তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী থালাপতি বিজয়ের মোট সম্পদের পরিমাণ কত?
থালাপতি বিজয়। ছবি: সংগৃহীত
দক্ষিণ ভারতের রাজনীতিতে গত ৭০ বছর ধরে চলে আসা ডিএমকে ও এআইএডিএমকে-র দ্বিমেরু আধিপত্য চুরমার করে এক অভাবনীয় বিপ্লব ঘটালেন অভিনেতা থালাপতি বিজয়। রুপালি পর্দার জাদুকর থেকে সরাসরি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়ে তিনি তৈরি করলেন নতুন এক রাজনৈতিক সমীকরণ। এই ঐতিহাসিক জয়ের পর বর্তমানে ভারতজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে বিজয়ের দাখিল করা হলফনামার বিশাল সম্পদ ভাণ্ডার।
নির্বাচনি হলফনামা অনুযায়ী, বিজয়ের মোট সম্পদের পরিমাণ ৬২৪ কোটি রুপি। ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে তার মোট আয় ছিল ১৮৪ কোটি ৫৩ লাখ রুপি। আশ্চর্যের বিষয় হলো, এত বিশাল প্রতিপত্তির মালিক হওয়া সত্ত্বেও বিজয় বর্তমানে সম্পূর্ণ ঋণমুক্ত।
তার অস্থাবর সম্পত্তির পরিমাণ ৪০৪ কোটি রুপি, যার সিংহভাগই জমা আছে ব্যাংকে:
- সেভিংস অ্যাকাউন্ট: ইন্ডিয়ান ওভারসিজ ব্যাংকের সালিগ্রামাম শাখায় একটি অ্যাকাউন্টেই রয়েছে ২১৩ কোটি রুপি।
- ফিক্সড ডিপোজিট: বিভিন্ন ব্যাংকে মোট ১০০ কোটি রুপি জমা রেখেছেন তিনি (অ্যাক্সিস ব্যাংকে ৪০ কোটি, ইন্ডিয়ান ওভারসিজ ব্যাংকে ২৫ কোটি, এইচডিএফসি ব্যাংকে ২০ কোটি এবং স্টেট ব্যাংকে ১৫ কোটি)।
বিজয়ের স্থাবর সম্পত্তির মোট বাজারমূল্য প্রায় ২২০ কোটি রুপি। এর খতিয়ান নিচে দেওয়া হলো:
- আবাসিক ভবন: ১১৫ কোটি টাকা মূল্যের ১০টি অভিজাত আবাসিক সম্পত্তি।
- বাণিজ্যিক ভবন: ৮২ কোটি ৮০ লাখ টাকার বাণিজ্যিক সম্পত্তি।
- জমি: প্রায় ২২ কোটি টাকার অনাবাদি জমি এবং কোডাইকানালের ভাট্টাপাট্টি গ্রামে ২০ লাখ টাকার কৃষিজমি।
বিজয়ের গ্যারেজে থাকা বিলাসবহুল ও বৈচিত্র্যময় যানবাহনের তালিকা চমকপ্রদ:
- টয়োটা লেক্সাস ৩৫০: ৩ কোটি ১ লাখ রুপি।
- বিএমডব্লিউ ১৭: ২ কোটি রুপি।
- টয়োটা ভেলফায়ার: ১ কোটি ৬৩ লাখ রুপি।
- বিএমডব্লিউ ৫৩০: ৮০ কোটি ৫০ লাখ রুপি।
- মারুতি সুইফ্ট: ৫ কোটি ৩৫ লাখ রুপি।
- টিভিএস এক্সএল সুপার: ৬৭ হাজার ৪০০ রুপি।
এ ছাড়া তার সংগ্রহে রয়েছে ১ কোটি ২০ লাখ রুপি মূল্যের প্রায় ৮৮৩ গ্রাম স্বর্ণ ও রুপার সামগ্রী।
বিজয় শেয়ার বাজারে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বেশ রক্ষণশীল। তার মোট ইক্যুইটি লগ্নির পরিমাণ ২০ লাখ রুপিরও কম (জয়া নগর প্রপার্টিজ, আইওবি এবং সান পেপার মিল)।
অন্যদিকে, তিনি পরিবারের সদস্যদের বড় অঙ্কের অর্থ দিয়েছেন;
যার মধ্যে স্ত্রী সঙ্গীতা বিজয়কে ১২ কোটি ৬০ লাখ, পুত্র জেসন সঞ্জয়কে ৮ লাখ ৭৮ হাজার এবং কন্যা দিব্যা সাশাকে ৪ লাখ ৬০ হাজার রুপি দিয়েছেন।হলফনামায় বিজয়ের আয়ের মূল উৎস হিসেবে অভিনয়, পেশাগত আয়, ব্যাংকের সুদ এবং বাড়ি ভাড়া থেকে প্রাপ্ত অর্থের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। অভিনয় জীবনের সাফল্যের পর এখন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে প্রশাসনিক ক্ষেত্রে তিনি কতটা সফল হন, সেদিকেই তাকিয়ে গোটা ভারত।
আপনার মতামত লিখুন