ঈশ্বরগঞ্জে নূরে আলমের তরমুজ চাষে সাফল্য, তিন মাসেই আয় দেড় লাখ টাকা
ঢাকায় একটি মাদ্রাসায় অল্প বেতনের চাকরি করতেন হাফেজ মো. নূরে আলম। কিন্তু চাকরির মোহ তাকে আটকে রাখতে পারেনি। দেশের মাটির টানে, বিশেষ করে কৃষির অদম্য নেশায় তিনি চাকরি ছেড়ে ফিরে আসেন গ্রামের বাড়ি ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জের চরপুম্বাইল গ্রামে। আর সেই সিদ্ধান্তের সফল রূপায়ণ ঘটালেন তিনি—মাত্র তিন মাসে উচ্চফলনশীল জাতের ‘সুগার কুইন’ তরমুজ চাষ করে এখন তিনি সফল উদ্যোক্তা।
‘বৃহত্তর ময়মনসিংহ অঞ্চলের ফসলের নিবিড়তা বৃদ্ধিকরণ’ প্রকল্পের আওতায় বড়হিত ইউনিয়নের এই তরুণ উদ্যোক্তার ১৫ শতাংশ জমিতে এখন শোভা পাচ্ছে বিষমুক্ত গ্রীষ্মকালীন ‘সুগার কুইন’ তরমুজ।
সরেজমিন দেখা যায়, ক্ষেতজুড়ে ঝুলছে পুষ্ট তরমুজ। প্রতিটি তরমুজের ওজন প্রায় দেড় থেকে চার কেজি পর্যন্ত। নূরে আলম জানান, চলতি বছরের ৮ এপ্রিল তিনি ট্রে ও পলি ব্যাগে বীজ বপন করেন এবং ২৬ এপ্রিল চারা রোপণ করেন। তবে শুরুটা মোটেও সহজ ছিল না। বারবার অতিবৃষ্টির কারণে বেড তৈরি করা ছিল বড় চ্যালেঞ্জ। অনেক চারা গোড়া পচে নষ্ট হয়েছে, গোড়া ফেটে যাওয়ার মতো সমস্যাও দেখা দিয়েছে। তবে বড়হিত ব্লকের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা আলী আখছার খানের নিরন্তর পরামর্শ ও সাহসী দিকনির্দেশনায় তিনি হতাশ হননি।
নূরে আলম বলেন, ‘মাঠ পর্যায়ে কৃষি অফিসের সার্বিক সহযোগিতা আর সঠিক পরামর্শ না থাকলে হয়তো এই প্রতিকূলতা কাটিয়ে উঠতে পারতাম না। মোট খরচ হয়েছে ২০ হাজার টাকা। বর্তমান বাজার দর অনুযায়ী ৮০ থেকে ১০০ টাকা কেজি দরে তরমুজ বিক্রি করছি। আশা করছি, দেড় লাখ টাকার ফলন পাব।’
উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা আলী আখছার খান জানান, ‘আমরা তাকে শুরু থেকেই কারিগরি সহায়তা দিয়েছি। এর আগেও এলাকায় রঙিন ফুলকপি চাষে সাফল্য পেয়েছি, এবার সুগার কুইন তরমুজেও নূরে আলম দারুণ সম্ভাবনা দেখাচ্ছেন।’
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রিপা রাণী চৌহান বলেন,"'বৃহত্তর ময়মনসিংহ অঞ্চলের ফসলের নিবিড়তা বৃদ্ধিকরণ' প্রকল্পের আওতায় আমরা তরুণ উদ্যোক্তাদের আধুনিক চাষাবাদে উৎসাহিত করছি। নূরে আলমের মতো শিক্ষিত তরুণরা আমাদের পরামর্শ ও প্রযুক্তি গ্রহণ করে সফল হওয়ায় আমরা গর্বিত। সুগার কুইন তরমুজে তার এই সাফল্য প্রমাণ করে যে, সঠিক দিকনির্দেশনা পেলে অল্প খরচে উচ্চমূল্যের ফসল ফলিয়ে কৃষিতে বিপ্লব আনা সম্ভব।"
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, ঈশ্বরগঞ্জে প্রকল্পের মাধ্যমে ফসলের নিবিড়তা বৃদ্ধিতে নিরলস কাজ করে যাচ্ছে কৃষি বিভাগ। বর্তমানে মাঠে আউশধানের আবাদও ব্যাপক, যা স্থানীয় কৃষি অর্থনীতিকে নতুন গতি দিয়েছে। চরপুম্বাইল গ্রামের এই সফল চাষি নূরে আলমের এমন সাফল্যে এলাকাজুড়ে প্রশংসার জোয়ার বইছে। কৃষি উদ্যোক্তা নূরে আলমের এই পথচলা যেন নতুন প্রজন্মের কৃষকদের জন্য এক বড় অনুপ্রেরণা।
আপনার মতামত লিখুন