ত্রিশালে ইউএনওর বিরুদ্ধে ব্যবসায়ীদের সংবাদ সম্মেলন গোহাটা মাঠে মার্কেট নির্মাণের টেন্ডার বাতিলের দাবি

ত্রিশালে ইউএনওর বিরুদ্ধে ব্যবসায়ীদের সংবাদ সম্মেলন গোহাটা মাঠে মার্কেট নির্মাণের টেন্ডার বাতিলের দাবি
২৩ জুন ২০২৬, ৭:৫৯ পিএম

ময়মনসিংহের ঐতিহ্যবাহী ত্রিশাল পৌরসভার গোহাটা মাঠ সংরক্ষণ এবং সেখানে বাণিজ্যিক শেড ঘর (মার্কেট) নির্মাণের প্রস্তাব বাতিলের দাবিতে আলোচনা সভা ও সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৩ জুন) বিকেলে ত্রিশাল গোহাটা মাঠে স্থানীয় কৃষক, ব্যবসায়ী, সচেতন নাগরিক ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের উদ্যোগে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা অভিযোগ করেন, ত্রিশাল উপজেলার সর্ববৃহৎ ও শতবর্ষী ঐতিহ্যবাহী গোহাটায়, যেখানে নিয়মিত গরু, ছাগল, ভেড়া এবং শাকসবজির হাট বসে, সেখানে বাণিজ্যিক শেড ঘর নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে ত্রিশাল পৌরসভার প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আরাফাত সিদ্দিকীর উদ্যোগে ৬টি সেটঘর নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে বলে তারা দাবি করেন।

বক্তারা বলেন, গোহাটা শুধু একটি বাজার নয়; এটি এ অঞ্চলের শতবর্ষী ঐতিহ্যের অংশ এবং স্থানীয় অর্থনীতির অন্যতম প্রাণকেন্দ্র। প্রতি হাটবারে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে হাজারো কৃষক ও ব্যবসায়ী গবাদিপশু ও কৃষিপণ্য নিয়ে এখানে আসেন। বর্তমানে গোহাটার বিকল্প কোনো উপযুক্ত স্থান না থাকায় মাঠে মার্কেট নির্মাণ করা হলে হাটটি কার্যত বন্ধ হয়ে যাবে। এতে হাজারো কৃষক ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ন্যায্যমূল্যে পণ্য বিক্রির সুযোগ হারিয়ে জীবিকা সংকটে পড়বেন।

তারা আরও বলেন, গোহাটা মাঠে মার্কেট নির্মাণ হলে ব্যবসায়ীরা বাধ্য হয়ে সড়ক ও আশপাশের এলাকায় বাজার বসাবেন, যার ফলে তীব্র যানজট ও জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হবে।

সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা অবিলম্বে গোহাটা মাঠে মার্কেট নির্মাণের টেন্ডার প্রক্রিয়া স্থগিত, মাঠটি উন্মুক্ত রাখা এবং অন্য কোনো উপযুক্ত স্থানে উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের দাবি জানান। অন্যথায় জনমতের বিরুদ্ধে গিয়ে এ উদ্যোগ বাস্তবায়নের চেষ্টা করা হলে আগামীতে বৃহত্তর আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তারা।

সাবেক ছাত্রনেতা রুকুনুজ্জামান সরকার রাহাতের সঞ্চালনায় সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন স্থানীয় বাসিন্দা মশিউর রহমান দীপক, উমর ফারুক, মতিউর রহমান মতি, মাওলানা আবু তাহের এবং রুহুল আমীন মণ্ডলসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

স্থানীয় ব্যবসায়ী শহিদুল ইসলাম বলেন, পৌর প্রশাসক ও ইউএনও মহোদয়ের কাছে আমাদের প্রশ্ন, যদি মার্কেট নির্মাণ করতেই হয়, তাহলে অন্য জায়গায় করুন। আপনি ত্রিশালে এসে প্রথমে ঈদগাহ মাঠ বন্ধ করে দিলেন, এরপর আপনার বাসভবনের সামনে দিয়ে চলাচলকারী সড়কটি বন্ধ করে দিলেন। অভিযোগ রয়েছে, আপনার স্ত্রীর বিশ্রামে অসুবিধা হয় বলেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কেন এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো, তার জবাব ত্রিশালবাসী জানতে চায়।

স্থানীয় সমাজসেবক ও ব্যবসায়ী মাওলানা আবু তাহের বলেন, আপনার আগে ত্রিশালে আরও অনেক ইউএনও দায়িত্ব পালন করেছেন। কিন্তু তাঁদের কাউকে ত্রিশালের রাস্তা, ঘাট বা বাজার বন্ধ করতে দেখা যায়নি। আপনি কেন এমন সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন? আপনার বাসভবনের সামনে আগে থেকেই একটি রাস্তা থাকা সত্ত্বেও সেখানে নতুন রাস্তার কাজ করা হচ্ছে। অথচ ত্রিশাল পৌরসভার বিভিন্ন সড়ক ও অবকাঠামোর বেহাল অবস্থার উন্নয়নে আপনার কোনো কার্যকর ভূমিকা দেখা যাচ্ছে না।

এবিষয়ে জানতে ত্রিশাল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আরাফাত সিদ্দিকীর মুঠোফোনে একাধিকবার কল দিয়েও পাওয়া যায়নি।

অপরাধ ও দুর্নীতি এর আরও সংবাদ

আরো পড়ুন