অবশেষে জামিনে মুক্তি পেলেন সেই যুব মহিলা লীগ নেত্রী শিল্পী ও তার অবুঝ শিশু
আদালত ভবনের সামনে থেকে তোলা ছবি। ছবি: সংগৃহীত
আদালতের বারান্দায় বসে দেড় মাসের দুগ্ধপোষ্য সন্তানকে দুধ খাওয়াচ্ছেন মা, আর চোখে গড়িয়ে পড়ছে জল—এমনই এক আবেগঘন দৃশ্যের সাক্ষী হলো ঢাকার সিএমএম আদালত। বিস্ফোরক আইনের মামলায় গ্রেপ্তার যুব মহিলা লীগ নেত্রী শিল্পী বেগমকে মঙ্গলবার দুপুরে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিলেও, মাত্র চার ঘণ্টার ব্যবধানে মানবিক বিবেচনায় তাকে জামিন দিয়েছে আদালত।
মঙ্গলবার দুপুর ২টায় শিল্পী বেগমকে আদালতে হাজির করে পুলিশ। প্রথম দফায় অতিরিক্ত মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আওলাদ হোসাইন মুহাম্মদ জোনাইদ জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাকে শিশুসহ কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। বিকাল ৩টা ১২ মিনিটে আদালত কক্ষ থেকে বের হয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন শিল্পী। হাজতখানায় যাওয়ার আগে আদালতের বারান্দায় বসে ১ মাস ১৬ দিন বয়সী সন্তানকে দুধ খাওয়ান তিনি।
তবে সন্ধ্যা ৭টা ১৫ মিনিটে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমানের আদালতে পুনরায় শুনানি হলে পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটে। আসামিপক্ষ থেকে শিল্পীর সিজারিয়ান অপারেশন এবং কোলের শিশুর স্বাস্থ্যঝুঁকির বিষয়টি তুলে ধরা হলে আদালত মানবিক কারণে তার জামিন মঞ্জুর করেন।
২০২৪ সালের জুলাই মাসে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় শিক্ষার্থী তাহমিদ মুবিন রাতুল গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনার জেরে এই মামলার সূত্রপাত। মামলার এজাহার অনুযায়ী: ২৩ জুলাই শিল্পী বেগমের নির্দেশে একদল সশস্ত্র লোক রাতুলের বাসায় হামলা ও লুটতরাজ চালায়। হামলায় ৫ লাখ টাকার আসবাবপত্র ভাঙচুর এবং ৩ লাখ টাকার মালামাল লুট করা হয়। বাসার সামনে বোমা বিস্ফোরণ ঘটিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করা হয় এবং রাতুলের বাবাকে মারধর করা হয়।
এই ঘটনায় ২০২৫ সালের ২৫ জানুয়ারি তেজগাঁও থানায় মামলা দায়ের করা হয়।সোমবার সন্ধ্যায় তেজগাঁওয়ের নিজ বাসা থেকে শিল্পী বেগমকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তদন্ত কর্মকর্তা উপপরিদর্শক শেখ নজরুল ইসলাম দাবি করেন, শিক্ষার্থী দমনে শিল্পীর সক্রিয় ভূমিকার যথেষ্ট প্রমাণ রয়েছে। অন্যদিকে শিল্পী বেগম একে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা বলে দাবি করেছেন। শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বিতীয় দফার আদেশে কারামুক্ত হয়ে ঘরে ফিরছেন এই নেত্রী।
আপনার মতামত লিখুন