উল্লাপাড়ায় চামড়া আড়ত মালিকেরা মোকামের মহাজনদের অপেক্ষায়
সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় লবণে সংরক্ষণ করে রাখা কোরবানি পশু চামড়া বেচতে আড়ত মালিকেরা বিভিন্ন মোকামের মহাজনদের সাথে যোগাযোগ করছেন। শ্যামলীপাড়ায় দুটি আড়তে প্রায় ২২ শ কোরবানি পশু গরু চামড়া লবণে সংরক্ষণ করে রাখা হয়েছে। ঈদের দিন শ্যামলীপাড়ায় কোরবানি পশু চামড়া কম দামে কেনাবেচা হয়েছে।
উল্লাপাড়ার শ্যামলীপাড়া এলাকায় এবারে কোরবানি ঈদের দিন বড় ছোটো মিলে শত শত পিচ কোরবানি পশু চামড়া কেনাবেচা হয়েছে। প্রায় নিরানব্বই ভাগই গরু চামড়া বলে জানা গেছে। এর পাশাপাশি কিছু সংখ্যক ছাগল - ভেড়ার চামড়া পিচ প্রতি পাচ থেকে পনেরো টাকায় কেনাবেচা হয়েছে। ব্যবসায়িদের ধারণায় বড় ছোটো মিলে প্রায় ছয় হাজার পিচ চামড়া কেনাবেচা হয়েছে। যার প্রায় সবই গরু চামড়া বলে জানানো হয় । শ্যামলীপাড়ায় কোরবানি ঈদের দিন দুপুর বেলা থেকে আট থেকে দশ জন পশু চামড়া কেনেন। এরা বিভিন্ন দামে ফরিয়া ব্যবসায়িদের ও বিভিন্ন এলাকার মাদরাসা থেকে আনা চামড়া কিনেছেন। এদের মধ্যে দুজন বাদে বাকিরা মৌসুমী চামড়া ব্যবসায়ি ছিলেন বলে জানা গেছে । উল্লাপাড়ায় কোরবানি পশু গরু চামড়া কম দামে কেনাবেচা হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার ঈদের দিন শ্যামলীপাড়ায় কোরবানি গরু চামড়া ২০০ টাকা থেকে ৭০০ টাকা দামের মধ্যে কেনাবেচা হয়েছে বলে জানা গেছে। চামড়া ব্যবসায়ি মো. ইব্রাহিম শেষ বিকেল অবধি বড় ছোটো মিলে প্রায় সাড়ে চারশো চামড়া কিনেছিলেন। মৌসুমি ব্যবসায়ি ছাইদুর রহমান , কাইয়ুম আলী বিভিন্ন এলাকা থেকে ফরিয়া শ্রেণীর ব্যবসায়িদের কাছ থেকে আনা চামড়া কিনেছিলেন। মৌসুমি ব্যবসায়িরা ঈদের দিন রাতেই কেনা চামড়া কাচা ( লবণে সংরক্ষণ ছাড়া ) বড় মহাজনদের কাছে বেচেছেন ।এবারের মৌসুমে চামড়া আড়ত মালিক মো. মোহাব্বত আলী বড় ছোটো মিলে প্রায় এক হাজার পিচ গরু চামড়া কিনেছেন। নিজ আড়তে তিনি সারা বছরই চামড়া কেনাবেচা করেন। সরেজমিনে মো. মোহাব্বত আলীর আড়তে দেখা গেছে, আড়তের ভেতর ও বাইরে কয়েকটি গাদায় কেনা চামড়া লবণে সংরক্ষণ করে রেখেছেন। আরেক চামড়া ব্যবসায়ি রনজিত দাস বড় ছোটো মিলে প্রায় ১২ শ পিচ গরু চামড়া কিনে লবণে সংরক্ষণ করেছেন। প্রতিবেদককে ব্যবসায়িরা বলেন লবণে সংরক্ষণ করা চামড়া বেচতে ঢাকা ও নাটোরসহ বিভিন্ন মোকামের চামড়ার বড় ব্যবসায়িদের সাথে যোগাযোগ করা হচ্ছে। তাদের আশা বড় মোকামের বড় ব্যবসায়িরা চামড়া কিনতে তাদের আড়তে দিন কয়েকের মধ্যে আসবেন।
উপজেলার চড়ুইমুড়ি মাদরাসায় দান করা বড় ছোটো মিলে ৬৮ পিচ কোরবানি গরু চামড়া ৪৫০ টাকা দরে শ্যামলীপাড়ায় এক ব্যবসায়ির কাছে বেচেছেন। মাদরাসা পরিচালনা কমিটির সভাপতি মো. আতাব আলী প্রামাণিক বলেন মাদরাসার উন্নয়নে চামড়া বেচার টাকা খরচ করা হবে। উল্লাপাড়া সদর ইউনিয়নের নাগরৌহা হাফিজিয়া মাদরাসায় কোরবানি দাতাদের দান করা ১১৬ পিচ চামড়া বেচার টাকায় মাদরাসার উন্নয়ন করা হবে।
এবারে উপজেলা প্রশাসন থেকে উপজেলার ২৮ টি মাদরাসা ও এতিমখানায় এলাকার কোরবানি দাতাদের কাছ থেকে দানে পাওয়া কোরবানি পশু চামড়া সংরক্ষণে বিনামূল্যে ২০ মেট্রিক টন লবণ দেওয়া হয়েছিলো।
আপনার মতামত লিখুন