বাংলার মসনদে ‘পরিবর্তনের পরিবর্তন’
পশ্চিমবঙ্গ দখল করল বিজেপি, ১৫ বছরের তৃণমূল জমানার অবসান
ছবি: সংগৃহীত
বাংলার রাজনৈতিক মানচিত্রে এক মহাপ্লাবন। দীর্ঘ দেড় দশকের মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শাসনকে হটিয়ে দিয়ে নবান্নের দখল নিল ভারতীয় জনতা পার্টি। ২০৬টি আসন জিতে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার সাথে বাংলায় প্রথমবারের মতো গেরুয়া সূর্যোদয় নিশ্চিত করেছে মোদি-শাহের দল। অন্যদিকে, ২০১১ সাল থেকে একচ্ছত্র আধিপত্য ধরে রাখা তৃণমূল কংগ্রেস নেমে এসেছে মাত্র ৮১টি আসনে।
ফলাফল একনজরে:
বিজেপি: ২০৬ (বিজয় নিশ্চিত)
তৃণমূল কংগ্রেস: ৮১
অন্যান্য: ০৬
যেভাবে উল্টে গেল বাংলার রাজনৈতিক ছক:
দীর্ঘকাল রাজ্যের মহিলা ভোটাররা তৃণমূলের রক্ষাকবচ হিসেবে কাজ করলেও, এবার সেই সমীকরণ বদলে গেছে। কেন্দ্রীয় সরকারের নারী সংরক্ষণ বিল এবং সাম্প্রতিক ‘আরজি কর’ কাণ্ডসহ রাজ্যের নারী নিরাপত্তা নিয়ে তৈরি হওয়া ক্ষোভ সরাসরি প্রতিফলিত হয়েছে ইভিএমে।
বকেয়া ডিএ (DA) এবং সপ্তম বেতন কমিশন কার্যকর না হওয়া নিয়ে রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের বঞ্চনা এবার বড় ফ্যাক্টর হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিজেপির প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী দ্রুত বেতন কাঠামো সংস্কারের আশায় সরকারি কর্মী ও তাঁদের পরিবার একজোট হয়ে পরিবর্তনের পক্ষে রায় দিয়েছেন।
২০-২৯ বছর বয়সী ভোটারদের মধ্যে কর্মসংস্থান ও শিল্পায়নের যে চাহিদা ছিল, তা পূরণে তৃণমূল ব্যর্থ হয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। বিজেপির ‘বিকাশ’ ও পরিকাঠামো উন্নয়নের বার্তা এই তরুণ প্রজন্মকে ব্যাপকভাবে প্রভাবিত করেছে।
কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের শক্তিশালী ইমেজ এবং রাজ্য প্রশাসনের বিরুদ্ধে পুঞ্জীভূত প্রতিষ্ঠানবিরোধী হাওয়া (Anti-incumbency) এই ফলের নেপথ্যে বড় কারণ। এছাড়া, ভোটার তালিকা সংশোধন ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর কঠোর নজরদারিতে ‘ভুয়া ভোটার’ মুক্ত ভোট প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়াকেও জয়ের অন্যতম কারণ হিসেবে দেখছে বিজেপি নেতৃত্ব।
বিগত ২০২১ সালের নির্বাচনে ৩ থেকে ৭৭-এ পৌঁছে যে অগ্রগতির সূচনা বিজেপি করেছিল, ২০২৬-এর এই মহাবিজয় তাকে পূর্ণতা দিল। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই জয় কেবল ক্ষমতার বদল নয়, বরং পশ্চিমবঙ্গের আর্থ-সামাজিক ও প্রশাসনিক অগ্রাধিকার পরিবর্তনের এক ঐতিহাসিক জনরায়। নবান্নে শুরু হতে যাচ্ছে এক নতুন অধ্যায়।
আপনার মতামত লিখুন