবশালী বিএনপি নেতাদের জড়িত থাকার কারণে কেউ প্রকাশ্যে প্রতিবাদ করতে সাহস পাচ্ছেন না। তারা আরো বলেন, ‘পূর্বে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সহকারী কমিশনার (ভূমি) ঘটনাস্থলে এলেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি, যার ফলে এই কার্যক্রম আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।’
এভাবে সরকারি সম্পদ থেকে অবাধে মাটি ও বালু উত্তোলনকে এলাকাবাসী ‘লুটপাট’ হিসেবে দেখছেন।
তাদের মতে, এটি শুধু পরিবেশ ধ্বংসের দিকেই ঠেলে দিচ্ছে না বরং ভবিষ্যতে বড় ধরনের দুর্ঘটনা বা ভূমিধসের ঝুঁকিও তৈরি করছে।
অভিযোগের বিষয়ে মাটি ব্যবসায়ী নুর নবী ও কৃষকদল নেতা মুকুল হোসেন দাবি করেন, তারা কোনো অবৈধ কার্যক্রমে জড়িত নন। তাদের মতে, পুকুরটি সংস্কারের অংশ হিসেবেই সীমিত পরিসরে মাটি অপসারণ করা হচ্ছে এবং এতে কোনো ধরনের অনিয়ম হয়নি।
তবে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবু বক্কর সিদ্দিক দাবি করেছেন, পুকুরটি তিনি বৈধভাবে লিজ নিয়েছেন এবং সেখানে সংস্কার কাজ চলছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, পুকুরের মাঝখানে উঁচু জায়গা থাকায় পানি ধারণ ও মাছ চাষে সমস্যা হচ্ছিল।
তাই সেটি সমান করার কাজ করা হচ্ছে। বালু উত্তোলনের অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, "কেবল একদিন ৪০ গাড়ী সীমিত পরিমাণ বালু নেওয়া হয়েছিল। এখন নিয়মিতভাবে বালু উত্তোলনের কোনো ঘটনা ঘটেনি।"
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সানজিদা চৌধুরী জানান, বিষয়টি তার নজরে রয়েছে। এর আগে একবার কার্যক্রম বন্ধ করা হয়েছিল বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন, "পুনরায় এ ধরনের কাজ হয়ে থাকলে সরজমিনে গিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"
জেলা প্রশাসক মো. আল-মামুন মিয়া বলেন, "এ বিষয়ে এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।"
এদিকে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক গোলজার হোসেন বলেন, "বিষয়টি আমার জানা নেই। বিস্তারিত জেনে প্রয়োজন হলে এ বিষয়ে মতামত দেব।"
আপনার মতামত লিখুন