হবিগঞ্জে রশিদপুর ফিনলে কোম্পানির দাপটে দিশেহারা নিরীহ রফিকুল ইসলাম

হবিগঞ্জে রশিদপুর ফিনলে কোম্পানির দাপটে দিশেহারা নিরীহ রফিকুল ইসলাম
২৫ জুন ২০২৬, ৪:৩৩ পিএম

"হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলার রশিদপুর ফিনলে চা কোম্পানির  প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) তাহমিনা চৌধুরী, ডিজিএম আমজাদ চৌধুরীর ওমর ফারুক বিরুদ্ধে এক নিরীহ নাগরিক রফিকুল ইসলামের বৈধ জমি দখল চেষ্টার অংশ হিসেবে নানামুখী হয়রানি, মিথ্যা মামলা ও হুমকির অভিযোগ উঠেছে। ২০২২ সাল থেকে দীর্ঘ চার বছর ধরে প্রশাসনের একাধিক উদ্যোগ সত্ত্বেও কোম্পানিটি সীমানা চিহ্নিতকরণের জন্য সমঝোতায় না বসে উল্টো শ্রমিক ও বহিরাগতদের ব্যবহার করে ওই ভূমিমালিক রফিকুল ইসলামকে হেনস্তা করছে বলে জানা গেছে।

​বারবার আশ্বাস, কিন্তু সমঝোতায় অনুপস্থিতি

​ভুক্তভোগী জানান, ২০২২ সাল থেকে পিনলে কোম্পানির সিইও তাহমিনা চৌধুরীর সাথে দফায় দফায় বসা হয় চার বছর দরে,অনেক প্রমান আছে।  এবং রেকর্ড থাকা সত্ত্বেও কোম্পানি কর্তৃপক্ষ কেবল ‘শেষ করবে বলে বলে আশ্বাস দিয়ে সময়ক্ষেপণ করছে। এই বিষয়ে জেলা প্রশাসক (ডিসি) মহোদয়ের কাছে একাধিকবার আবেদন করা হলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে উভয় পক্ষকে নিয়ে বসার উদ্যোগ নেওয়া হয়। কিন্তু প্রভাবশালী এই চক্রটি ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে কোনো প্রকার সমঝোতায় না এসে বিভিন্ন ফন্দি-ফিকির তৈরি করছে।

​মামলা ও আইনি লড়াই

​ভুক্তভোগী রফিকুল ইসলাম এর অভিযোগ, কোম্পানি কর্তৃপক্ষ প্রভাব খাটিয়ে তার ওপর হামলার পাশাপাশি মিথ্যা মামলা দায়ের করে। পরবর্তীতে আত্মরক্ষার্থে এবং নিজের বৈধ জমির অধিকার রক্ষায় তিনি আদালতে তাহমিনা চৌধুরী, ওমর ফারুক ও আমজাদ চৌধুরীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করতে বাধ্য হন। আদালত থেকে আসামিরা বন্ড (মুচলেকা) দিলেও তার কোনো তোয়াক্কা না করে ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে যাচ্ছেন। উক্ত আদালতের বন্ডের কপিও ভুক্তভোগী রফিকুল ইসলামের নিকট সংরক্ষিত রয়েছে।

​প্রশাসনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি ও সুশীল সমাজকে ব্যবহার

​গতকাল (২২ জুন, ২০২৬) বিষয়টি সুরাহার লক্ষ্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), জেলা প্রশাসক (ডিসি) এবং সরকারি সার্ভেয়ার (আমিন) সরেজমিনে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। প্রশাসন উপস্থিত থাকলেও পিনলে কোম্পানির কোনো প্রতিনিধি সেখানে উপস্থিত হয়নি। এরপর ডিসি মহোদয় উভয় পক্ষকে তাঁর কার্যালয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য ডাকলেও কোম্পানি কর্তৃপক্ষ তা সম্পূর্ণ অমান্য করে অনুপস্থিত থাকে।

​উল্টো নিরীহ এই রাফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে শ্রমিক ও স্থানীয় কিছু সাধারণ মানুষকে উসকে দিয়ে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিলের মতো সাজানো কর্মসূচি পালন করাচ্ছে এই প্রভাবশালী চক্রটি।

​"কাগজপত্র সঠিক, আমিন মেপে দিলে ছেড়ে দেব"

​ভুক্তভোগী ভূমিমালিক কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন,

​"আমার জায়গার শতভাগ বৈধ কাগজপত্র রয়েছে। প্রশাসনও আমার সব কাগজপত্র দেখে বলেছেন যে আমি সঠিক আছি। শ্মশানঘাট কিংবা কবরস্থান সব যার যার জায়গায় আছে, আমি কারো জায়গা দখল করিনি। আমি আমার নিজের জায়গায় আছি। যদি তাদের মনে হয় আমার জায়গা তাদের ভেতরে পড়েছে, তবে তারা আসুক। সরকারি সার্ভেয়ার এবং এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সামনে মাপা হোক। আমিন যদি বলে আমার জায়গা ওদের, আমি এক মুহূর্তে তা ছেড়ে দেব। কিন্তু তারা ক্ষমতার জোরে আমাকে ও আমার পরিবারকে এলাকাছাড়া করতে চাচ্ছে। আমি একজন সাধারণ মানুষ, এভাবে প্রতিনিয়ত হামলা-মামলা আর হুমকির মুখে আমি কীভাবে সমাজে টিকে থাকব?"

প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা

​দীর্ঘ ৪ বছর ধরে চলা এই মানসিক ও শারীরিক হয়রানি থেকে বাঁচতে এবং নিজের পৈতৃক ও ক্রয়কৃত বৈধ সম্পত্তির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ভুক্তভোগী দেশের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং ঊর্ধ্বতন প্রশাসনের জরুরি ও কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

অপরাধ ও দুর্নীতি এর আরও সংবাদ

আরো পড়ুন