শিক্ষার্থী মাত্র ৫, শিক্ষক-কর্মচারী ১৭: বাউফলের একটি মাদ্রাসা ঘিরে প্রশ্ন

সারাদেশ
শিক্ষার্থী মাত্র ৫, শিক্ষক-কর্মচারী ১৭: বাউফলের একটি মাদ্রাসা ঘিরে প্রশ্ন
২০ জুন ২০২৬, ২:১৭ পিএম

পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার সূর্যমনি ইউনিয়নের পূর্ব ইন্দ্রকুল এলাকার পূর্ব ইন্দ্রকুল ফিরোজা কামাল বালিকা দাখিল মাদ্রাসায় শিক্ষার্থীর তুলনায় শিক্ষক-কর্মচারীর অস্বাভাবিক সংখ্যার বিষয়টি নিয়ে এলাকাজুড়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। প্রথম থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত পাঠদানের অনুমোদন থাকলেও বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটিতে শিক্ষার্থী রয়েছে মাত্র পাঁচজন। অথচ শিক্ষক ও কর্মচারী মিলিয়ে কর্মরত আছেন ১৭ জন।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) সকাল ১১টায় সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, পঞ্চম শ্রেণির ওপরে কোনো শিক্ষার্থী নেই। উপস্থিত পাঁচ শিক্ষার্থীর মধ্যে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় শ্রেণিতে একজন করে এবং চতুর্থ শ্রেণিতে দুইজন অধ্যয়ন করছে। একই কক্ষে একাধিক শ্রেণির শিক্ষার্থীদের পাঠদান করতে দেখা যায়। এছাড়া কয়েকজন শিক্ষককে আলাদা কক্ষে বসে থাকতে দেখা যায়। এ সময় শিক্ষার্থীদের উপস্থিতির হাজিরা খাতাও পাওয়া যায়নি।

মাদ্রাসা সূত্রে জানা যায়, প্রতিষ্ঠানে ১৩ জন শিক্ষক ও চারজন কর্মচারী কর্মরত থাকলেও পরিদর্শনের সময় উপস্থিত ছিলেন সাতজন।

স্থানীয় সূত্র জানায়, ১৯৯৪ সালে স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল মোতালেব মিয়া মাদ্রাসাটি প্রতিষ্ঠা করেন। পরে ২০০৪ সালে এটি এমপিওভুক্ত হয়। প্রতিষ্ঠার পর থেকে তিনি পরিচালনা কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। বর্তমানে তার পুত্রবধূ মাহফুজা আক্তার মাদ্রাসার সুপার, মেয়ে নুরজাহার রাঢ়ি ইবতেদায়ি শিক্ষক এবং দুই ছেলে খাইরুল ইসলাম অফিস সহকারী ও সিদ্দিকুর রহমান নৈশপ্রহরী হিসেবে কর্মরত রয়েছেন।

মাদ্রাসার কয়েকজন শিক্ষক জানান, পর্যাপ্ত শিক্ষার্থী না থাকায় নিয়মিত শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনায় নানা সমস্যা হচ্ছে। তারা বলেন, এমপিওবিহীন কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা এই মাদ্রাসার মাধ্যমে দাখিল পরীক্ষায় অংশ নেয়। এছাড়া অন্য একটি প্রতিষ্ঠানে সম্মানীর ভিত্তিতে শিক্ষক পাঠানো হয় এবং সেখানকার কিছু শিক্ষার্থীও এ মাদ্রাসার অধীনে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষার্থী সংকট থাকলেও শিক্ষক-কর্মচারীর সংখ্যা অপরিবর্তিত রয়েছে। এতে সরকারি অর্থের যথাযথ ব্যবহার এবং প্রতিষ্ঠানটির প্রকৃত শিক্ষা কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তারা বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে মাদ্রাসার সুপার মাহফুজা আক্তার বলেন, দুর্বল যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং বর্ষা মৌসুমে রাস্তাঘাট পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় শিক্ষার্থীরা ভর্তি হতে আগ্রহী হয় না। ফলে শিক্ষার্থী সংখ্যা কমে গেছে। তিনি আরও জানান, এমপিওভুক্ত নয় এমন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের তাদের মাদ্রাসার অধীনে নিবন্ধন করিয়ে দাখিল পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া হয়।

সারাদেশ এর আরও সংবাদ

আরো পড়ুন