হাসপাতাল নাকি গ্যারেজ
মণিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মোটরসাইকেলের দখলদারিত্বে চরম দুর্ভোগ
সরেজমিনে দেখা গেছে, হাসপাতালের গুরুত্বপূর্ণ জায়গাগুলোতে অবাধে মোটরসাইকেল পার্কিং করা হচ্ছে। এতে রোগী ও স্বজনদের চলাচল প্রায় অচল হয়ে পড়েছে।
যেখানে রোগীদের চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত হওয়ার কথা, সেই যশোরের মণিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এখন যেন সম্পূর্ণভাবে মোটরসাইকেলের গ্যারেজে পরিণত হয়েছে। হাসপাতালের ভেতর, জরুরি বিভাগের সামনে, এমনকি আউটডোর পর্যন্ত দখল করে রাখা হয়েছে অসংখ্য মোটরসাইকেল-দেখে বোঝার উপায় নেই এটি একটি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান, নাকি পার্কিং স্ট্যান্ড!
সরেজমিনে দেখা গেছে, হাসপাতালের গুরুত্বপূর্ণ জায়গাগুলোতে অবাধে মোটরসাইকেল পার্কিং করা হচ্ছে। এতে রোগী ও স্বজনদের চলাচল প্রায় অচল হয়ে পড়েছে। সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো-জরুরি বিভাগে যাওয়ার পথ পর্যন্ত বাধাগ্রস্ত হচ্ছে, যা যেকোনো সময় প্রাণঘাতী পরিস্থিতির সৃষ্টি করতে পারে। ক্ষোভ প্রকাশ করে এক রোগীর স্বজন বলেন, “রোগী নিয়ে হাসপাতালে ঢুকতেই যুদ্ধ করতে হয়। বাইকের ভিড়ে হাঁটার জায়গা নেই-এটা কোনো হাসপাতাল হতে পারে না!”আরেকজন বলেন, “এভাবে চলতে থাকলে একদিন বড় দুর্ঘটনা ঘটবে, তখন দায় নেবে কে?”
স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, এটি শুধুমাত্র অব্যবস্থাপনা নয়, বরং দায়িত্বে অবহেলার স্পষ্ট উদাহরণ। কর্তৃপক্ষের নীরবতা ও উদাসীনতায় হাসপাতালটি কার্যত বেহাল অবস্থায় পৌঁছেছে। নিয়ম-নীতি না থাকায় যে যার মতো করে হাসপাতাল চত্বরকে পার্কিং জোন হিসেবে ব্যবহার করছে। দীর্ঘদিন ধরে এমন নৈরাজ্য চললেও সংশ্লিষ্টদের কোনো কার্যকর উদ্যোগ চোখে পড়েনি। ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে। এ বিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বক্তব্য জানতে চাইলেও তারা এড়িয়ে যান, যা আরও প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
এদিকে এলাকাবাসী দ্রুত এই অব্যবস্থাপনার অবসান চেয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তাদের দাবি-হাসপাতালকে গ্যারেজমুক্ত করে রোগীবান্ধব পরিবেশ ফিরিয়ে আনা হোক, নয়তো এর দায়ভার সংশ্লিষ্টদেরই নিতে হবে।
সাব্বির হাসান
আপনার মতামত লিখুন