তদন্ত প্রতিবেদনে গ্রামীণ ডিস্ট্রিবিউশনের শর্ত ভঙ্গের প্রমাণ
মোবাইল হ্যান্ডসেট উৎপাদনে ভ্যাট ফাঁকির অভিযোগ
তদন্ত সংশ্লিষ্টদের মতে, ই-ভ্যাট রিটার্ন ও এনবিআরের অভ্যন্তরীণ নজরদারির অস্পষ্টতার সুযোগে এমন শর্ত ভঙ্গের ঘটনা ঘটেছে, যা এখন এনবিআরের জন্য বিব্রতকর পরিস্থিতি তৈরি করেছে। মামলাটি বর্তমানে উচ্চপর্যায়ে পর্যালোচনার অপেক্ষায় রয়েছে
দেশে মোবাইল ফোনসেট উৎপাদন উৎসাহিত করতে সরকার প্রদত্ত ভ্যাট অব্যাহতি সুবিধার অপব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে গ্রামীণ ডিস্ট্রিবিউশন লিমিটেডের (জিডিএল) বিরুদ্ধে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ও বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) সমন্বয়ে গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে শর্ত ভঙ্গ করে ভ্যাট সুবিধা নেওয়ার প্রমাণ মিলেছে। তবে গুরুতর এই অভিযোগের পরও এনবিআর রহস্যজনকভাবে নীরব রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
সূত্রমতে, গ্রামীণ ডিস্ট্রিবিউশন ২০০৯ সাল থেকে মোবাইল ফোন উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে যাত্রা শুরু করে এবং বর্তমানে জিডিএল, জিটিই ও বেনকো নামে নিজস্ব ব্র্যান্ডের পাশাপাশি লাভা ও ইনফিনিক্স ব্র্যান্ডের হ্যান্ডসেট বাজারজাত করছে। প্রতিষ্ঠানটি ২০১৯ সাল থেকে ভ্যাট অব্যাহতির সুবিধা পেলেও ২০২৩ সাল থেকে আরোপিত নতুন শর্ত পালনে ব্যর্থ হয়েছে।
এসআরও-এর শর্ত অনুযায়ী, ভ্যাট অব্যাহতি পেতে স্মার্টফোন উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানকে নিজস্ব কারখানায় অন্তত ৫০ শতাংশ ব্যাটারি ও চার্জার উৎপাদন করতে হবে। তদন্ত কমিটির সরেজমিন পরিদর্শনে গ্রামীণ ডিস্ট্রিবিউশনের কারখানায় ব্যাটারি ও চার্জার উৎপাদনের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। উল্টো প্রতিষ্ঠানটি এসব পণ্য বিদেশ থেকে আমদানি অব্যাহত রেখেছে এবং নিয়ম বহির্ভূতভাবে ৭.৫ শতাংশ ভ্যাট অব্যাহতি সুবিধা গ্রহণ করছে।
এ বিষয়ে এনবিআর চেয়ারম্যান আব্দুর রহমান খানের বক্তব্য জানতে বারবার যোগাযোগ করা হলেও তার কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। তবে তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ভ্যাট অব্যাহতি দেওয়ার আগে যারা প্রতিষ্ঠানটি পরিদর্শন করেছিলেন এবং যারা প্রজ্ঞাপন জারি করেছিলেন, তাদের পর্যালোচনায় বড় ধরনের ঘাটতি ছিল। বর্তমানে তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট কমিশনারেটকে চিঠি দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
এদিকে গ্রামীণ ডিস্ট্রিবিউশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জহুরুল হক বিপ্লব তদন্ত প্রতিবেদনটিকে 'অসামঞ্জস্যপূর্ণ' ও 'অনুমাননির্ভর' বলে দাবি করেছেন। তার মতে, তদন্ত কমিটি উৎপাদনের হিসাব বছরওয়ারি না করে মাসওয়ারি করায় তথ্যে জটিলতা তৈরি হয়েছে। মোবাইল ফোন ইন্ডাস্ট্রি ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ইতোমধ্যে এই প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে এনবিআরের ভ্যাট নীতি বিভাগে আবেদন জানানো হয়েছে।
তদন্ত সংশ্লিষ্টদের মতে, ই-ভ্যাট রিটার্ন ও এনবিআরের অভ্যন্তরীণ নজরদারির অস্পষ্টতার সুযোগে এমন শর্ত ভঙ্গের ঘটনা ঘটেছে, যা এখন এনবিআরের জন্য বিব্রতকর পরিস্থিতি তৈরি করেছে। মামলাটি বর্তমানে উচ্চপর্যায়ে পর্যালোচনার অপেক্ষায় রয়েছে।
আপনার মতামত লিখুন