পীরগঞ্জে স্বাস্থ্যসেবার করুণ চিত্র: ৫০ শয্যার হাসপাতালে রোগীর উপচে পড়া ভিড়
শহীদ আবু সাঈদীর জন্মভূমি পীরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসা সেবার এক চরম করুণ ও নাজুক চিত্র ফুটে উঠেছে। এখানকার ৫০ শয্যার হাসপাতালটিতে প্রতিদিন ধারণক্ষমতার বাইরে গিয়ে শতাধিক রোগীকে চিকিৎসা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে চিকিৎসকদের। পীরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আরএমও এবং বিসিএস শিশু বিশেষজ্ঞ ডাঃ তরিকুল ইসলাম জানান, তীব্র শয্যা সংকটের কারণে অনেক রোগীকে হাসপাতালের বারান্দা, মেঝে ও খোলা জায়গায় থেকে কষ্টকরভাবে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। দিন দিন রোগীর চাপ ক্রমাগত বাড়লেও সেই অনুপাতে বাড়ছে না ন্যূনতম চিকিৎসা সুবিধা। এই চরম অব্যবস্থাপনা ও ভোগান্তি দূর করতে শহীদ পরিবারের পক্ষ থেকে জোর দাবি জানানো হয়েছে যেন পীরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে জরুরি ভিত্তিতে ৫০ শয্যা থেকে ১০০ শয্যায় উন্নীত করা হয়, এবং সেই সাথে প্রয়োজনীয় ডাক্তার, নার্স, জনবল ও আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জাম দ্রুত নিশ্চিত করা হয়। এটি এখন শহীদ আবু সাঈদীর পীরগঞ্জবাসীর প্রাণের দাবিতে পরিণত হয়েছে, যার মূল কথা হলো—“স্বাস্থ্যসেবায় আর অবহেলা নয়, উন্নত চিকিৎসা এখনই চাই।”
এই চিকিৎসা সংকটের পাশাপাশি হাসপাতালটিতে দীর্ঘদিনের প্রশাসনিক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগও প্রকট হয়ে উঠেছে। পীরগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সেনেটারি ইন্সপেক্টর দীর্ঘ আঠারো বছর ধরে একই স্থানে চাকরি করছেন এবং তাঁর বিরুদ্ধে ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। হাসপাতালের রোগীদের জন্য বরাদ্দকৃত খাবারের মান নিয়েও তীব্র ক্ষোভ রয়েছে, যেখানে রোগীদের অত্যন্ত নিম্নমানের খাবার পরিবেশন করা হচ্ছে বলে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া হাসপাতালের বহির্বিভাগে টিকিট কাটতে গিয়ে রোগীরা প্রতিনিয়ত হয়রানি ও অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের শিকার হচ্ছেন; সরকারি নিয়ম অনুযায়ী যেখানে টিকিটের মূল্য তিন টাকা, সেখানে রোগীদের কাছ থেকে জোরপূর্বক পাঁচ টাকা করে রাখা হচ্ছে। পীরগঞ্জবাসীর দাবি, অতিদ্রুত এই দীর্ঘমেয়াদী দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের অপসারণ, খাবারের মান উন্নয়ন, টিকিটের নামে অতিরিক্ত টাকা আদায় বন্ধ এবং হাসপাতালটিকে ১০০ শয্যায় উন্নীত করে পীরগঞ্জের সাধারণ মানুষের জন্য আধুনিক ও উন্নত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা হোক।
আপনার মতামত লিখুন