মণিরামপুরে বিদ্যুৎ বিপর্যয়ে জনজীবন স্থবির: আধা ঘণ্টা আলো, দুই ঘণ্টা অন্ধকারে চরম ভোগান্তি
যশোরের মণিরামপুর উপজেলায় তীব্র ও অব্যাহত বিদ্যুৎ সংকটে জনজীবন কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা লোডশেডিং ও অনিয়মিত বিদ্যুৎ সরবরাহে সাধারণ মানুষ চরম ক্ষোভ ও চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, বিদ্যুৎ সরবরাহ থাকছে না কোনো নির্দিষ্ট নিয়মে। কোথাও আধা ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকার পর দেড় থেকে দুই ঘণ্টা পর্যন্ত সম্পূর্ণ অন্ধকারে থাকতে হচ্ছে এলাকাবাসীকে। এতে গরমে শিশু ও বৃদ্ধরা কষ্টে দিন কাটাচ্ছেন, পাশাপাশি ক্ষুদ্র ব্যবসা, দোকানপাট, অনলাইন কার্যক্রম ও শিক্ষা কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
ভুক্তভোগীদের ভাষায়, বিদ্যুৎ পরিস্থিতি এখন “নিয়ন্ত্রণহীন রেশনিংয়ের” পর্যায়ে পৌঁছেছে, যা সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রাকে দুর্বিষহ করে তুলেছে। এ বিষয়ে যশোর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ এর সংশ্লিষ্ট এজিএম জানান, মণিরামপুরে স্বাভাবিক চাহিদা অনুযায়ী প্রায় ১৪ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ প্রয়োজন হলেও বর্তমানে সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ৮ থেকে ৯ মেগাওয়াট। অর্থাৎ চাহিদার প্রায় ৫০ শতাংশ বিদ্যুৎ দিয়েই পুরো এলাকা চালাতে হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, “যে পরিমাণ বিদ্যুৎ পাচ্ছি, সেই অনুপাতে বাধ্য হয়েই রেশনিং করতে হচ্ছে। তাই নির্দিষ্ট সময় বিদ্যুৎ দিয়ে আবার লোডশেডিং দিতে হচ্ছে।”তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে চলমান এই দুর্ভোগে কার্যকর সমাধান না আসায় জনগণের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ বাড়ছে। অনেকেই মনে করছেন, বিদ্যুৎ বণ্টন ব্যবস্থাপনায় সঠিক পরিকল্পনা ও জবাবদিহিতার অভাব রয়েছে।
এদিকে বিদ্যুৎ সংকটের কারণে ব্যবসা-বাণিজ্য, শিক্ষা ও স্বাভাবিক জনজীবন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে স্থায়ী সমাধানের কোনো দৃশ্যমান উদ্যোগ না থাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে অসন্তোষ আরও বাড়ছে।ভুক্তভোগীরা দ্রুত বিদ্যুৎ পরিস্থিতির উন্নয়ন ও নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করতে কার্যকর ও কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের জোর দাবি জানিয়েছেন।
সাব্বির হাসান
আপনার মতামত লিখুন