৫টি সম্মাননা অর্জন
আন্তর্জাতিক বায়োটেক সম্মেলনে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাফল্য
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক বায়োটেক সম্মেলনে অভাবনীয় সাফল্যের স্বাক্ষর রেখেছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) শিক্ষার্থীরা।
নেটওয়ার্ক অব ইয়াং বায়োটেকনোলজিস্টস বাংলাদেশ (NYBB) আয়োজিত ‘ফিউচার বায়োটেক সামিট’ এবং ‘৬ষ্ঠ আন্তর্জাতিক ইয়াং বায়োটেকনোলজিস্টস কংগ্রেস ২০২৬’-এ অংশগ্রহণ করে ইবি প্রতিনিধি দল ৪টি ব্যক্তিগত পুরস্কারসহ মর্যাদাপূর্ণ ‘বেস্ট ইভেন্ট অ্যাওয়ার্ড’ অর্জন করেছে।
শনিবার (২৫ এপ্রিল) ঢাবির নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে অনুষ্ঠিত এই সম্মেলনে ‘Omics and AI 2026’ ছিল এবারের প্রতিপাদ্য। দেশের ২৯টি বিশ্ববিদ্যালয়, গবেষণা প্রতিষ্ঠান ও স্টার্টআপ থেকে প্রায় ৭৫০ জন শিক্ষার্থী, গবেষক, তরুণ শিক্ষক ও উদ্যোক্তা এতে অংশ নেন।
সম্মেলনের শুরুতেই ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় চ্যাপ্টারকে তাদের উদ্ভাবনীমূলক ‘বায়োটেক স্কুলিং’ প্রোগ্রামের জন্য বিশেষ স্বীকৃতি দেওয়া হয়। NYBB কমিউনিটির মধ্যে সবচেয়ে প্রভাবশালী ও কার্যকর ইভেন্ট আয়োজনের স্বীকৃতিস্বরূপ ইবি চ্যাপ্টারকে ‘NYBB Best Event Award-2025’ প্রদান করা হয়। এই উদ্যোগটি স্কুল পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে জীবপ্রযুক্তি বিষয়ক সচেতনতা তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
পোস্টার প্রেজেন্টেশন ও ফটোগ্রাফি বিভাগে ইবির বায়োটেকনোলজি বিভাগের চারজন শিক্ষার্থী পুরস্কার লাভ করেন। পোস্টার প্রেজেন্টেশনে বায়োইনফরমেটিক্স ক্যাটাগরিতে পুরস্কৃত হন ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী সাব্বির আহমেদ। মেডিকেল মাইক্রোবায়োলজি ক্যাটাগরিতে পুরস্কার পান ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী শোভন শাহা এবং মো. আশিকুজ্জামান আন্তর। এছাড়া ফটোগ্রাফি প্রতিযোগিতা ‘বায়োলেন্স’ (BioLens)-এ একই সেশনের আমিন খান পুরস্কার অর্জন করেন।
দিনব্যাপী এই আয়োজনে প্লেনারি সেশন, পলিসি টক, গবেষণাপত্র প্রদর্শনী, থিসিস উপস্থাপনা, বিজনেস আইডিয়া কন্টেস্ট ও ভিডিও প্রদর্শনসহ বিভিন্ন কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনায় মাইক্রোবিয়াল জিনোমিক্স, মানব জেনেটিক্স, প্রিসিশন মেডিসিন ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক বায়োটেকনোলজির মতো সমসাময়িক বিষয়গুলো উঠে আসে। অস্ট্রেলিয়া, কোরিয়া, চীনসহ বিভিন্ন দেশের আন্তর্জাতিক গবেষক ও বিশেষজ্ঞরাও সম্মেলনে অংশগ্রহণ করেন।
উদ্বোধনী অধিবেশনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (প্রশাসন) প্রফেসর ড. সায়েমা হক বিদিশা। সমাপনী অধিবেশনে প্রধান অতিথি ছিলেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আব্দুল আউয়াল মিন্টু। তিনি বায়োটেকনোলজি বিষয়ক ব্যবসা বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় অর্থ সহায়তা দেওয়ার ইচ্ছাও ব্যক্ত করেন।
সম্মেলনে গবেষণায় অবদানের জন্য অ্যাওয়ার্ড অব এক্সিলেন্স প্রদান করা হয় ৯ জন তরুণ জীবপ্রযুক্তিবিদকে এবং সেরা শিক্ষার্থী নির্বাচিত হন ৫ জন। আয়োজকরা মনে করেন, এই সম্মেলন বাংলাদেশের বায়োটেকনোলজি খাতে নতুন গবেষণা দিগন্ত উন্মোচন করেছে এবং দেশকে একটি উদীয়মান বৈশ্বিক বায়োটেক হাব হিসেবে প্রতিষ্ঠার পথে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
আপনার মতামত লিখুন