উল্লাপাড়ায় বিশ বছর আগে ছিলো পাকা সড়ক

সারাদেশ
উল্লাপাড়ায় বিশ বছর আগে ছিলো পাকা সড়ক
০২ জুন ২০২৬, ১২:২২ পিএম

সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় হাটদেলুয়া গ্রামে এলজিইডির একটি পাকা সড়ক নাই হতে চলেছে। পুকুরের দুই পাড়ের সড়ক দিনে দিনে ধসেছে। এখন পায়ে হেটে চলাচলের সড়ক পথ হয়েছে। কোনো মতো পায়ে হেটে চলাচল করা যায়। প্রায় বিশ বছর আগে হাটদেলুয়া গ্রামের সড়ক পথ  পাকা ছিল। পুরো সড়ক পথ পাকাকরণে উন্নত যোগাযোগ পথ গড়ে উঠেছিল। এখন সে সড়ক হয়েছে পাকা বিহীন গর্ত গাতায় ভরা একটি সড়ক। সব মিলিয়ে হাটদেলুয়া  সড়কে অর্ধেকের বেশী অংশের পাকার হদিস নেই । আবার সে সড়কের  কিছু অংশ নাই হয়ে যাচ্ছে।  এখন হাটদেলুয়া গ্রামের বেহাল দশার সে সড়কে গ্রামবাসীরা কষ্টে চলাচল করেন। 

উপজেলার পূর্ণিমাগাতী ইউনিয়নের হাটদেলুয়া বটতলা মোড় থেকে গোয়ালজানি আইনুল হক বাজার অবধি প্রায় দুই কিলোমিটার সড়ক পথ পাকা ( কার্পেটিং ) করা হয়েছিলো। এলজিইডি থেকে প্রায় বিশ বছর আগে সড়কটি পাকা করা হয়। সে সময় এলাকায় উন্নত সহজ যোগাযোগ  ব্যবস্থা গড়ে উঠেছিল। হাটদেলুয়া গ্রামের  সরকারি সম্পত্তি চৌধুরীগাতি পুকুরের দুটি পাড় ( চালা ) হয়ে প্রায় পাচশো ফুট সড়ক পথ বয়ে গেছে। চৌধুরীগাতি পুকুরের সড়ক পেরিয়ে এখন দশ থেকে বারোটি পরিবার বসবাস করছেন। আর সড়কটির দুপাশে হাটদেলুয়া গ্রামের বসতিদের শত শত বিঘা আবাদী জমি আছে। 

হাটদেলুয়া বটতলা মোড় থেকে চৌধুরীগাতি পুকুরের পূর্ব পাড়ের দক্ষিণ কোনা মোড় অবধি  গ্রামের ভেতর দিয়ে বয়ে যাওয়া পাকা সড়ক পথের কার্পেটিং অনেক বছর আগে উঠে গেছে বলে জানানো হয়। প্রায় বিশ বছর আগে সড়কটির প্রথম কার্পেটিং করা হয়। এর পর আর কার্পেটিং হয়নি। এসড়কের বটতলা মোড় থেকে চৌধুরীগাতি পুকুরের মোড় অবধি পুরানো কার্পেটিং এখন সড়কে নেই বললেই চলে। পুরো সড়ক একেবারে ভাংচুর অবস্থায়। বড় ছোটো গর্ত হয়েছে। সড়কের পাশ ধসে গেছে। এদিকে একই সড়কের  চৌধুরীগাতি পুকুরের মোড় থেকে দুটি পাড়ের সড়কের বেশী অংশ পুকুরে ধসে গেছে। বৃষ্টি বাদল হলেই সড়ক পুকুরে আরো ধসে যাচ্ছে। এখন পুকুরের চালায় পাকা সড়ক পথ নাই হতে চলেছে। পুকুরের চালায় সড়ক পথের পাশে নিজেদের জায়গায়  প্রায় সাতটি পরিবার বসবাস করছেন। পরিবার প্রধানো হলেন - ওমর আলী , আবু বক্কার , বেলাল হোসেন , শাহাদত হোসেন , শহিদ মিয়া ও ইউসুফ আলী।  এখন সড়কের পুকুরের চালা হয়ে পায়ে হেটে চলাচল কষ্ট হয়। হাটদেলুয়া গ্রামের বহুজনের এলাকার মাঠে আবাদী জমি আছে। সড়কের এমন অবস্থায় জমি থেকে ফসল বাড়ীর উঠোন আঙ্গিনায় মাথায় বয়ে আনতে হয়। হাটদেলুয়া গ্রামের কৃষক আঃ হাই বলেন আবাদী মাঠে তার আট বিঘা জমি আছে। আবু বক্কারের আড়াই বিঘা জমি আছে। এরা বলেন মাঠের জমির ফসল কেটে মাথায় বয়ে বাড়ীর উঠোন আঙ্গিনায় নেওয়া হয়। পুকুরের চালার সড়ক পথ ধসে যাওয়ায় তাদেরকে ফসল মাথায় বয়ে নিতে হয়। 

সরেজমিনে গিয়ে আরো দেখা গেছে  হাটদেলুয়া গ্রামের অনেকেই  বাড়ী নির্মাণে মালামাল বহনে নিজেরাই সড়কের গর্তগুলোয় ইটের রাবিশ , বালু কিংবা মাটি ফেলে নিচ্ছেন। অটোভ্যান চালক ফজলুল হক বলেন গ্রামে আরো কয়েকজন অটোভ্যান চালক আছেন। তারা মাঝে মধ্যেই নিজেদের টাকায় সড়কের ভাঙ্গাচোরা জায়গায় ও গর্তগুলোয় বালি মাটি ফেলে কিছুটা সহজ চলাচল ব্যবস্থা করে থাকেন। চৌধুরীগাতি পুকুর লিজ নিয়ে গ্রামের হাফিজুর রহমান মাছ চাষ করছেন। তিনি বলেন সড়কের বেহাল দশায়  মাছের খাদ্যের বস্তা মাথায় বয়ে আনতে হয়। আবার পুকুরের  মাছ ধরার পর প্রায় আধা কিলোমিটার দুরে বয়ে নিয়ে নসিমন কিংবা পিকআপে লোড দেওয়া হয়। অথচ পুকুরের চালা হয়েই সড়ক পথ বয়ে গেছে। পুকুরের চালায় সড়ক ধসে গেছে। আর বাহন চলাচল করে না। হাটদেলুয়া গ্রামের মো. জাহাঙ্গীর আলম মিঠু বলেন প্রায় বিশ আগে বটতলা মোড় থেকে গোয়ালজানি আইনুল হক বাজার অবধি সড়ক পাকা করায় উন্নত সহজ যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে উঠেছিল। আর এখন  বেহাল দশার সে সড়কে চলাচলে দুর্ভোগ কষ্ট হয়। তিনি আরো বলেন এক যুগের বেশী সময় আগে হাটদেলুয়া গ্রামে অনেকগুলো মিনি পোশাক  তৈরী কারখানা গড়ে উঠেছে। এখানকার তৈরী পোশাক বিভিন্ন এলাকার মোকাম বাজারে পাইকারি বেচা হয়। এক সময় হাটদেলুয়া গ্রামের বসতিরা সহজ উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা নিয়ে গর্ব করতেন। আর এখন বেহাল দশার সড়কে গ্রামবাসীরা কষ্টে চলাচল করেন ।  আপাতত চৌধুরীগাতি পুকুরের কোনা অবধি সড়ক পথ নতুন করে পাকা করা হলে গ্রামের বসতিদের চলাচলে সুবিধা হবে। আগের মতো সহজ উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে উঠবে। ইউপি সদস্য ( মেন্বর ) মোহন আলী বলেন হাটদেলুয়া গ্রামের সড়কের এমন দশা নিয়ে গ্রামবাসীদের পক্ষে বিভিন্ন বিভাগে বহুবার জানানো হলেও বেহাল দশার সমাধানে এ সড়ক সংস্কার কিংবা পুনঃনির্মাণ কাজের কিছুই হয়নি। 

এলজিইডির উপজেলা প্রকৌশলী এম শহিদুল্লাহ বলেন সড়কটি সংস্কার কিংবা পুনঃনির্মাণে  প্রকল্প করে বাস্তবায়নে জোরালো উদ্যোগ নেওয়া হবে।

সারাদেশ এর আরও সংবাদ

আরো পড়ুন