মিরপুর চিড়িয়াখানার সামনে জনতা কর্তৃক আটক কনটেন্ট ক্রিয়েটর আর এস ফাহিম
জুলাই মাসের ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় তার ভূমিকা এবং পরবর্তী বিভিন্ন বিতর্কিত মন্তব্যের জেরে আগে থেকেই ক্ষুব্ধ ছিল একটি পক্ষ। তাকে দেখা মাত্রই স্থানীয় জনতা ও আন্দোলনকারীরা ঘিরে ধরে
বিতর্ক যেন পিছু ছাড়ছে না আলোচিত কনটেন্ট ক্রিয়েটর আর এস ফাহিমের। বিদেশ থেকে দেশে ফেরার পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যে উত্তাপ ছড়িয়েছিল, তার চূড়ান্ত প্রতিফলন ঘটল আজ রাজধানীর মিরপুরে। রোববার বিকেলে মিরপুর জাতীয় চিড়িয়াখানার সামনে সাধারণ জনতার হাতে আটক হওয়ার পর তাকে শাহ আলী থানা পুলিশের হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
বিকেল গড়িয়ে যখন সন্ধ্যা নামছে, তখনই মিরপুর চিড়িয়াখানা এলাকায় গুঞ্জন ছড়ায় যে আর এস ফাহিম সেখানে উপস্থিত। জুলাই মাসের ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় তার ভূমিকা এবং পরবর্তী বিভিন্ন বিতর্কিত মন্তব্যের জেরে আগে থেকেই ক্ষুব্ধ ছিল একটি পক্ষ। তাকে দেখা মাত্রই স্থানীয় জনতা ও আন্দোলনকারীরা ঘিরে ধরে। পরিস্থিতির ভয়াবহতা আঁচ করতে পেরে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় শাহ আলী থানা পুলিশ।পুলিশ জানিয়েছে, উত্তেজিত জনতার হাত থেকে তাকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে।
শাহ আলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাহাঙ্গীর আলম এই আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করে গণমাধ্যমকে জানান:"স্থানীয় জনতা তাকে আটকে রেখেছিল, আমরা খবর পেয়ে তাকে হেফাজতে নিয়েছি। জুলাই মাসে দেশের বিভিন্ন থানায় তার বিরুদ্ধে বেশ কিছু মামলা দায়ের হওয়ার প্রাথমিক তথ্য আমাদের কাছে আছে। আমরা এখন সেগুলো যাচাই-বাছাই করছি।"
ফাহিমকে আটকের ঘটনায় নিজেদের সংশ্লিষ্টতার কথা জানিয়েছে ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন’। তাদের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে এক পোস্টে দাবি করা হয়—সংগঠনের কর্মী এবং ছাত্রদলের যৌথ প্রচেষ্টায় ফাহিমকে শনাক্ত ও আটক করে পুলিশের হাতে সোপর্দ করা হয়েছে।
এই ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। নেটিজেনদের একাংশ একে ‘বিপ্লবোত্তর বিচার’ হিসেবে দেখছেন। অন্যদিকে, মানবাধিকার কর্মী ও সচেতন নাগরিকদের অনেকেই উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, অভিযোগ যাই হোক না কেন, আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া বা কাউকে ঘিরে ধরে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া 'মব জাস্টিস'-এর নামান্তর কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
পুলিশ জানিয়েছে, ফাহিমের বিরুদ্ধে থাকা মামলাগুলোর সত্যতা নিশ্চিত হলে তাকে আদালতে সোপর্দ করা হবে। আপাতত নিরাপত্তাজনিত কারণে তাকে কড়া পাহারায় রাখা হয়েছে।
আপনার মতামত লিখুন