৪২ লাখ টাকার 'মরণফাঁদ'
উদ্বোধনের আগেই খালের বুকে শুয়ে পড়ল রাজাপুরের ব্রিজ
উপজেলার শুক্তাগড় ইউনিয়নের একটি ডেক-স্ল্যাব ব্রিজ। উপজেলার সাংগর-গোপালপুর সংযোগ সড়কে বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক মিয়ার বাড়ির সামনে ৪২ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই ব্রিজটি এখন জননিরাপত্তার জন্য চরম হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে
নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার আগেই ধসে পড়ার উপক্রম হয়েছে ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলার শুক্তাগড় ইউনিয়নের একটি ডেক-স্ল্যাব ব্রিজ। উপজেলার সাংগর-গোপালপুর সংযোগ সড়কে বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক মিয়ার বাড়ির সামনে ৪২ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই ব্রিজটি এখন জননিরাপত্তার জন্য চরম হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের কারণেই কাজ শেষ হওয়ার মাত্র ১৫ দিনের মাথায় পুরো কাঠামোটি একদিকে ডেবে হেলে পড়েছে।
উপজেলা প্রকৌশল অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, 'শান্ত এন্টারপ্রাইজ' নামক একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ১৬ মিটার দৈর্ঘ্য ও ৩.৭ মিটার প্রস্থের এই ব্রিজটি নির্মাণ করছে। এর আগে অনিয়মের অভিযোগে একবার কাজ বন্ধ থাকলেও গত বছরের নভেম্বর মাসে নতুন করে কাজ শুরু হয়।
মঙ্গলবার দুপুরে সরেজমিনে দেখা যায়, নবনির্মিত ব্রিজটি ভয়াবহভাবে হেলে আছে। স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, ঢালাইয়ের সময়ই ব্রিজের একাংশ ডেবে গিয়েছিল। তখন তড়িঘড়ি করে জোড়াতালি দিয়ে মেরামত করা হলেও ১৫ দিন পার না হতেই পুরো ব্রিজটি ধসে পড়ার উপক্রম হয়েছে। তিন গ্রামের কয়েক হাজার মানুষের চলাচলের একমাত্র ভরসা এই ব্রিজটি এখন অকেজো। ভারী যানবাহন তো দূরের কথা, সাধারণ অটোরিকশা চলাচলেরও উপায় নেই। এলাকাবাসী বাধ্য হয়ে আবারও ঝুঁকিপূর্ণ বাঁশের সাঁকোর ওপর নির্ভর করছেন।
অভিযুক্ত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মালিক মো. নুরুল আমিন খান সুরুজ বর্তমানে পলাতক থাকায় এ বিষয়ে তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
উপজেলা প্রকৌশলী অভিজিৎ মজুমদার এ বিষয়ে জানান, ব্রিজটি এখনো কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়নি। পুরো বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে এবং ত্রুটিপূর্ণ কাজের জন্য দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
আপনার মতামত লিখুন